• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৭ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২০ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

বিজয়নগরে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে মানিক মিয়ার পরিবার


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২:২৯ পিএম
নিরাপত্তাহীনতায় মানিক মিয়ার পরিবার
নিরাপত্তাহীনতায় মানিক মিয়া

বিজয়নগর প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা বিজয়নগর উপজেলার কাশিনগর গ্রামে গত ৯ ডিসেম্বর আনুমানিক রাত ১টায় বিজিবি ও মাদক চোরা কারবারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উপজেলার কাশিনগরে বিজিবি ও মাদক চোরা কারবারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় সিংগারবিল বাজার পরিচালনা কমিটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোঃ মানিক মিয়া কে জড়িত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ ও  বানোয়াট তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রচার করছে।

মানিক মিয়ার পরিবার ঢাকানিউজ২৪.কমকে জানান, বিজিবি ও মাদক চোরাকারবারিদের সংঘর্ষের ঘটনার সাথে মানিক মিয়া জড়িত নয়।

গত ১০ ডিসেম্বর বিজিবি সুবেদার মোঃ জামাল মিয়া কর্তৃক বিজয়নগর থানায় যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তাতে মানিক নামের যে তিন (৩) জনকে আসামী করা হয়েছে সে আসামীরা হচ্ছে  ১৮ নং আসামী মানিক মিয়া (২২) পিতাঃ সাইদ মিয়া কাশিনগর, ২১নং আসামী মানিক মিয়া (২৭) পিতাঃ রহিম বক্স, কাশিনগর, বিজয়নগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ৩১ নং আসামী মানিক মিয়া (৩১) পিতাঃ জানু মিয়া, কাশিনগর, বিজয়নগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

ঘটনায় বিজয়নগর থানায় যে মামলা দায়ের করা হয়েছে এ মামলায় মানিক মিয়া (৪০) পিতা, ফুল মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে আসামী করা হয়নি তথাপিও এলাকার স্বার্থান্বেষী একটি মহল মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগের  মাধ্যমে অপপ্রচারসহ তাকে রীতিমত হেনস্তা করছে।

এ বিষয়ে মানিক মিয়ার পরিবার বলেন, মানিক মিয়া কখনো কোনো সময় মাদক চোরাকারবারির সাথে জড়িত ছিলনা। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকের কোন মামলা নেই। সে কোন সময় বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ও ছিল না।

সমাজের কিছু কুচক্রি লোক মানিক মিয়াকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে হেনস্তা করার জন্য তার নামে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে ফেসবুক ও কিছু অনলাইন ভুয়া নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রচার করছে।

ঘটনার প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়ে মানিক মিয়ার পরিবার  উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত যে বা যারা রয়েছে সুষ্ঠু তদন্তসহ তাদের সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মানিক মিয়ার পরিবার জানায়, গত ৯ ডিসেম্বর আনুমানিক রাত ১টা সময় বিজয়নগর উপজেলার কাশিনগর  এলাকায় সিংগারবিল বিওপি ক্যাম্প এর টহলরত সদস্যদের সাথে মাদক চোরাকারবারিদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উপস্থিত দুইজন বিজিবি সদস্য গুরুতর আহত হয়। আহত বিজিবি সদস্যদের মোহাম্মদ রাজ্জাক মিয়ার বাড়িতে নিয়ে দ্রূূত প্রাথমিকভাবে আহত স্থানে পট্টি বাঁধার চেষ্টা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সিঙ্গারবিল বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাৎক্ষণিক দোষীদের আটকের অভিযান শুরু হয়।

অভিযান চলাকালিন সময়ে বিজিবি সদস্যরা নাসির মিয়ার বাড়িতে গিয়ে ভাংচুর করাসহ যাদেরকে সামনে পেয়েছে তাদেরকেই লাঠি পেটা করেছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

এলাকার সাধারণ মানুষের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে মানিক মিয়া ও তার ভাই হানিফ মিয়া ঘুম থেকে উঠে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। গিয়ে দেখে বিজিবি লাঠি দিয়ে আঘাতের পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছে।

