• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ৩০ জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

মিঠামইন-ইটনায় আরও ২০টি গ্রাম প্লাবিত, বানভাসীদের পাশে এম, পি


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২:১৭ পিএম
মিঠামইন-ইটনায় আরও প্লাবিত
মিঠামইন-ইটনায় বন্যা পরিস্থিতি

মিঠামইন প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ: মিঠামইন ও ইটনা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশঃ অবনতি হচ্ছে। গত ২০ই জুন সোমবার বিকাল থেকে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে মিঠামইন ও ইটনার বিভিন্ন গ্রাম।মিঠামইন উপজেলার ঢাকী, গোপদীঘি,কাটখাল,বৈরাটি ও ঘাগড়া ইউনিয়নে নতুন করে আরও অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এবারের বন্যায় বিগত ১০ বছরের পানির রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। আগামীতে  ১৯৭৪, ১১৯৮৮, ২০০৪, ২০২২ সনের মত বন্যার বিষয়টি মাথায় রেখে আশ্রয়ণ প্রকল্প হাতে নেওয়ার দাবি উঠেছে। মিঠামইন উপজেলার সদরের ঘোড়াউএা নদীর তীরে আবদুল হামিদ পল্লীতে পানি ডুকে পড়েছে। আশ্রায়ণ প্রকল্পের অধিনে গৃহহীনদের জন্য ১৫৯ টি ঘর রয়েছে। সেখানে প্রতিটি ঘরে এসকল পরিবার বাস করছেন।

হামিদ পল্লী নীচু এলাকায় পানি ডুকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিবারের সদস্যরা আশ্রয় হীন হয়ে পড়েছে। অন্য দিকে ইটনা উপজেলার বেতেগা,শহিলা,শিবির,মৃগা,জয়সিদ্ধি,বুড়িবাড়ী,দাসপাড়া এলাকার বিভিন্ন লোকজন পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।

ইটনায় গবাদিপশু, কুকুর ও মানুষ একসাথে বসবাস করার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কেহ কেহ ধান চাউল রক্ষা করার আশায় ঘরে মাচা তৈরি করে বসবাস করছে।মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেন পুরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের চার পাশে পানি ডুকে পড়েছে। বালির বস্তা ও জাল ফেলে ভিতরে প্রায় আধ কিলোমিটার দীর্ঘ লেকের মাছ আটকানোর চেষ্টা করছে।

গতকাল ২১ ই জুন মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রিসোর্টের চার পাশে পানি ডুকে পড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে রিসোর্টের লেকের লক্ষ লক্ষ টাকার মাছের ক্ষতি হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানান।পানি বন্দী মানুষরা দিনের চেয়ে রাতের বেলায় বেশি আতঙ্কে রয়েছেন। তারা জানান, দিনের বেলায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় চলে আসছে। কিন্তু রাত পোহালেই দেখা যায়, উঠানে পানি চলে আসছে। ঘাগড়া ইউনিয়নের হাবিবপুর, নতুন পাড়া,শাবাস পুর,শরীফ পুর,সুলতান পুর,চমক পুরের খাল পাড় হাটীর লোকজন একেবারেই উচ্ছেদ হয়ে পড়েছে।

খাল পাড় হাটীর রতন মিয়া জানান, মহা বিপদে আছি ঘরের মধ্যে পানি, রান্না করার কোনো ব্যবস্থা নেই। রাতের বেলায় বাজার থেকে চিড়া গুর নিয়ে খেয়েছি। অন্য দিকে বাড়ি ঘর রক্ষার জন্য চড়া মূল্যে বাঁশ, খালী বস্তা, বালি কিনতে হচ্ছে। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে ১৫০ টাকার বাঁশ ৪০০ টাকায় ও ১০ টাকার খালী বস্তা ৩০ টাকায় বিক্রি করছে বলে বানভাসীদের অভিযোগ। গ্রামের পাশে হাওরের মাঝখানে যেসকল বাড়ি ১০ বছরের মধ্যে তৈরি হচ্ছে সে সকল বাড়ি এবারের বন্যায় উচ্ছেদ হয়ে পড়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়াও মানুষ জন উচু জায়গায় ধান চাল গবাদিপশু নিয়ে খুব কষ্টে দিন যাপন করছেন। স্থানীয় প্রশাসন বানভাসী মানুষের আশ্রয় কেন্দ্রে আসার জন্য বলা হলেও কোনো কোনো পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে না এসে আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে চলে আসছে।

মিঠামইন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৬শত পরিবারের বাড়িতে পানি উঠেছে।এর মধ্যে খাটখাল, বৈরাটি ও ঢাকী ইউনিয়নে বেশি ক্ষতি  হয়েছে। এ উপজেলায় ৭৯ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৬শত পরিবার কে আশ্রয় কেন্দ্রে জায়গা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সার্বক্ষণিক তদারকি করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে মেসেজ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ইটনা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাফিসা আক্তার জাহান, উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে ১১৫ টি গ্রামে ১৬৬৫০ পরিবারে ১ লক্ষ লোক পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭ হাজার পরিবার কে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

ইটনায় ৪৯ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত ২০ই জুন সোমবার বিকালে মিঠামইন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোল্লা খলিলুর রহমান সহ কর্মকর্তাদের নিয়ে গোপদীঘি,ঢাকী,চানপুর সহ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যার্তদের মাঝে এাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। ২শত পরিবার কে এসকল এাণ সামগ্রী দেওয়া হয়।এাণ সামগ্রীর মধ্যে চাল ১০ কেজি,ঢাল ১ কেজি,লবণ ১কেজি,চিনি ১ কেজি, মসল্লা ৩ পেকেট,ভোজ্য তৈল ১ লিটার পরিমাণ দেওয়া হয়। এসময় ঢাকী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান ও গোপদীঘি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আকাশ উপস্থিত ছিলেন। পর্যাক্রমে প্রত্যেক ক্ষতি গ্রস্ত ইউনিয়নে এাণ সামগ্রী দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ -৪ আসনের এম,পি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক ইটনা ও মিঠামইনে বন্যায় ক্ষতি গ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।তিনি ২০ই জুন সোমবার বিকালে ইটনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহেশচন্দ্র সরকারি মডেল কলেজ ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ কলেজে বন্যায় ক্ষতি গ্রস্থ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার ও এাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃনুরুজ্জামান, ইটনা উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাফিসা আক্তার সহ মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদসের চেয়ারম্যান গণ উপস্থিত ছিলেন।

এম, পি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেছেন,বন্যার মত প্রাকৃতিক দূর্যোগ আমাদের পিছু ছাড়ছে না। আমাদের ধৈর্যের সাথে দূর্যোগের মোকাবেলা করতে হবে। ভেঙে পড়লে চলবে না। বন্যা এখনও শেষ হয় নি। সৃষ্টি কর্তাই আমাদের রক্ষা করবেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলেন আপনারা প্রতিটি গ্রামে গ্রামে গিয়ে বন্যার্তদের পাশে দাড়াবেন।প্রতিটি ইউনিয়নের দূর্যোগ ব্যবস্হাপনা কমিটি কে কাজে লাগাবেন। রাজনৈতিক নেতাদের বলেন,আপনরা ঘরে বসে না থেকে বন্যার্তদের পাশে দাড়ান,যার যার অবস্থান থেকে তাদের সহযোগিতা করেন।তিনি সকলকে সর্তক থাকার আহ্বান জানান। ৩ উপজেলায় তিনি বন্যায় কবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন।

ঢাকানিউজ২৪.কম / বিজয়কর রতন/কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image