• ঢাকা
  • রবিবার, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৭ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

বরিশালের সব পথ বন্ধ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:১০ পিএম
সব পথেই ঢোকা বন্ধ
বরিশাল

নিউজ ডেস্ক : বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আগের দিন সব পথেই বরিশালে ঢোকা বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রীবাহী যানবাহনের কিছু বন্ধ হয়েছে আগেই, বাকিগুলোও চলছে না শুক্রবার ভোর থেকে।

এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। প্রয়োজনে বরিশাল ছাড়তে পারছেন না কেউ, প্রবেশও করা যাচ্ছে না কোনো পথে। এরপরও বিএনপির নেতা-কর্মীরা সমাবেশে যোগ দিতে ব্যবহার করছেন নানা কৌশল।

সার্বিক পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোড়ে মোড়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক কবির হোসেন জানিয়েছেন, লঞ্চে হামলার প্রতিবাদে বৃহষ্পতিবার ভোর থেকে বরিশাল-ভোলা রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ। একই সঙ্গে শুক্রবার সকাল থেকে অভ্যন্তরীণ সব রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তিনি জানান, এ কারণে লঞ্চ যাত্রী নিয়ে বরিশাল নদী বন্দর ত্যাগ করেনি, আবার কোনো লঞ্চ বরিশালে আসেওনি।

অবশ্য লঞ্চ বন্ধের বিষয়ে মালিক বা শ্রমিক সমিতি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বলেও জানান কবির হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ বৃহষ্পতিবার রাতে বরিশাল থেকে ঢাকায় দুটি লঞ্চ যায়নি, আর ভোররাতে চারটি লঞ্চ ঢাকা থেকে যাত্রীদের নিয়ে বরিশালে এসে পৌঁছেছে।

এ নিয়ে ঢাকা-বরিশাল রুটের ছয়টি লঞ্চ বরিশাল নদী বন্দরে নোঙ্গর করা অবস্থায় রয়েছে। এগুলো রাতে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে কি না, সে বিষয়টিও নিশ্চিত নয়।

ঘোষণা ছাড়া অভ্যন্তরীণ ১১ রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। সকাল থেকে নদী বন্দরে এসে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে।

আবুল হোসেন নামে মেহেন্দিগঞ্জের পাথারহাটের এক বাসিন্দা বলেন, ডাক্তার দেখাতে বরিশালে এসেছিলাম বৃহস্পতিবার সকালে, তবে রাত হয়ে যাওয়ায় আর ফিরতে পারিনি। সকালে ঘাটে এসে দেখি লঞ্চ চলাচল বন্ধ। এখন বাধ্য হয়ে বরিশালে থাকতে হবে।’

বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ ও রুপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে কোনো রুটে বাসও চলাচল করছে না সকাল থেকে। সেই সঙ্গে সড়ক-মহাসড়কে মাহিন্দ্রা টেম্পু, সিএনজি, ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাসও চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ ঘুরে দেখা গেছে, পুরো বাস টার্মিনাল ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে যাত্রীবাহী বাসগুলোকে সারিবদ্ধভাবে পার্কিং করে রাখা হয়েছে। টিকিট কাউন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে, টার্মিনালের পাশের মাহিন্দ্রা টেম্পু, সিএনজি ও মাইক্রোবাসের স্ট্যান্ডগুলো ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলের দখলে রয়েছে। ফলে যাত্রীরা টার্মিনালগুলোতে এসে বিকল্প যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। আর বিকল্প যানবাহন হিসেবে কেউ ব্যাটারি চালিত ভ্যান, রিক্সা আবার কেউ মোটরসাইকেলে চেপে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। তবে এসব যানবাহনেরও সংকট থাকায় বেশিরভাগ যাত্রীই ফিরে যাচ্ছেন।

ফজলু নামে পটুয়াখালীর বাউফলের এক বাসিন্দা বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকালে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে এসেছি। কিন্তু বাস চলছে না। তাই বাধ্য হয়ে কয়েকগুন বেশি ভাড়া দিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছি।’

বেসরকারি পরিবহনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিআরটিসির বাস চলাচল না করায় ক্ষোভ জানিয়ে লিমা নামে গৌরনদী পৌরসভার এক বাসিন্দা বলেন, ‘বেসরকারি পরিবহন মালিকরা যখন বাস ধর্মঘটের ডাক দেয়, তখন দেখেছি বিআরটিসি তাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এবারে তো দেখছি নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের পাশে থাকা বিআরটিসি বাস ডিপোর প্রধান গেটই আটকা।

বাড়ি যাওয়ার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু যানবাহন না পেয়ে যেতে পারছি না। নারী হওয়ায় বিকল্প যানবাহনও ব্যবহার করতে পারছি না।

সর্বশেষ খেয়া পারাপারও বন্ধ করা হয়েছে বরিশালে। এতে নগরীর বাসিন্দারাই পড়েছেন ভোগান্তিতে।

শুক্রবার সকালেই বরিশাল লঞ্চঘাট সংলগ্ন খেয়াঘাট, চরমোনাই, চাঁদমারী খেয়াঘাটসহ সব খেয়াঘাট থেকেই নৌকা ও ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে সংশ্লিষ্ট কেউ ট্রলার চলাচল বন্ধের কারণ জানাতে পারেননি।

চাঁদমারী ট্রলার ঘাট এলাকার বাসিন্দা শাওন বলেন, রাত থেকে কম করে হলেও ১০০ ট্রলারে বিএনপি নেতাকর্মীরা বরিশালে এসেছেন।

অন্যসব বাহন বন্ধ হলেও বরিশাল থেকে ভোলায় স্পিডবোট চলাচল করছে। তবে সেটা বেশ সীমিত আকারে। যাত্রীদের অভিযোগ, লঞ্চ বন্ধ থাকায় বোটগুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
 
মোড়ে মোড়ে তল্লাশির বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, ‘আমরা আমাদের নিয়মিত কাজ করছি।’

বাস বন্ধের ঘোষণা অবশ্য আগেই এসেছিল বলে জানিয়েছেন বাস মালিক সমিতির নেতারা।

তারা জানিয়েছেন, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচলবন্ধের দাবিতে আগে থেকেই ৪ ও ৫ নভেম্বর ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়া হয়।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সিদ্ধান্তে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, কয়েকটি জায়গায় নেতা-কর্মীকে হত্যার অভিযোগ, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং দেশব্যাপী দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা-মামলার প্রতিবাদে বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বিএনপি।

এরই ধারাবাহিকতায় সমাবেশে হয়েছে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুরে। শনিবার বরিশালে বিএনপির পঞ্চম বিভাগীয় সমাবেশ।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

রাজনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image