মানিক মিয়া তার পরিচয় দিয়ে উপস্থিত বিজিবি সদস্যদের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, আপনারা এখান থেকে চলে যান, আমাদের সদস্য আহত হয়েছে আমরা যাকে পাব তাদেরকে ধরে নিয়ে যাব"। একথা শুনে মানিক মিয়া ও তার ভাই হানিফ মিয়া বাড়ীতে চলে যায়।

ঘটনার সময় মানিক মিয়ার বাড়ি থেকে বের হওয়ার দৃশ্য, বাড়ীতে ফিরে আসার সময় বিজিবি সদস্যরা পিছনে পিছনে উনার বাড়িতে এসেছে এমন দৃশ্য নিজেদের সিসি ক্যামেরায় ফুটেজ সংগ্রহীত আছে বলেও তথ্য দেন মানিক মিয়ার পরিবার।

বাড়ীতে ফিরে এসে মানিক মিয়া সিংগারবিল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট  ফজলুল হক কে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ করার পর ফজলুল হক ঘটনাস্থলে এসে বিস্তারিত শুনেন এবং বিজিবি কমান্ডারের সাথে ঘটনা সম্পর্কে ফোনে কথা বলেন।

১০ ডিসেম্বর সকালে বিজিবি সদস্য কর্তৃক কাশিনগর গ্রামে চলে সাঁড়াশী অভিযান। এমতাবস্থায় ভয়ে আতংকিত হয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যায় মানিক মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন।

১০ ডিসেম্বর রাতে দুষ্কৃতকারীরা মানিক মিয়ার বাড়ির সামনে থাকা দুটি সিসি ক্যামেরা ভেঙে নিয়ে যায় এবং ১৩ ডিসেম্বরে ১২/১৪ জন বিজিবি ও পুলিশ সদস্য মানিক মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে বলে যে মানিক মিয়া কোথায়?  মানিক মিয়াকে না পেলে আমরা আপনাদের ঘর-বাড়ি তালা লাগিয়ে দিব বলে ভয়-ভীতি দেখিয়ে চলে যায়।

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তার পরিবারের শিশু ও মহিলারা। প্রশাসন যেখানে মানবাধিকার রক্ষা করার কথা সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মানিক মিয়ার পরিবার।

এলাকার স্থানীয় ব্যক্তি বর্গের সাথে কথা বলে জানা যায় বিজিবি ও মাদক চোরা কারবারিরা তাদের নিজস্ব ব্যবসায়ী হিসাব নিয়ে মারামারি হয়েছে। যারা সাধারন জনগন আছি আমরা কেন এর কবলে পড়ব? এর খেসারত কি আমাদের দিতে হবে? আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ চোরাকারবারি তথা আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এলাকাবাসীর দাবি, মানবাধিকার রক্ষাসহ  নিরপরাধ/সাধারন মানুষকে যেন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত না করে তাদেরকে সম্পূর্ণ  নিরাপত্তা দিয়ে চোরাকারবারি তথা উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত সকলের শাস্তি দেওয়া হয়।

মানিক মিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে উপস্থিত স্থনীয় লোকজন বলেন, মানিক মিয়া ঘটনার সাথে জড়িত নয়, তথাপিও কোন একটি চক্র মানিক মিয়াকে হেস্ত-নেস্ত করেই চলেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ মির্জা মোহাম্মদ হাসানের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে সাংবাদিকদের তিনি জানান, পরবর্তীতে এজাহার সংশোধন করে মানিক মিয়া (৪০), পিতা ঃ ফুলু মিয়াকে  উক্ত ঘটনায় আসামী করা হয়। এজাহারের সংশোধনি কপি চাইলে তিনি সংশোধনি কপি দিতে নারাজ প্রকাশ করেন।

অপরদিকে বিজিবি কমান্ডার মোঃ জামাল মিয়ার সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে মানিক মিয়ার বিষয়ে মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,  আমি এব্যপারে কিছু বলতে পারবনা বলে ফোন কেটে দেন।

এ ঘটনায় উনচল্লিশ জন কে আসামী ও ২০/৩০ জনকে গং করে সুবেদার জামাল মিয়া বিজয়নগর থানায় ১০ ডিসেম্বর  ১৪৩/১৮৬/৩৩২/৩৩৩/৩০৭/৩৫৩ ও ৪২৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

ঢাকানিউজ২৪.কম / মোঃ জায়েদুর রহমান/কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image