• ঢাকা
  • বুধবার, ২৬ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৮ ফেরুয়ারী, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

'খেলা হবে' রাজনৈতিক স্লোগান হতে পারে না: তোফায়েল


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২:১৩ পিএম
'খেলা হবে' একটি রাজনৈতিক স্লোগান
তোফায়েল আহমেদ এমপি

নিউজ ডেস্ক:  সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনের বহুল আলোচিত স্লোগান- 'খেলা হবে'। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে। রাজনীতিকরাও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের 'খেলা হবে' স্লোগান দেওয়ার পর থেকেই প্রসঙ্গটি আলোচনার পুরোভাগে চলে আসে। তাঁর ভাষায়, 'খেলা হবে' একটি রাজনৈতিক স্লোগান।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার কথা বলা যেতে পারে। অন্য কিছু নয়। 'খেলা হবে' রাজনৈতিক স্লোগান হতে পারে না।

তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেছেন, 'আক্রমণাত্মক নয়- মার্জিত স্লোগান চাই। রাজনীতিতে সম্প্রীতি থাকুক। আমাদের সেইভাবেই চলা উচিত। তাই আমাদের স্লোগান অবশ্যই মার্জিত হতে হবে। কোনোভাবেই আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়া উচিত নয়।'

রাজনৈতিক দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীর ছবি দিয়ে ঢাউস আকারের ব্যানারের পাশাপাশি পোস্টার-ফেস্টুন শোভা পায়।

'আপনাদের ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে এই ধরনের প্রবণতা ছিল কিনা'- এমন প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, 'ওই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো পোস্টার-ফেস্টুন ছাপাত না। অতো টাকাও ছিল না। আমরা হাতেই পোস্টার-ফেস্টুন লিখতাম। নিজেরাই দেয়ালে দেয়ালে লাগাতাম।'

এ প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ বলেন, '১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রাক্কালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা এক পর্যায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেওয়ার এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। ওই সময়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর গাড়িতে করে শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও আমি বিভিন্ন জায়গায় আমাদের হাতে লেখা পোস্টার লাগাতাম। পুলিশ আমাদের তাড়া করত। আমরা পালিয়ে যেতাম। আবার পুলিশের চোখ এড়িয়ে পোস্টার লাগাতাম। এটিই ছিল ওই সময়কার রাজনীতি।'

ভোলা-১ আসনের এমপি তোফায়েল আহমেদ দ্বীপজেলা ভোলার প্রধান রাজনৈতিক নেতা। এই জেলার সাত উপজেলায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস। সুযোগ পেলেই নির্বাচনী এলাকায় ছুটে যান তিনি। বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে ব্যানার, পোস্টার-ফেস্টুন প্রকাশ করা হয়। কিন্তু সেখানে তাঁর ছবি থাকে না। তাঁকে স্বাগত জানাতে কর্মীদের বহন করা মোটরসাইকেলের বহরও দেখা যায় না। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ছবি দিতে হবে কেন? মানুষ তো আমাকে চেনে। তাই হোন্ডারও দরকার পড়ে না।'

তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, 'আমরা আদর্শের জন্য রাজনীতি করি। আমরাই জেনারেল আইয়ুব খানকে পদত্যাগে বাধ্য করেছি। আমরাই মুক্ত করেছি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে। আমার বয়স তখন ২৫ বছর ৪ মাস। আমার সভাপতিত্বে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের বৈঠক থেকে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে আমি বঙ্গবন্ধু হিসেবে ঘোষণা করেছি। ওই সময়ে ছাত্রলীগ, মতিয়া চৌধুরী ও রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন ছাত্র ইউনিয়ন এবং জাতীয় ছাত্র ফেডারেশনের (একাংশ) যৌথ বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বেলায় আমরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতাম। কিন্তু বৈঠকের পর সব কিছু ভুলে গিয়ে একসঙ্গেই পথ চলতাম। সেদিন এখন আর নেই।'

সূত্র: সমকাল ।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

রাজনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image