• ঢাকা
  • সোমবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৩ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

হাসপাতালে প্রাণ ফিরেছে


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৫৫ পিএম
মানসম্মত সুচিকিৎসা
পাঁচবিবি হাসপাতাল

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: কিছুদিন আগেও যখন চিকিৎসকসহ জনবল সংকট ছিল, জরুরি চিকিৎসা সেবার সরঞ্জামাদিও ছিল বিকল, ছিলনা মানসম্মত সুচিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নবিদ্ধ, জোড়াতালি দিয়ে চলত চিকিৎসা সেবার কার্যক্রম। লোকবল ও সরঞ্জামাদির অভাবে চিকিৎসা সেবা যখন একেবারেই ভেঙে পড়ার উপক্রম।

ঠিক সেই মুহুর্তে শত সমস্যা মাথায় নিয়ে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কম্পেলেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মেহেদী হাসান যোগদান করেন। এরপর থেকেই আত্মাশূণ্য হাসপাতালটি যেন প্রাণ ফিরে পান। যোগদানের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে উপজেলা, জেলা ও বিভাগকে টপকিয়ে দেশের শীর্ষে ১ম স্থান অর্জন করেন হাসপাতালটি।

চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন ও সার্বিকবিষয় জড়ীপে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির মহিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন দেশ সেরার তালিকায় জায়গা পেয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের এ মাসের জড়ীপে দেশে ৪৮২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে সমান (৭৬.৬৪) নম্বর পেয়ে মহিপুরসহ ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যৌথভাবে প্রথম স্থান অর্জন করে।

মহিপুর ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে যৌথভাবে প্রথম হলেও, কিন্ত রাজশাহী বিভাগে এককভাবে প্রথম। ইতিপূর্বে এ কমপ্লেক্সটি ২৮৩’তম এবং সর্বশেষ ১৩৩’তম পর্যন্ত অবস্থান করেছিল। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও অফিস কর্মচারীদের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোলায়মান হোসেন মেহেদীর যোগদানের ৪ মাসে এমন অভুতপূর্ব অর্জনে সবাই খুশি।  

হাসপাতালের রেজিষ্টারে দেখাযায়, বিভিন্ন কারনে ও চিকিৎসা সেবার অভাবে পূর্বে যেখানে গড়ে প্রতিদিন ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ থেকে ১০ জন রোগী ভর্তি থাকত। জরুরী ও বহিঃবিভাগে প্রতিদিন সর্বোচ ২’শ রোগী প্রাথমিক সেবা নিত। চিকিৎসাক ও প্রয়োজনীয় ঔষধ না পেয়ে অনেক রুগীই অন্যত্ব চলে যেত। এখন হাসপাতালের জরুরী, বহিঃবিভাগ ও ভর্তিকৃত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বাহির থেকে কোন প্রকার ঔষধ কিনতে হয়না।

রোগীদের চিকিৎসার জন্য এখন হাসপাতাল থেকেই সকল প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও ঔষধপত্র দেওয়া হয়। এসব কারনে এখন গড়ে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৫০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকে। জরুরী ও বহিঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪’শ রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আসে।

সেবা নিতে আসা উপজেলার গলাকাটার মৃত আশরাফ হোসেনের ছেলে মকলেছ বলেন, ভ্যান থেকে পরে আমার পা মচকে যায়। অনেক ঔষধ খেয়েছি ভালো হয়না ডাক্তার দেখে বলে প্লাস্টার করতে হবে এতে সবমিলে ৭ হাজার টাকা প্রয়োজন। আমি গরীব মানুষ এত টাকা কোথায় পাব।

পরে এ হাসপাতালের বড় ডাক্তারের কাছে আসি তিনি দেখে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বলেন, আগামী কাল আসবেন। ঔষধের দোকান থেকে ২’শ ১০ টাকায় ৩টা প্লাষ্টার কিনে ডাক্তারকে দেই। তিনি আমার পা ব্যান্ডেজ করে দেয় এবং অনেকগুলো ঔষধ ও দিয়েছিল আজ ব্যান্ডেজ খুলে দিবে এজন্য এসেছি বলেন মকলেছ।

পাঁচবিবি পৌর এলাকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শিল্পী খাতুন সারা শরীরে ব্যাথা আরোগ্য লাভের আশায় বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন ডাক্তারও দেখিয়েছেন চিকিৎসাও নিয়েছেন এতে অনেক টাকা ব্যয়ও হয়েছে কাজের কাজ হয়নি। এ হাসপাতালের নতুন ডাক্তারের ভালো চিকিৎসার কথা অন্যের নিকট থেকে এসেছি বলেন, শিল্পী।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোলায়মান হোসেন মেহেদী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সাধারনত গ্রামের অভাবী ও গরীব মানুষেরাই বেশী আসে। তারা তেমন জটিল রোগ নিয়ে নয় সাধারনত মাথাব্যাথা, সর্দি-জ্বর, কাশি, আমাশয় ইত্যাদি কারনেই আসে তাদের একটু প্রাথমিক চিকিৎসা সহযোগিতা ও ঔষধ প্রদান করলেই তাদের রোগ ভালো হয় খুশিও হয়। আমি নিজেকে কখনো ডাক্তার মনে করিনা রোগীর সেবক মনে করি এবং যতদিন এ পেশায় থাকব ততদিন রোগীর সেবা করেই যাব বলেন, মানবিক ডাঃ মেহেদী।

আল-কারিয়া চৌধুরী

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

স্বাস্থ্য বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image