• ঢাকা
  • বুধবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৫ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

উগ্র সাম্প্রদায়িকতা রুখে দিবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের মন্ত্র "জয় বাংলা"


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ ফেরুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৩১ পিএম
উগ্রবাদীতাকে উসকে দেয়ার নামান্তর মাত্র
joy bangla logo

শাহরিয়ার শহীদ শুভ

 

সাম্প্রদায়িকতা রুখতে সাম্প্রদায়িক পন্থায় প্রতিবাদ করাটা উগ্রবাদীতাকে উসকে দেয়ার নামান্তর মাত্র। তেমনি সাম্প্রদায়িকতার উপাদান সমূহের বিরুদ্ধে সার্বজনীন সচেতনতা সৃষ্টির সর্বাত্বক প্রয়াসই হল অসাম্প্রদায়িক চেতনা।

সম্প্রতি ভারতের কর্ণাটক এর ঘটনার প্রতিবাদে আমাদের আশেপাশের বিভিন্ন ধর্মের সচেতন জনগোষ্ঠী সম্মিলিত, সার্বজনীন ভাবে মতামত প্রদান করেন যে এই দেশে মৌলবাদ বা ধর্মান্ধতার কোন স্হান নাই।

পৃথিবীতে সর্বকালে দুটো ধর্ম চলমান।একটা ভালো মানুষের ধর্ম, আরেকটা হল খারাপ মানুষের ধর্ম। প্রচলিত যেকোন ধর্মমতের অনুসারী একটা পথ বেছে নিতে পারে। প্রচলিত ধর্মের মুখোশের আড়ালে যেকোন অসৎ মানুষ তার খারাপ চিন্তার প্রতিফলিত রুপ চরিতার্থ করার স্বার্থে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্হিতিশীলতা সৃষ্টি করার পায়তারা করতে পারেন। সচেতন যে কোন নাগরিকগণ তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে একতাবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র জয়বাংলা স্লাগানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন।

কর্ণাটকে একদল উগ্রবাদী, ধর্মীয় রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি চরিত্রার্থ করার স্বার্থে স্কুলে মেয়েদের হিজাব পড়া নিষেধ করে দিয়েছে। প্রশাসনের তালে তাল মিলিয়ে ছাত্ররাও স্কুল-কলেজে "জয় শ্রী রাম" স্লোগান দিচ্ছে, যা অসাম্প্রদায়িক গনতান্ত্রিক চেতনা বিকাশের জন্য হুমকিস্বরুপ! আবার আরেকদল নিজেদের অধিকার আদায়ের নিমিত্তে "আল্লাহু আকবার" স্লোগান দিচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজেদের চর্চা, সংস্কৃতির ধারা প্রবাহমান রাখতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কর্ণাটকের ঘটনাটি ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রবাহমানতার উদাহরণ যা তাদের অভ্যন্তরীণ ও উপমহাদেশীয় রাজনীতিকে নেতিবাচক ভাবে প্রভাবিত করছে।

ঘটনাটা যদি ভারতে সীমাবদ্ধ থাকতো তাহলে হয়তো অন্য কোন দেশের নাগরিক হিসেবে এটা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করাটা প্রাসঙ্গিক থাকতো না! কিন্তু যেহেতু প্রতিবাদের জোয়ারে এবং স্রোত তীব্রভাবে বাংলাদেশ প্রভাবিত হওয়ায় আমাদের দেশীয় রাজনীতিতে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।

আমাদের দেশীয় অনেক তরুণ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে "আল্লাহু আকবার" পোষ্ট করে ট্রেন্ড করছে, যা মূলত সাম্প্রদায়িকতার প্রতিবাদে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দেয়া। যেমনটা বলা যায় আগুন নেভাতে পানির বদলে কেরোসিন/পেট্রোল ঢেলে দেওয়া!

