• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৩ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

ভারতের নৃত্যশিল্পী ড.পম্পি পালের ওড়িশি নৃত্যের কর্মশালা ও সাক্ষাতকার


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:১৪ পিএম
ভারতের অন্যতম নৃত্যশিল্পী ড.পম্পি পালের
ওড়িশি নৃত্যের কর্মশালা 

বিশেষ প্রতিবেদক : দেশের অন্যতম ওড়িশি নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওড়িশী অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার, চট্টগ্রাম এর পরিচালক প্রমা অবন্তী মহোদয়ার আমন্ত্রণে ড.পম্পি পাল ওই প্রতিষ্ঠানের ১২০ জন শিক্ষার্থীকে নৃত্যের কর্মশালা প্রদান করছেন।

ড.পম্পি পাল বালিতে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন (আইসিসিআর)-এর হয়ে সেখানকার ভারতীয় কনস্যুলুটের আওতাধীন স্বামী বিবেকানন্দ কালচারাল সেন্টারে ২০১৯-২০২২-এর গোড়া পর্যন্ত নৃত্য শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করেছেন। সেখানে বালিনিজ নাচের সঙ্গে ওডিশি নাচের আঙ্গিকের বহু সাদৃশ্য তাঁর নজরে আসে। সংস্পর্শে আসেন ইন্দোনেশিয়ার প্রখ্যাত নৃত্য গবেষক পদ্মশ্রী ই বায়ান দিবিয়ার। ঐতিহ্যশালী ওড়িশী নৃত্য যে অনেকটাই বালিনিজের দ্বারা প্রভাবিত এমনটাই মনে করেন ওই নৃত্য শিল্পী।

আধুনিক নাচের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করা পম্পির জলপাইগুড়িতে কল্পদীপ নামে একটি নাচ শেখানোর স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানেই প্রায় ৬০ জন ছেলেমেয়েকে তালিম দেন ওডিশির ওপর। একটি দল গঠন করেছেন যাদের নিয়ে সুযোগ পেলেই দেশের নানা প্রান্তে ছুটে বেড়ান, এখানকার কচিকাঁচাদের প্রতিভা প্রদর্শনে। ২০২২-এর নভেম্বরে বালিতে আয়োজিত জি-২০ শীর্ষ সন্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গিয়েছিলেন। সেইসময় ইন্দোনেশিয়ায় ভারতীয় বংশদ্ভুতদের একটি অনুষ্ঠানের নৃত্য প্রদর্শনীতে কোরিওগ্রাফির জন্য ড.পম্পি পাল ও তার দলকে বেছে নেয় ভারতীয় কনস্যুলেট।

ঢাকা নিউজ ২৪ ডট কমের এর বিশেষ প্রতিবেদকের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে ভারতের অন্যতম নৃত্যশিল্পী ড.পম্পি পাল বলেন- -

প্রশ্ন: বাংলাদেশে এসে কেমন লাগছে? বাংলাদেশের আতিথিয়তা সম্পর্কে আপনার অনুভূতি কী?

ড.পম্পি পাল:  খুব ভালো লাগছে,এর আগেও একবার ২০০৮ সালে আসা হয়েছিল।বাংলাদেশের আতিথিয়তা সম্পর্কে আমি সবসময় বলি, আমরা পশ্চিমবঙ্গবাসী বাংলাদেশের আতিথিয়তার কাছে কিছুই নই।

প্রশ্ন:  নৃত্য নিয়ে বাংলাদেশের নবীন শিল্পীদের উদ্দ্যেশ্যে কিছু যদি বলেন ।

ড.পম্পি পাল:  আমার খুব ভালো লাগে, বেশ কিছু বছর আমি রবীন্দ্রভারতীতে চাকরি করেছি, সেসময় বেশ কিছু বাংলাদেশী যাঁরা নৃত্যশিক্ষা গ্রহণ করতে রবীন্দ্রভারতীতে পড়তে গিয়েছিলেন তাঁদের একটা জিনিস লক্ষ্য করতাম তাঁদের মধ্যে শেখার অদম্য আগ্রহ ছিল, খুব ভালো করে শিখতে চেয়েছে। এখনো অনেকের সাথে যোগাযোগ আছে। আমার সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় আমার দেশের নাচকে তাঁরা এত সুন্দর করে আপন করে নিয়েছে এবং বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।ভবিষ্যতেও তাঁরা ভীষণ ভালো কাজ করবে শুধু বাংলাদেশে কিংবা ভারতে নয় বিশ্বের যেকোন জায়গায় তাঁরা তাঁদের কলাকে পরিবেশন করার সুযোগ পাবে এবং খুব ভালোভাবে আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতিকে এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

প্রশ্ন:  কীভাবে নৃত্যের জগতে আসা? ছোটবেলার অভিজ্ঞতা যদি শেয়ার করেন ?

ড.পম্পি পাল: নৃত্য জগতে আসা খুব অদ্ভুতভাবে। সাড়ে চার বছর বয়সে নাচের জগতে আসা এখন নৃত্যশিল্পী হয়ে উঠেছি। আমরা যারা বাঙালিরা যারা পশ্চিমবঙ্গে রয়েছি ছোট থেকেই একটা অভ্যাস রয়েছে যে আমরা কিছু নাচ শিখে থাকি, সেটা বাড়ির কারো কাছ থেকে বা কোন নাচের স্কুল থেকে শিখে থাকি অনেক সময় দেখে-দেখে করতে থাকি, কারণ এটা আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে রয়েছে।ঠিক সেইভাবে আমি আমার ছোট মাসীর কাছে দুটো নাচ শিখেছিলাম, বাবা মনে করেছিলেন যে আমার নাচের প্রতি আগ্রহ রয়েছে, নাচ শেখানো যেতে পারে । আমি আমার গুরু যাঁর কাছে কত্থক শিখেছি, আমি ১৩ বছর কত্থক শিখেছি গুরু রুনু ভট্টাচার্যের কাছ থেকে।ওনার স্কুল গীতিনৃত্যম এ বাবা আমাকে ভর্তি করিয়ে দেন এবং নাচ নিয়েই জীবন চলছে।

প্রশ্ন:  বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ওড়িশী নৃত্যশিল্পী ও দেশের অন্যতম ওড়িশী নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওড়িশী অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার, চট্টগ্রাম সম্পর্কে কিছু বলুন  ?

