• ঢাকা
  • শনিবার, ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৪ ফেরুয়ারী, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

পাখির কলকাকলিতে মূখর প্রকৃতি হাওরাঞ্চালে চলছে অতিথী পাখি নিধন


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০২:০৬ পিএম
হাওরাঞ্চালে চলছে অতিথী পাখি নিধন
পাখির কলকাকলিতে মূখর প্রকৃতি

বিজয় কর রতন, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) : নভেম্বর মাসের মাঝা-মাঝি সময় থেকে পাহাড়, সাগর, নদী আর বনে ঘেরা অপরূপ বাংলাদেশের প্রকৃতিতে নতুন মাত্র যোগ করে অতিথী পাখি। এ সময় হাজার হাজার পাখির ডাকা-ডাকিতে মূখরিত হয়ে উঠে হাওরাঞ্চলের সবুজ প্রান্তর, জলাশয়। বিলের পানিতে হাঁস জাতীয় পাখির অবিরত ডুব সাতাঁর লুকোচুরির দূশ্য মানুষকে কাছে টানে। হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এ দেশে অস্থায়ী নিড়ে সাময়িক বাসা বাঁধে এসকল অতিথী পাখি। গরম পড়া শুরু করলেই এরা আবার ফিরে যায় জন্ম ভূমিতে। 

শীত এলেই উত্তরমেরু, সাইবেরিয়া, চীন, নেপাল, তিব্বতের লাদাখ ও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকৈ হাজারও অতিথী পাখি হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশর ভূ-খন্ডে প্রবেশ করে। বর্তমানে বাংলাদেশের ১৭৬ প্রজাতির অথিতি পাখির দেখা মেলে। এসকল পাখির মধ্যে অতি পরিচিত অথিতি পাখি নর্দান পিনটেইল , এছাড়া স্বচ্ছ পানির বালি হাস, কয়রা চকাচকি, কার্কিও, বোনোহাসঁ, ছোট শারস, হেরণ, নিশাচর, ডুবুরী পাখি, কাঁদাখোচা, গায়করেনু, রাজসরালী, টিকিহাস, পাতি কুট, মরচেরংবুতি, কালো মাথা, গাংচিল. সরালী, কালোকোট, গ্যাড ওয়াল, কমন পোচার্ড, ফিস ইগল উলে­খযোগ্য। 

অতিথী পাখিরা আমাদের পরিবেশের জন্য পরম উপকারী বন্ধু। এরা বিভিন্ন জলাসয় ও ফসলী জমিতে অবস্থান করে ক্ষতিকারক পোঁকা-মাকর ও জলজ উদ্ভিদ খেয়ে আমাদের উপকার করে। অতিথী পাখির মল মাছের প্রিয় খাবার। জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উদ্যোগে ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসের সুনামগঞ্জের হাকালিকি হাওর ও কিশোরগঞ্জের বড় হাওরে জল ও চরপাখির একটি জরীপ করা হয়। এ জরীপে ৪১ প্রজাতির প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৬১ অতিথী পাখিল সন্ধান মেলে। যাহা ২০০৮ সনের তুলনায় আড়াই গুনবেশী। 

বর্তমান ২০২২ আরও বেশী সংখ্যাক পাখির আগমনের কথা বলেছেন। মার্চ-এপ্রিলে দিকে শীত প্রধান দেশে বরফ গলতে শুরু করে। এসময় অতিথী পাখিরাও নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। হাজর হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়েও এসকল পাখি আপন ঠিকানা ছিনতে ভূল করে না। অধিকাংশ  পাখির পালকে সীল দেওয়া থাকে। এসকল পাখি সংরক্ষনের কোন ব্যবস্থা নেই। যে পরিমান পাখি হাওরাঞ্চলে দেখা যায়, ফেরার সময় অর্ধেক পাখির দেখা মেলেনি। 

কারণ এক শ্রেণীর শিকারী বিভিন্ন কায়দায় জাল ফেলে হাওরের এসকল পাখি ধরে এনে বাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করছে। একটি পাখির মূল্যে ১হাজার থেকে ১৫শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আইন প্রয়োগ কারী সংস্থার কর্মকর্তা অথিতি পাখি খাওয়ার জন্য ব্যাকুল। এর জন্য পাখি নিধণ বন্ধ হচ্ছে না। 

অষ্টগ্রাম উপজেলার ভাতশালা গ্রামের নয়ন মিয়া জানান, দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ তিনি কিশোরগঞ্জের বড় হাওরে অতিথী পাখি শিকার করে বিক্রি করে আসছেন। এসকল পাখি জাল ফেলে শিকারের পর অষ্টগ্রাম সদর, মিঠামইন বাজার, ঘাগড়া বাজার সহ বিভিন্ন হাট বাজারের বিক্রি করে থাকেন। এ বছর বর্তমানে পাখির সংখ্যা খুব বেশী। এছাড়াও অষ্টগ্রামে ও মিঠামইনে আরও অর্ধশতাধিক পাখি শিকারী রয়েছে। আইন প্রয়োগ কারী সংস্থার লোকজন তাদের নিকট থেকে পাখি ক্রয় করেন। 

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কলিন্দ্র নাথ গোলদার জানান, পাখি শিকার করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। অতিথী পাখি নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষন আইন রয়েছে। এক জন শিকারীকে আইনের আওতায় এনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা সহ শাস্তির বিধান রয়েছে এ আইনে।

মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষন আদেশ ১৯৭৪ এর (৫) ধারা ও ২৫ ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে। এ আইন অমান্যকারীকে সর্বোচ্চ শাস্তির ১ বছরের জেল ও ১ হাজার টাকা জরিমানা বিধান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অতিথী পাখি নিধন বন্ধের জন্য সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image