আমাদের সার্বজনীন, সম্মিলিত, সংগ্রামী, উদ্দীপক স্লোগান একটাই সেটা হলো "জয় বাংলা"। জয় বাংলাতেই নিহীত আছে বাঙালি হিন্দুদের "দূর্গা মায়ের জয়", বাঙালি খ্রিস্টানের "Hail Jesus", বাঙালি বৌদ্ধের "বৌদ্ধং শরণং গচ্ছামি" এবং বাঙালি মুসলমানের "আল্লাহু আকবার"।

পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে যেকোন নির্যাতিত, নিপীড়িত, অবহেলিত, অত্যাচারিত, বঞ্চিত-শোষিত মানুষের পাশে দাড়াতে একজন বাঙালির একটাই স্লোগান। আর সেটা হলো "জয় বাংলা"। কেননা কোন নির্দিষ্ট সাম্প্রদায়িক স্লোগানকে প্রমোট করে সাম্প্রদায়িকতাকে রুখা যাবে না, বরং রুখতে গিয়ে সেটাকে আরো উসকে দেয়া হবে।

১৯৫২, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০ এর আন্দোলন সংগ্রাম এবং হালের যেকোন অধিকার আদায়ের সার্বজনীন স্লোগান হলো 'জয় বাংলা'। জয় বাংলা কোন দলীয় স্লোগান নয়, এটা বাঙালি জাতীয়তাবাদের ও স্বাধীনতার পক্ষের স্লোগান। বাংলার কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, রাজনীতিবীদ, বুদ্ধিজীবি, ব্যাবসায়ী, কর্মচারী-কর্মকতা, পেশাজীবি, ভবঘুরে, বাউন্ডুলে, আস্তিক, নাস্তিক সব শ্রেণীর,জাতের,মতের, পথের মানুষকে একতাবদ্ধ করতো "জয় বাংলা "

পৃথিবীর যেকোন দেশ যখন কোন জাতীয় সংকটে নিপতিত হয় বা পার্শ্ববর্তী কোন দেশে সংকটকালে জাতীয় অবস্হান নিশ্চিত করতে সে দেশ জাতীয় স্বার্থে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করে। আমাদের সংবিধানের ৩ ও ৪ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রভাষা, জাতীয় প্রতীক, জাতীয় পতাকার পাশাপাশি জাতীয় স্লোগান "জয় বাংলা" যোগ করাটা বহুকাল ধরে সময় ও প্রগতিশীলতার সমার্থক হয়ে দাড়িয়েছে । বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও নীতিনির্ধারকদের চেষ্টার প্রতিফলন হিসেবে। এখন হয়তো আমাদের সেই স্বপ্নের দিন খুব কাছাকাছি যেদিন গলা ছেড়ে জাতীয় স্লোগানে সুরের মূর্ছনা তুলে সাম্প্রদায়িক শক্তির হৃদয়ে ভয়ের কাঁপন জাগানো ঐকতান তুলতে পারবে। ২০০৭ এ খুনী খালেদা-তারেক গংদের আশীর্বাদপুষ্ট অবৈধ তত্বাবধায়ক সরকারকে গদিচ্যুত করা, যুদ্ধাপরাধ বিচারের দাবীতে সংগঠিত শাহবাগ আন্দোলন তার  সাম্প্রতিকতম প্রমাণ।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জাতীয় স্লোগান রয়েছে যেমন ভারতে "জয় হিন্দ", তেমনি আমরা যুক্ত্যরাজ্যে দেখতে পাই 'God save the king' ফ্রান্সে 'viva la france'.

স্লোগান রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে মানুষকে একসুরে, তালে, লয়ে বেধে দেয়! তাই যে কোন জাতির, দেশের ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত, আন্দোলন তার একটি সার্বজনীন স্লোগান থাকা উচিত, যা গলা মিলাবে, হৃদয় চিড়ে সুরধ্বনি তুলবে ওই দেশ, জাতি, রাষ্ট্রের প্রতিটা মানুষ!

সুতরাং সাম্প্রদায়িকতার আত্নঘাতী অনলকে রুখে দিতে কোন সাম্প্রদায়িক, জাতিগত, ধর্মগত, গোষ্ঠীগত বা দলীয় স্লোগান নয় বরং আমাদের থাকবে সার্বজনীন, সম্মিলিত আহ্বান মন্ত্র! জন লেননের ভাষায় বলতে চাই,

"You may say I am a dreamer
But I am not the only one
I hope someday you will join us
And the world will be as one "

প্রতিবাদ হোক সার্বজনীন, প্রতিবাদ হোক বাঙালির, প্রতিবাদ হোক বঙ্গবন্ধুর ভাষায়!
"জয় বাংলা "

লেখক: শাহরিয়ার শহীদ শুভ, ৪র্থ বর্ষের ছাত্র, অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগ,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

ঢাকানিউজ২৪.কম /

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image