• ঢাকা
  • সোমবার, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৫ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

ভাষা সৈনিক ছালেহা বেগমের মরোনত্তর সন্মাননা প্রদান


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০১ জুন, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:০৩ পিএম
  ছালেহা বেগমের সন্তানদের হাতে মরোনত্তোর
সালেহা বেগমের মরোনত্তর সন্মাননা প্রদান

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে বিজয় ৭১ সাংকৃতিক পরিষদের আয়োজনে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, ভাষাসৈনিক ছালেহা বেগমকে নিয়ে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা লায়ন এটি এম আমিরুল গনি খোকন এর সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠিত হয় । অনুষ্ঠানে  ভাষাসৈনিক ছালেহা বেগমের সন্তানদের হাতে মরোনত্তোর সম্মাননা পদক তুলে দেন অনুষ্প্রঠানের প্রধান অতিথী বিচারপতি হাসমত আলী ও বিশেষ অতিথী সাবেক নির্বাচন কমিশন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এম সাখাওয়াত হোসেন ।

বিচারপতি হাসমত আলী বলেন ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় জীবনে অনন্য গৌরব উজ্জল অধ্যায় । ভাষা সৈনিকরা জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান ।ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে এ দেশের মানুষের মধ্যে যে চেতনার বীজ রুপন হয়েছিল তার মাধ্যমেই আমরা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা পেয়েছি । বর্তমান সরকার আন্দোলন সংগ্রামে শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন শোষনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এম সাখাওয়াত হোসেন আরো বলেন ভাষা আন্দোলনে ছালেহা বেগমসহ অনেকই জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করে গেছেন । তাদের ত্যাগের বিনিময়ে সমাজের সর্বস্হরে বাংলাভাষা প্রতিষ্ঠিত ।ভাষা আন্দোলনে রফিক,জব্বার,সালামসহ অনেক্ই শহীদ হয়েছে । দেশ মাতৃকার জন্য যারা আন্দোলন সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন তাদে মর্যাদা প্রদান করা উচিত । তারা জাতীর সাহশী ও অনুকরনীয় সন্তান ।

অনুষ্ঠানে ভাষা সৈনিক ছালেহা বেগম সন্তানেরা বলেন ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারী ময়মনসিংহ মুসলিম গার্লস হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছালেহা বেগম অন্যান্য ছাত্রীদের সাথে ক্লাস বর্জন করে এবং ঢাকায় গুলি চালানো প্রতিবাদে ছাত্রজনতার সাথে তিনিও রাজপথে মানব বন্ধন ও মিছিলে নেমে আসে এবং আন্দোলন সংগ্রামের সাথে একাত্বতা পোষন করেন ।২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে পরদিন ঢাকার ন্যায় সারাদেশের কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে একাত্ততা ঘোষনার অংশ হিসাবে ময়মনসিংহ মুসলিম গার্লস স্কুলে জাতীয় পতাকার স্থলে ছালেহা বেগম তুলে দেন কালো পতাকা কিন্তু ত্যকালীন পাকিস্তানী সামরিক সরকারের নির্দেশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের তত্বাবধানে স্কুল কর্তৃপক্ষ মেধাবী ছাত্রী ছালেহা বেগম তিন বৎসরের জন্য বহিষ্কার করেন ।পরবর্তীতে অনেক চেষ্ঠা করেও পাকিস্তানের কোন স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখা পড়া করার সুযোগ পায়নি তিনি । পরিবারের মান সন্মানের কথা চিন্তা করে এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্হ কোরআন শরিফ ছুয়ে শপথ করানো কারনে বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয় ।

বিভিন্ন বক্তারা বলেন স্বাধীন দেশে পাকিস্তানী সরকারের অনেক অন্যায় শাস্তিমূলক নির্দেশ ও কালাকানন বাতিল হয়েছে এবং হচ্ছে কিন্তু অদ্যাবধি ছালেহা বেগমের উপর বহিঃষ্কারাদেশ এখনো বিদ্যমান । স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলেও নানান অজুহাতে বহিঃষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হচ্ছে না ।

বক্তারা বলেন আমরা মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট ভাষাসৈনিক ছালেহা বেগমের বহিঃষ্কারাদেশ (মরোনত্তোর) অনতিবিলম্বে বাতিল করে যথাযোগ্য মর্যাদায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের জন্য জোড় দাবী জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে সৈয়দ শাকিল আহাদ, লতিফুল বারী হামিম. সৌমিত্র দেব, লায়ন আবুল কালাম আজাদ, মাহফুজুর রহমান মাসুন, মো. মজিানুর রহমান মিলনসহ বিশিষ্ঠ ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন । 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কৃতি ব্যক্তিত্বকে ক্রেষ্ট প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আরো পড়ুন

banner image
banner image