• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০১ অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে হবে: রব


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৫৫ পিএম
ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ
জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর উপলক্ষ্যে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব গণমাধ্যমে নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময় ভারত সফরে যাচ্ছেন যখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্যহীন অবস্থা দেশবাসীসহ সারা বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।

ইতোমধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আত্মমর্যাদাহীন ও অকূটনীতিপ্রবণ বক্তব্যে জনগণ শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন দেশের সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যখন পার্শ্ববর্তী দেশের সরকারকে অনুরোধ করা হয় তখন বোঝা যায় দেশটির পররাষ্ট্র নীতি আর যাই হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক  আশা-আকাঙ্ক্ষার উপর প্রতিষ্ঠিত নয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা, অপর রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামের প্রতি সমর্থন প্রদান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ পরিহার করা। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বহির্বিশ্বের সঙ্গে কৌশলগত মিত্রতা বজায় রাখাও আধুনিক পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম লক্ষ্য।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, বৈশ্বিক সংকট এবং করোনা উত্তর ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। বিশ্ব রাজনীতিতে 'বন্ধুসুলভ' অথবা 'শত্রুভাবাপন্ন' খেলায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে দুরদর্শী, উইন-উইন ভিত্তিক ও ভারসাম্যমূলক।

প্রতিবেশী ভারতের সাথে আমাদের উভয়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদিসহ সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক লক্ষ্য অর্জনে বন্ধুত্বের মেরুকরণ অবশ্যই একমুখী না হয়ে দ্বিমুখী হবে। ট্রানজিট ও তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনার  অবিচ্ছেদ্য অধিকারকে সুরক্ষা এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধ করাই হবে ভারতের সাথে আমাদের মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্কের ইতিবাচক পদক্ষেপ।

এছাড়াও, ভূ-রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্ক এর আওতায় বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, ভারত (পশ্চিমবাংলা বিহার মেঘালয় আসাম ত্রিপুরা মনিপুর অরুণাচল নাগাল্যান্ড ও মিজোরাম), মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চল এবং চীনের কুনমিং প্রদেশ নিয়ে ‘উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট’ গড়ে তুলতে হবে। গোটা উপমহাদেশে এ ধরনের চারটি 'উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট' গঠিত হতে পারে।

রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে এটা অর্জন করা মোটেই অসম্ভব নয়। সে লক্ষ্যে গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার ও মানবাধিকার এর বিপরীতে অবস্থান না নিয়ে জনগণের অভিপ্রায় ভিত্তিক রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে না পারলে দেশের অভ্যন্তরে ও ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হবে যা আমাদের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকিতে ফেলবে। এটা কারো কাম্য হতে পারে না।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

রাজনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image