ড.পম্পি পাল:  সবার আগে প্রমা অবন্তী দিদির কথা বলবো। আমি ওড়িশী নৃত্যগুরু গুরু পৌষালী মুখার্জির ছাত্রী এবং দিদিও ওনার ছাত্রী। সে জায়গা থেকে দিদি আমার গুরু বোন এখন যে আমি চট্টগ্রামে এসেছি আমার গুরুর আদেশেই আসা এবং এখানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নাচ শেখানো। বেশ কয়েক দিন ধরে ওড়িশী নৃত্যের কর্মশালা চলছে এবং যেটা দেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেখার ভীষণ আগ্রহ। এত সুন্দর করে অল্প সময়ের মধ্যে কঠিন আইটেম শেখানো হচ্ছে, তারা খুব সহজে তুলে নিতে পারছে।এতে এটাই প্রমাণ হয় প্রমা দি ও প্রমা দি'র শিষ্যারা খুব যত্ন নিয়ে মেয়েদের তৈরি করছেন।নাচ শেখাটা তো শুধু শারীরিক অঙ্গভঙ্গি নয়, সেটার সঙ্গে সংস্কৃতিটাকে শেখা,জানা, বোঝা এবং সম্পূর্ণভাবে তাতে নিমজ্জিত হয়ে যাওয়া, মেয়েদের মধ্যে সেই নিমজ্জিত হওয়ার ব্যাপারটা একদম স্পষ্টভাবে দেখলাম। প্রমা দি বরাবরই খুব ভালো কাজ করে।ভারতের বিভিন্ন ওড়িশী নৃত্য উৎসবেও চট্টগ্রামের এই প্রতিষ্ঠানটি বেশ সুনাম অর্জন করেছে তাঁদের কাজের মধ্যে দিয়ে।ওড়িশী উৎসবে অনুষ্ঠান করতে পারাটাও আমাদের জন্য ভাগ্যের বিষয়, সেরকম জায়গায় এ প্রতিষ্ঠানের মেয়েরা অনুষ্ঠান করে সত্যি তাঁরা মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছে।এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা তাঁরা ওড়িশী নৃত্যটাকে বিশ্বদরবারে আরও সমাদৃত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রশ্ন:  বাংলাদেশে ওড়িশী নৃত্যের ভবিষ্যত নিয়ে কিছু বলুন ?

ড.পম্পি পাল:  আমি ভীষণ আশাবাদী।কারণ যেটুকু দেখলাম, আমার গুরু পৌষালী মুখার্জী উনি এর আগেও এসছেন এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।উনি আমাকে অবগত করেছেন এখানে ছেলেমেয়েদের খুব যত্ন করে শেখানো হয়, তারা ভীষণ আগ্রহী এবং আমি তার প্রমাণ পেলাম এবং আমি নিশ্চিতভাবে বলছি অদূর ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানের মেয়েরা বিশ্বদরবারে নিজেদের নামকে আরও উজ্জ্বল করবে।

প্রশ্ন:  কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ নিয়ে আপনার মতামত কী ?

ড.পম্পি পাল:  প্রায় ১০০ রও অধিক শিক্ষার্থী কর্মশালায় স্বতস্ফুর্তভাবে অংশ নিয়েছে।যেকোন কর্মশালায় এত জন শিক্ষার্থী পাওয়া নি:সন্দেহে বড় ব্যাপার। কারণ, যখন আমরা এমন কোন আয়োজন করি, শিক্ষার্থীদের আমরা অবগত করি, কিন্তু তারা তাতে অংশগ্রহণ করবে কিনা সেটা তাদের নিজস্ব মতামত।এখনকার সময়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনাসহ নানা শৈল্পিক কাজে ব্যস্ত থাকে, খেলাধুলা,স্কুল, পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকে।তার মাঝে তারা এসে কর্মশালায় ২-৩ ঘন্টা সময় বের করছে, সেটা অনেক বড় ব্যাপার।কারণ, এটা তাদের নিয়মিত ক্লাসের অংশ নয়।সাধুবাদ জানাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ছুটির সময়েও তারা কিছু শেখার জন্য উদগ্রীব।নাচ করে শিক্ষার্থীরা আনন্দ পাচ্ছে।

প্রশ্ন:  বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে ৪০০রও অধিক শিক্ষার্থী নৃত্যের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, আপনার অনুভূতি কী ?

ড.পম্পি পাল:  ভীষণ বড় ব্যাপার। আমরা যারা নাচ শেখাই ভাবি যে একটু বেশি শিক্ষার্থী হলে ভালো হয়। কোন শিল্পকলাকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা ভীষণ দরকার। এই যে এত মেয়েরা শিখছে, এটা একধরনের বড় সহযোগিতা। প্রতিটা শিক্ষার্থীই একটা প্রতিষ্ঠানের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সাথে শারীরিক ও মানসিকভাবে আধ্যাত্মিক একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়।এতগুলো ছেলেমেয়ে ওড়িশী শিখছে তা নয় রবীন্দ্র নৃত্যও শিখছে, নি:সন্দেহে আনন্দের।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image