• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

পরিস্থিতি উত্তরণে প্রয়োজন আঞ্চলিক সহযোগিতা: প্রধানমন্ত্রী


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৫৫ এএম
পরিস্থিতি উত্তরণে প্রয়োজন  সহযোগিতা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিউজ ডেস্ক : উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা দেশগুলোকে টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী সহযোগিতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো দরকার বলে মত দিয়েছেন তিনি।

বেসামরিক ও সামরিক কূটনৈতিক চ্যানেলে পারস্পরিক যোগাযোগ, সংলাপ ও বৈঠক পথটিকে আরও প্রশস্ত করেছে।

যেকোনো সংঘাত বা সংকট বিশ্বের প্রতিটি দেশকে প্রভাবিত করে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এসব পরিস্থিতি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ঢাকার হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে সোমবার সকালে ৪৬তম ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মিস ম্যানেজমেন্ট সেমিনারে (আইপিএএমএস) অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।

২৭ দেশের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ৪৬তম আইপিএএমএস।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন বদলে যাচ্ছে এবং জটিলতর হচ্ছে। যেকোনো সংঘাত বা সংকট বিশ্বের প্রতিটি দেশকে প্রভাবিত করে। আর তা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।’

ওই সময় রোহিঙ্গা সংকটকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ১২ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের নিজেদের দুর্দশা ছাড়াও এখানে তাদের দীর্ঘ উপস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।’

উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা বিশ্বের প্রায় সব দেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা দেশগুলোকে টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী সহযোগিতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বেসামরিক ও সামরিক কূটনৈতিক চ্যানেলে পারস্পরিক যোগাযোগ, সংলাপ ও বৈঠক পথটিকে আরও প্রশস্ত করেছে।

আইপিএএমএসকে বহুজাতিক প্ল্যাটফর্ম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির মধ্য দিয়ে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখতে পারে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বন্ধুত্ব, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইপিএএমএস সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমি মনে করি, এই ফোরাম বাস্তবসম্মত উপায়ে বহুপক্ষীয় সমস্যা সমাধানে অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে।’

একটি দেশের সেনাবাহিনীকে ওই দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রধান হাতিয়ার বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শান্তি সহায়তা কার্যক্রমে অবদানের জন্য বাংলাদেশ আজ বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। জাতিসংঘ মিশনে কিংবা বিশ্বের যেকোনো স্থানে দেশ ও বিশ্বশান্তির জন্য সবসময় প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

শেখ হাসিনা বলেন, এটি আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা যে, বাংলাদেশ সবসময় বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করবে। জাতিসংঘের অধীনে বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের সেনাবাহিনী প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা এটি অব্যাহত রাখতে চাই।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির কথাও উঠে আসে শেখ হাসিনার বক্তব্যে। তিনি বলেন, “বিশেষ করে দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জেন্ডার সমতা, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনার মতো অর্জনগুলো বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ নামে পরিচিত করেছে। আমাদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে, কারণ আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি এবং আমরা আমাদের জনগণের সম্মিলিত শক্তির ওপর নির্ভর করি।’

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

জাতীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image