• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৪ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ১৮ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধে নদীর ভূমিকা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১:০৮ এএম
তা ছিল মূলত: নদী দ্বারা বিভক্ত
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ রিভার টকিজ

নিউজ ডেস্ক:  ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম এর দূষণবিরোধী অ্যাডভোকেসি প্রকল্পের আয়োজনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে “মুক্তিযুদ্ধে নদীর ভূমিকা” শীর্ষক পঞ্চম নদী কথন অনুষ্ঠিত হয়। বালু নদীর তীরে কায়েতপাড়া বাজার, খিলগাঁও এলাকায় এই নদীকথন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দূষণবিরোধী একটি শক্তিশালী প্রচেষ্টা তৈরির উদ্দেশ্যে ইউএসএআইডি, এফসিডিও এবং কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় দূষণবিরোধী অ্যাডভোকেসি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভ (বিপিআই) এর অর্ন্তভুক্ত সংগঠন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ এবং স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) কে সাথে নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম গঠন করেছে।

 নদী দূষণ রোধে পরিচালিত রিভার টকি/নদী কথনে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক এবং ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভ এর নির্বাহী পরিচালক জনাব শরীফ জামিল এর সঞ্চালনায় মুক্তিযুদ্ধে নদীর ভূমিকা শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাপা ও বেন এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল আহসান খান, রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ, লেখক ও সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ, স্থানীয় নারী নেত্রী জান্নাতী আক্তার রুমা প্রমূখ।

এছাড়াও নদীদূষণ রোধে কাজ করেন এরকম স্থানীয় কমিউনিটির্ভিত্তিক সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেন।

নদী কথনে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, একটা দেশের সম্পদ হলো নদী আর আমরা সেই নদীকেই ধ্বংস করে ফেলছি। পরিকল্পনা যা হোক নদী পাড়ের মানুষকে যুক্ত করতে হবে। যুদ্ধ শেষ হয়নি। এই সংগ্রামকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, বাঁচিয়ে রাখতে হবে আমাদের নদীগুলোকে।

বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) এর অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ক এবং বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কামরুল আহসান খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে নদীর ভূমিকা অনেক। নদী আমার মা। আজকে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু নদী রক্ষা হচ্ছেনা। সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানিরা যখন

আমাদেরকে আক্রমণ করে তখন আমরা নদীকে ব্যবহার করেছি। নদী ভরাট করে আমরা উন্নয়ন চাইনা। আমরা নদী রক্ষার আন্দোলনে আছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে নদীকে রক্ষা করতেই হবে।

রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে যে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল তা ছিল মূলত: নদী দ্বারা বিভক্ত। ১০ নম্বর সেক্টর ছিল সমুদ্র বন্দর, নদী বন্দর আর নৌপথকে কেন্দ্র করে। যুদ্ধে সফলতা আসতে শুরু করে নৌকমান্ডো যখন অপারেশন শুরু করে। নদীভিত্তিক মোট ৫১০ টি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছিল, এর মধ্যে ৭৮ টি অপারেশন হয়েছিল নৌকমান্ডোদের, ১৯৯ টি রেলসেতুর উপর আর ২৩১ টি নদীর উপর ব্রিজ অপারেশন সম্পন্ন হয়েছিল।

লেখক ও সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ বলেন, আমাদের জীবনের সাথে ভীষণভাবে জড়িত নদীগুলো। সারাদেশে জালের মত বিছিয়ে আছে আমাদের নদীগুলো। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের শ্লোগান ছিল তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা। বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে নদী ছিল পরিচিত, কিন্তু পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে নদী পরিচিত ছিলনা। তাই তারা নৌযুদ্ধে এগুতে পারেনি খুব বেশি।

স্থানীয় নারী নেত্রী জান্নাতী আক্তার রুমা বলেন, নদীতে মিঠা পানি ছিল আর পানি ছিল স্বচ্ছ। আমরা এই বালু নদীর পানি খেতাম। নদীতে যখন ময়লা আসতে শুরু করে তখন আমরা বারোগ্রাম সমিতির মাধ্যমে আন্দোলন গড়ে তুলি।

কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের বাল্যকালে এই জায়গায় ছিল আমাদের সরকারি হাট। আমরা বাজার করতে আসতাম এই নদী দিয়ে। নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, এই এলাকায় শাক-সবজি পাওয়া যেত। উন্নয়নের বর্জ্য আমাদের নদীকে দূষিত করছে। পানিকে বিশুদ্ধ করানোর বন্দোবস্ত করা দরকার আর এর দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকেই।

মিডিয়া হাউজের প্রচলিত টক শো রেওয়াজের বিপরীতে ওয়াটারকিপার্স নদীর সংকটস্থলে গিয়ে অনুষ্ঠিত আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রিভার টকিজ’। ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ রিভার টকিজের আরো অনেক পর্ব আয়োজন করে নদীর বিভিন্ন রকম সমস্যা চিহ্নিত করে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে যাবে।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আবহাওয়া / পরিবেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image