• ঢাকা
  • সোমবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৩ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

পীরগঞ্জের কৃষি জমিতে ইট ভাটার কাঠ খড়ি পোড়ানো হচ্ছে


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০১:০৩ পিএম
কৃষি জমিতে ইট ভাটার কাঠ খড়ি পোড়াচ্ছে

পীরগঞ্জ প্রতিনিধি, রংপুর: রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বেশীর ভাগ ইট ভাটায় কৃষি জমির টপ সয়েল ও কাঠ খড়ির ব্যবহার থামছেই না। এর পরিমান গত বারের চেয়ে আরও বেড়ে গেছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পর্যাপ্ত পদক্ষেপের অভাবে বিভিন্ন মহলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে । প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়েও হচ্ছে বেশ সমালোচনা ।

জানা গেছে, রংপুরের পীরগঞ্জে বর্তমানে প্রায় ৫২টি ভাটায় ইট পোড়ানো চলছে। ভাটা গুলির বেশীর ভাগেরই নেই কোন বৈধ লাইসেন্স । প্রশাসনের সময়োপযুগী পদক্ষেপের অভাবে আবাসিক ও বনায়ন এলাকা  ও কৃষি জমিতে গড়ে উঠেছে এ সব ইট ভাটা ।

গত শনিবার উপজেলার শীবপুর ,কাঞ্চনপুর, ঝরারঘাট,দানেশনগর, কাদিরাবাদ ও চতরা সহ ক’টি ইট ভাটা এলাকা ঘুরে ভাটার শ্রমিক, সাধারন মানুষ ও ভাটা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুরুতেই তাহারা জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরে নিদৃষ্ট টাকা জমা দেয়া সাপেক্ষে ভাটা গুলিতে ইট পোড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন ।

বৈধ অনুমোতি না থাকলেও প্রতি বছরে এ ভাবেই চলছে ইট পোড়ানোর কাজ । তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন মাঝে মধ্যে ভাটা গুরিতে অভিযান চালালেও জরিমানার অর্থ প্রদান করলে আর কোন সমস্যা থাকেনা । তবে পরিমানার অর্থ পুষিয়ে নিতে ইটের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয় । এতে ইট ভাটা মালিকদের তেমন অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে না ।

এদিকে জরিমানার অর্থ প্রদানের পর ভাটা মালিকগন অনেকটাই নিশ্চিত হচ্ছেন তাদের ভাটায় আর অভিযান পরিচালিত হবে না । আর এ সুযোগে নির্বিগ্নে ভাটা গুলিতে দিবারাত্রী ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে হাজার হাজার মন কাঠ খড়ি । এতে বিরুপ প্রভাব পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষ গুলোর জীবনে । সৃষ্ট জ্বালানী সংকটের কারনে তাদেক প্রতিমন খড়ি ক্রয় করতে হচ্ছে ২ শ’ টাকায় । অথচ ১ মাস পুর্বে প্রতিমন খড়ির মুল্য ছিল ১ শ’২০ টাকা ।

নিম্ন আয়ের রাজ্জাক, জলীল, জয়নাল ক্ষোভের সঙ্গে তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন , ভাটা মালিকেরা বেশী মুল্যে খড়ি কিনলেও তাদের লচ নেই । কারন তারা বেশী দামে ইটও বিক্রি করছে । অথচ আমারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি । ভাটা গুলিতে খড়ি পোড়ানো বন্ধ হলে খড়ির দাম বাড়তো না ।

এ ছাড়া শত শত একর কৃষি জমির উপরি ভাগের মাটি যাচ্ছে ইট ভাটা গুলিতে । ভাটা মালিকেরা অসচেতন জমির মালিকদের নামমাত্র অর্থ দিয়ে এ সব মাটি ক্রয় করছেন । আর সে মাটিই ব্যবহ্রত হচ্ছে ইট তৈরীর কাজে । ইট ভাটায় জমির মাটি বিক্রেতা ক’জন কৃষক ফারুক, সোহেল, জয়নাল আপসোস করে তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এখন আর জমিতে ভাল ফসল হচ্ছে না । আমরা আগে বুঝতে পারিনী ।

সব মিলে পীরগঞ্জের ইট ভাটা গুলোতে ইট পোড়ানোর ক্ষেত্রে ইট পোড়ানো আইন চরম ভাবে লংঘিত হচ্ছে । ভাবিয়ে তুলছে সাধারন মানুষকে । আর প্রশাসন কেন্ এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না ? এটিই সর্ব মহরৈর প্রশ্ন ।

এদিকে চলতি জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে ঢাকাস্থ পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ( সিনিয়র সহকারী সচিব) রাজিব মাহমুদ মিঠুন এর নেতৃত্বে পীরগঞ্জের অবৈধ ইটভাটা গুলোর ৮ টিতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয় । জরিমানা করা হয় প্রায় ৩১ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্থ করা হয় ৩টি ইট ভাটা। তার পরেও ক্ষতিগ্রস্থ ইট ভাটা পুনঃ সংস্কার করে বেশীর ভাগ ইট ভাটায় জ্বালানী হিসেবে কাঠ খড়ি পোড়ানো ও কৃষি জমির মাটি ব্যবহার চলছেই ।

আর জরিমানার অর্থ পুষিয়ে নিতে ভাটার মালিকেরা বাড়িয়ে দিয়েছেন ইটের মুল্য । গত বছর এ সময়ে প্রথম শ্রেণীর প্রতি হাজার ইটের মুল্য ৭ হাজার টাকা থাকলেও এবারে সে ইটের মুল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৯ হাজার টাকা ।

এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি এনামুল হক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ভাটা গুলিতে কাঠ খড়ি পোড়ানোর জন্য নিষেধ করলেও অনেকেই তা মানছেন না।

একই ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুর এর উপ-পরিচালক মেজ-বাবুল আলম এর সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ সব ক্ষেত্রে জরিমানা করার পর অবৈধ ইট ভাটা গুলি বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে ।

ঢাকানিউজ২৪.কম / বখতিয়ার রহমান/কেএন

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image