• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২০ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

শাবিপ্রবি'র শংঙ্কা উদ্বেগের হলো অবসান


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:৩৪ পিএম
সিলেটে বইছে স্বস্তির হাওয়া
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল

সিলেট প্রতিনিধি: এক মানবিক বিপর্যয় থেকে উত্তরণে সিলেটে বইছে স্বস্তির হাওয়া । শংঙ্কা উদ্বেগের হলো অবসান। অবেশেষে ৭দিন পর ‘আমরণ অনশন’ ভাঙলেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ শিক্ষার্থী।

৭ দিন পর বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ও তাঁর স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক শিক্ষার্থীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান। তবে অনশন ভাঙলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বুধবার ভোরে শিক্ষার্থীরা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এলেই অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপস্থিতিতে সকালে একযোগে অনশন ভাঙবেন তারা। তার আগে জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন হকের সঙ্গে আলোচনার সময় এই প্রতিশ্রুতি দেন ক্যাম্পাসে অনশনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে আসেন শাবির সাবেক অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী (সাবেক অধ্যাপক) ইয়াসমিন হক।

আন্দোলনত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার সময় জাফর ইকবাল জানান, উচ্চ পর্যায়ে তার আলোচনা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। এ কারণেই তিনি ক্যাম্পাসে ছুটে এসেছেন। অনশন না ভাঙিয়ে তিনি ফিরে যাবেন না।

জাফর ইকবালের অনুরোধে অবশেষে অনশন ভাঙতে রাজি হন শিক্ষার্থীরা। শাবিপ্রবির বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনে গত ১৩ জানুয়ারি দিনগত মধ্যরাতে ওই হলের ছাত্রীরা রাস্তায় নামেন। সেই থেকে এ আন্দোলনের সূচনা। এরপর (১৫ জানুয়ারি) আন্দোলনরতদের ওপর ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে নতুন মাত্রা পায় আন্দোলন।

হলের পুরো প্রভোস্ট কমিটির অপসারণ, অব্যবস্থপনা দূর, ছাত্রলীগের হামলার বিচার চেয়ে ১৬ জানুয়ারি শাবির আরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে শামিল হন। সেদিন উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাকে মুক্ত করতে গেলে পুলিশকে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা।

এতে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ হয় এবং এতে পুলিশ ও শিক্ষকসহ অর্ধশতাধিক আহত হন।আন্দোলন আরো বেগবান হয়ে উঠে   একদফায় পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভিসি ফরিদ পদত্যাগ না করলে ছাত্রছাত্রীরা আমরণ অনশনের ঘোষনা দিয়ে ভিসির বাসভবনের সামনে অনশন শুরু করেন।


এর আগে আন্দোলনের শুরুতে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নির্দেশে শিক্ষামন্ত্রী  ডা.দিপু মনির অনুরোধে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের এক নেতা, সিলেট মহানগরের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবী ন্যয্য বলে আন্দোলননের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আন্দোলন প্রত্যাহারের দাবী জানান এবং শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে  আলোচনার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ছাত্ররা তা প্রত্যাখ্যান করে।

কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ আন্দোলনের বিপক্ষে চলে যায়। এটাকে জামাত বিএনপির মদদপুষ্ট বলে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার মনোভাব সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এবং দলীয় নেতাদের বক্তব্য থেকে বেরিয়ে আসতে থাকে। প্রচার পায় ভিসির সমর্থন বাড়ছে। সুকৌশলে সেটা প্রচার  করা হলেও মনোবল দুর্বল করতে পারেনি শিক্ষার্থীদের।

তারা  একের পর এক অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে থাকে কারো কারো শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সরকার আন্দোলনকারীদের প্রতি রুঢ় হতে থাকে অবস্থান এমন অবস্থায় প্রত্যাহার করা হয় এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক সাপোর্ট টিম। আন্দোলনরতদের রান্নার কাজে নিয়োজিত সাপোর্টারদের।

আর্থিক সহায়তাকারী সাবেক ছাত্রদের  গ্রেফতার করা হয়। যেসকল সিমে আর্থিক সহয়তা আসতো সেগুলো অকার্যকর করে দেওয়া হয় ফলে এক মানবিক সংকট তৈরী হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

এমতাবস্থায় অভিভাবক সচেতন নাগরিক সমাজ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।অবশেষে মৃত্যুর হাত থেকে প্রিয় ছাত্রদের ফিরিয়ে নিতে এলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রিয় শিশুতোষ সাইন্সফিকশন উপন্যাসিক লেখক, সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ।

ঢাকানিউজ২৪.কম / আ ম ন জামান চৌধুরী/কেএন

শিক্ষা বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image