• ঢাকা
  • সোমবার, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১৬ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

জাতীয় পতাকার আদলে ধানের মাঠ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০২:১৮ পিএম
ব্যতিক্রমী এ ধান চাষ দেখতে ভিড় করছে মানুষ।
বাংলাদেশেরমান চিত্র ও জাতীয় পতাকা প্রতিকৃতি

জাহিদুল হক মনির, শেরপুর প্রতিনিধি:  শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী তার নিজের ফসলের মাঠে সবুজ ও বেগুনি রঙের (পার্পল লিফ রাইস) ধানের চারা দিয়ে তৈরী করেছেন বাংলাদেশেরমান চিত্র ও জাতীয় পতাকা প্রতিকৃতি। আবহমানকাল থেকে সবুজ রঙের ধান গাছই দেখে এসেছে বাংলার কৃষক। কিন্তু সবুজ ও বেগুনি রঙের সংমিশ্রণে ব্যতিক্রমী এ ধান চাষ দেখতে ভিড় করছে মানুষ। প্রতিদিনই দূর-দুরান্ত থেকে ধানের সৌন্দর্য দেখতে আসছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিগন্ত মাঠ জুড়ে সবুজ আর সবুজ। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায় সবুজের মাঠে মাঝখানে বেগুনি রঙ। সবুজ ধানের বেষ্টুনির কাছে গেলে মনে হয় বেগুনি রঙের জায়গাটুকু কোনো আগাছা বা বালাই আক্রান্ত ধান। কিন্তু না, এটি এমন একটি ধানের জাত, যার পাতা ও কান্ডের রং বেগুনি। যেভাবে তৈরি করেছে দেখতে অনেকটাই জাতীয় পতাকার আদলে। আবার পাশের আরেকটি ক্ষেতে দেখা যায় সবুজ ধান ও বেগুনি ধানের মিশ্রনে বাংলাদেশের মানচিত্র।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, দেশে প্রথম বেগুনি রঙের ধানের আবাদ শুরু হয় গাইবান্ধায়। সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর থাকায় দিন দিন দ্রুত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এ ধানের আবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এ ধানের নাম মূলত পার্পল লিফ রাইস। এই ধান গাছের পাতা ও কান্ডেরর রঙ বেগুনি হয়। এর চালের রঙও হয় বেগুনি। তাই কৃষকদের কাছে এখন পর্যন্ত এ ধানের পরিচিতি বেগুনি রঙের ধান। এ ধান বিদেশি জাত নয়, দেশীয় শুক্রাণু প্রাণরস (জার্মপ্লাজম)।

শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি গত বছর ইউটিউবের মাধ্যমে এই বেগুনি রঙের ‘পার্পল লিফ রাইস’ নামের ধান চাষের একটি ভিডিও দেখি। এরপর আমার মাঝে আগ্রহ জাগে এই ধান চাষ করার। পরে আগ্রহ থেকেই গত বছর আমি অল্প জমিতে বেগুনি ধানের বীজ সংগ্রহ করে তা রোপন করি। আলহামদুল্লিাহ ধানও খুব ভালো হয়। তাই এবারও মোট দশ কাঠা জায়গায় ধান রোপন করি। এর মাঝে বেগুনি ধানের বীজও রোপন করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব বর্ষে আমি জাতীয় পতাকার আকৃতিতে দুই জাতের ধান রোপণ করেছি। পাশাপাশি আরেকটি ক্ষেতে বেগুনি ধান দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র’র মতো করি। যা দেখার জন্য মানুষ প্রতিদিনই আসছেন আমার ক্ষেতে, দেখছেন ধান ক্ষেত, তুলছেন ছবি, কেউবা আবার বীজ নেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আমার ইচ্ছা আছে, আগামীতে
বেগুনি ধানের আবাদ বাড়ানোর।’

উদীচি শিল্পী গোষ্ঠী ঝিনাইগাতী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘খুবই সুন্দর হয়েছে ধান ক্ষেতটি, দেখতে আমাদের জাতীয় পতাকার মতো হয়েছে। ক্ষেতের এক পাশে পতাকা, আরেক ক্ষেতে বাংলাদেশের মানচিত্র, খুবই ভালো লাগছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ধান ক্ষেতের মাঝখানে এমন বেগুনি ধান লাগানোর জন্য ক্ষেতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয়েছে। যা দেখতে উৎসুক মানুষ আসেন ক্ষেত দেখতে। দিন দিন বেগুনি ধান চাষাবাদ বৃদ্ধি হচ্ছে। এর আগেও ঝিনাইগাতী উপজেলায় বেগুনি ধান চাষ হয়েছে। তবে এবার গতবারের তুলনায় একটু বেশি। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মুহিত কুমার দে বলেন, ধান ক্ষেতের মধ্যে বেগুনি ধান দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে ক্ষেত করেছেন যা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি এই বেগুনি ধান পুষ্টিগুণ বেশি। তাই দিন দিন বেগুনি ধান চাষাবাদ হচ্ছে। যে সকল চাষিরা বেগুনি ধানের আবাদ করেছেন তাদের সাথে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। যদি প্রাকৃতিক কোন সমস্যা না হয় তাহলে এবার ধানের বাম্পার ফলন হবে আশা করি।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

জাতীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image