• ঢাকা
  • রবিবার, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৭ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

নিত্যপণ্য ও সার আমদানি বাধাগ্রস্ত করা যাবে না


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০১:০০ পিএম
আমদানি ও রপ্তানি আয়ের মধ্যে
নিত্যপণ্য ও খাদ্যপণ্য আমদানি

নিউজ ডেস্ক:  নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সার আমদানি কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও গম, চাল, তেল, চিনির মতো খাদ্যপণ্য আমদানিতে ডলারের সংস্থান করতে হবে। খাদ্য সরবরাহে যেন কোনো সংকট তৈরি না হয় তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন নির্দেশ দিয়েছেন । গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যে শুল্ক্ক কমানো, বিলাসবহুল পণ্যে প্রয়োজনে শুল্ক্ক আরও বাড়ানো এবং রেমিট্যান্স বাড়াতে হুন্ডি কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ডলারের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি, সরকারের ভর্তুকি, ঋণের সুদহারে সীমা, আইএমএফের ঋণের শর্তসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য মন্দা ও দুর্ভিক্ষের প্রভাব যাতে না পড়ে সে জন্য সতর্ক থাকার তাগিদ দিচ্ছেন। বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশ্ব পরিস্থিতির কিছু প্রভাব ইতোমধ্যে দেশে পড়েছে। বর্তমানে মূল্যস্ম্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স কমে যাচ্ছে। 

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাবিবুর রহমান, শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা, খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন এনডিসি, অর্থ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন প্রমুখ।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, ডলার সংকটের কারণে কিছু ব্যাংক এলসি খুলছে না। বেসরকারি খাতের এলসির ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে বেশি। অথচ তেল, ডাল, চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সবই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আমদানি হয়। আর গম ও চালের বেশিরভাগই আমদানি করে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন যে, খাদ্যপণ্য আমদানি করতে গিয়ে কোনো ব্যাংক প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ করতে না পারলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যস্থতায় অন্য ব্যাংক থেকে সরবরাহ করতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, ডলার সংকটের কারণে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় যেন কোনো সংকট তৈরি না হয় তা নিশ্চিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামীতে কোনো দুর্যোগে যাতে বড় সমস্যা তৈরি না হয় সেজন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে সরকারি দপ্তরের যথাযথ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে খাদ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ গরিব মানুষের জন্য চলমান সরকারি কার্যক্রমে যাতে কোনো অনিয়ম না হয় তা কঠোরভাবে তদারক করতে বলেছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, আমদানি ও রপ্তানি আয়ের মধ্যে পার্থক্য কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিলাসবহুল দ্রব্যের আমদানি কমাতে শতভাগ এলসি মার্জিন নির্ধারণ ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী জানুয়ারি থেকে ডলার বাজার স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করেন গভর্নর। বৈঠকে ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার সারসংক্ষেপ এবং বিদ্যমান ৯ শতাংশ সুদহারের সীমা তুলে দিলে অর্থনীতিতে তার প্রভাব কী হতে পারে তা নিয়ে আরও পর্যালোচনার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

অর্থনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image