• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

জিনপিংয়ের হাতেই থাকছে চীন


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৩৬ এএম
বিরল বিক্ষোভ হয়েছে বেইজিংয়ে নাগরিকরা
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

নিউজ ডেস্ক:  অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির টানা অবনতি, শূন্য কভিড নীতির বাধা, আবাসন খাতে ধস, ইউক্রেন সংকটে রাশিয়ার প্রতি অব্যাহত সমর্থন আর তাইওয়ান ইস্যুতে পশ্চিমা চোখ রাঙানি- সব মিলিয়ে মহা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করছে চীন। এমনই বাস্তবতায় রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়েন আনমেন স্কয়ারের গ্রেট হলে চলছে সপ্তাহব্যাপী চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কংগ্রেস। ক্ষমতাসীন দলের ঐতিহাসিক এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এটা নিশ্চিত যে, কংগ্রেসে দলের নেতা হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে তিনিই জয়ী হবেন। তাঁর হাতেই থাকছে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির শাসন, যা মাও সেতুংয়ের পর চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর শাসক হিসেবে তাঁর অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে। অবশ্য, কংগ্রেস ঘিরে জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে বিরল বিক্ষোভ হয়েছে বেইজিংয়ে নাগরিকরা।

কংগ্রেসের শুরুতে দেওয়া ভাষণে জিনপিং আগামী ৫ বছরের জন্য বিশাল পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের রূপরেখা তুলে ধরবেন। জিনপিংয়ের আরও ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব অনুমোদন হতে পারে সেখানে। ৬৯ বছর বয়সী জিনপিং দীর্ঘ সময়, এমনকি সারাজীবন ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করছেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। চীন নানামুখী সংকট পার করলেও কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জিনপিং ক্ষমতায় তাঁর অবস্থানকে সুসংহত করতে প্রস্তুত।

কংগ্রেসে অংশ নিচ্ছেন পার্টির প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রতিনিধি। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হবেন। আরও ১৭০ জন হবেন বিকল্প সদস্য। কেন্দ্রীয় কমিটি দলের পলিটব্যুরোর ২৫ জন সদস্য নির্বাচন করবে। তারপর পলিটব্যুরোর সদস্যরা পলিটব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়োগ করবেন। বর্তমানে পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটির সদস্য সাতজন, যার মধ্যে রয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রেসিডেন্ট জিনপিং নিজেও।

সম্মেলনকে ঘিরে বেইজিংয়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জোরদার করা হয়েছে করোনা পরীক্ষা। শুধু তাই নয়, পার্শ্ববর্তী হুবেই প্রদেশের স্টিল মিলগুলোর মাধ্যমে যাতে বায়ুদূষণ না ঘটে, সেটিও নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এক দশক আগে চীনের ক্ষমতায় আসেন জিনপিং। দলের পর্যবেক্ষকদের মূল পদে কাদের রাখা হবে এবং এই নিয়োগের বিষয়ে নানা প্রশ্নও রয়েছে। তবুও দেশের নিরাপত্তা, স্ব্বনির্ভরতা, অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, দৃঢ় কূটনীতি, শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা এবং তাইওয়ান দখল করাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে দেশটির অধিকাংশ মানুষ। ফলে রাজনীতির এসব বিতর্কিত নীতি নিয়ে খুব কম সংখ্যক মানুষই প্রশ্ন তোলেন।

প্রত্যাশা: ২০১৭ সালে দলটির সর্বশেষ কংগ্রেসে জিনপিংয়ের উদ্বোধনী বক্তব্য ব্যাপক আশাব্যঞ্জক ছিল, যাতে ২০৫০ সালের মধ্যে চীনকে একটি শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার ওই বক্তব্যে তিনি ৭০ বার 'সংস্কার' শব্দটির উল্লেখ করেন। কিন্তু তারপর থেকে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হতে থাকে। করোনার আঘাতসহ নানাভাবে চীনের অর্থনীতি নিম্নমুখী, পশ্চিমাদের সঙ্গে বেইজিংয়ের সংকট তীব্রতর হয়েছে। তবুও এই কংগ্রেস ঘিরে শূন্য-কভিড নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী ও হতাশ বহু চীনা নাগরিক ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় বুক বেঁধেছেন। কিন্তু সেই আশা পূরণ হবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

তাঁরা বলছেন, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার নীতিতে কোনো তাৎক্ষণিক বা নাটকীয় পরিবর্তন আনতে পারে না এই কংগ্রেস। চীনে প্রায় ৫.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চলতি বছর প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ শতাংশের কাছাকাছি। ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত করোনার বিধিনিষেধ প্রত্যাহার কিংবা দেশটির আবাসন খাতের যে ধস- সে বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো নীতির পরিবর্তন দেখছেন না বিশ্লেষকরা। কারণ, শূন্য-কভিড নীতিতে অটল চীন।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image