• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১২ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২৫ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

কুমিল্লায় নানাহ সংকটে হাঁস-মুরগী ও গোবাদি পশুর খামার


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:০২ পিএম
অবৈধ ব্যবসার দৌরাত্বে সকল শ্রেণির খামারিরা
মুরগীর খামার

মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা:  কুমিল্লার লাকসাম, লালমাই, বরুড়া, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পারিবারিক পর্যায়ে যত্রতত্র ভাবে গড়ে উঠা উন্নত জাতের হাঁস, মুরগী ও গোবাদি পশুর খামার গুলোতে বর্তমানে সুষ্ঠ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে স্বাভাবিক উন্নয়ন চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং আর্থিক সংকটে পড়ে জেলা দক্ষিনাঞ্চলের ৫টি উপজেলার কয়েক’শ হাস-মুরগী ও গোবাদি পশু খামার বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

এমনকি উপজেলা পশু সম্পদ দপ্তর কর্মকর্তাদের দেউলিয়াত্ব এবং প্রয়োজনীয় সুষম খাদ্য ও আর্থিক সহায়তার অভাবসহ বিভিন্ন প্রতিকুলতার অভিযোগ রয়েছে । ফলে সরকারি দপ্তর কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতায় সরকার বছরে হারাচ্ছে কয়েক লক্ষ টাকার রাজস্ব আয়। এছাড়া হাটবাজারগুলোতে ভেজাল গো খাদ্য এবং মৎস্য-মুরগীর খাদ্যে ভেজাল তো আছেই।

পোল্ট্রি ও পশু খামারিদের একাধিক সূত্র জানায়, জেলা দক্ষিনাঞ্চলের ৫টি উপজেলায় স্থানীয় ভাবে পুষ্টিকর খাদ্য ডিম ও গোস্তের যোগান বৃদ্ধির পাশাপাশি নিম্নআয়ের পরিবারের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা অর্জনের লক্ষে সর্বত্র পারিবারিক পর্যায়ে বেশ কিছু হাঁস-মুরগীর খামার গড়ে উঠেছে।

সরকারী কর্মকর্তাদের নজরদারী ও খামারীদের বিনাসুদে ঋণ বিতরনের ব্যবস্হা না থাকায়, খাদ্য ও বিদ্যুৎতের মূলবৃদ্ধিসহ বাজারে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি ও করোনার কারনে মুরগীর দাম কমে যাওয়া এবং খাদ্য-ঔষধসহ আনুসাঙ্গিক সকল পন্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় মহাবিপাকে পড়েছে ওইসব দরিদ্র খামারীরা।

সূত্রগুলো আরও জানায়, জেলা দক্ষিনাঞ্চলের উপজেলাগুলোতে প্রায় ৫ শতাধিক খামার বন্ধের ঝুঁকি ও কয়েকশ শ্রমিক বেকার হওয়ায় আশংকা করছেন অনেকেই। ইতিমধ্যে অনেকগুলো খামার বন্ধ হয়েও গেছে। আবার অনেকেই স্বল্পদামে তাদের মুরগী বিক্রি করে পূঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন। আবার কেউ কেউ খাদ্য-ঔষধ বাকী কিনে মুরগী খামার গড়ে তুললেও লোকসানের মুখে পড়ে দেনার দায়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

উপজেলা গুলোর হাট-বাজারে ভেজাল ও নিম্নমানের পশু খাদ্য ও ফিড ব্যবসায়ীদের অবৈধ ব্যবসার দৌরাত্বে সকল শ্রেণির খামারিরা অনেকটাই আতংকিত অথচ এসবের দিকে উপজেলা পশু সম্পদ দপ্তর কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নিরব ভূমিকা নিয়ে এলাকার জনমনে নানাহ বির্তক উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের একাধিক সূত্র জানায়, জেলা দক্ষিনাঞ্চলের উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরগুলো সাইন বোর্ড সর্বস্থ হয়ে  দাঁড়িয়েছে। নানাহ সমস্যায় শিকারে পড়ে নিজেই এখন নানাহ রোগে আক্রান্ত। তবে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা ও দূর্নীতিতো আছেই। এছাড়া সু-চিকিৎসার অভাব রয়েছে প্রতিনিয়ত। গ্রামের মানুষগুলো রোগাক্রান্ত হাঁস, মোরগ ও গবাদি পশু নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছে।

ওই বিভাগের কর্মকর্তারা সরকারী চাকরীর পাশাপাশি হরেক রকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। সাধারন জনগণ দপ্তরে এসে হাস-মুরগীর বিভিন্ন রোগের ঔষধ পত্র টাকা ছাড়া মিলছে না এবং চিকিৎসা তো দূরের কথা অফিসে এসে কর্মকর্তাদের দেখাও পাওয়া যায় না।

আবার দপ্তরের কর্মকর্তাদের অনেকেই ২/৫ শত টাকার বিনিময়ে খামার মালিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা সেবার নামে ঔষধ পত্র বিক্রি ও নিজেদের প্রতিষ্ঠান থেকে হাঁস-মুরগীর খাদ্য ক্রয় করতে বাধ্য করছেন বলে দাবী ভোক্তভোগীদের।

এ ব্যাপারে জেলা-উপজেলা পশু সম্পদ দপ্তর কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে একাধিক বার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

কৃষি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image