• ঢাকা
  • বুধবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১০ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ইটনায় ধনু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন করে বন্যার আশংকা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:০২ পিএম
ইটনায় ধনু নদীর পানি বৃদ্ধি
বন্যার আশংকা

মিঠামইন প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ:  ইটনা উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও গত ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টি ও ধনু নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।গত ২৯ শে মে বুধবার রাত থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ধনু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার নিন্মাঞ্চল মৃগা ইউনিয়নে পানি নতুন করে ডুকে পড়েছে। এ ইউনিয়নে এখনও ২০ হাজার মানুষ পানি বন্দি রয়েছে।

গত ৩ দিনে পানি কিছুটা কমলেও গত ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পূর্বের জায়গায় চলে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ৩০ শে জুন পর্যন্ত ইটনা উপজেলার মৃগা, আমিরগঞ্জ, লাইম পাশা,শান্তিনগর, হাজীপুর, কালীপুর,আনন্দ বাজার, মৃগা বাজার, মৃগা ইউনিয়ন পরিষদে নতুন করে পানি ডুকছে।এসকল এলাকার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে।

পূর্বের বন্যায় ও এসকল জায়গা পানিতে তলিয়ে ছিলো। উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতি গ্রস্ত এলাকা মৃগা ইউনিয়ন ৪০ হাজার লোকের বসবাস এ ইউনিয়নে এর মধ্যে ২০ হাজার লোকই বর্তমানে পানি বন্দি রয়েছে। মৃগা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি গ্রস্ত এলাকা ৬ নং ওয়ার্ড, ৭ নং ওয়ার্ড, ৮ ওয়ার্ড, ৯ নং ওয়ার্ড এসকল ওয়ার্ডের সদস্যদের মধ্যে মোঃ কালাম মিয়া, শামীম মিয়া ও বাচ্চু মিয়া জানান,এ পর্যন্ত শুকনো খাবার ৫০ প্যাকেট ও ৪ টন চাউল ছাড়া এ ইউনিয়নে কোনো এাণ সামগ্রী আসেনি।

এসকল এাণ আশ্রয় কেন্দ্র ও পানি বন্দি মানুষের জন্য কিছুই না।এ পর্যন্ত কোনো সেচ্ছাসেবী সংগঠন বন্যার্তদের পাশে এসে দাড়ায়নি।১ নং ওয়ার্ড ও ২নং ওয়ার্ডের আশ্রয় কেন্দ্র মৃগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সে আশ্রয় কেন্দ্রের বাসিন্দা দুলাল মিয়া,ফুল মিয়া জানান,তাদের বাড়ি ২ নং ওয়ার্ডের গ্রামে। বাড়ি ঘর তলিয়ে গেছে বন্যার শুরু থেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে এ আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছি।পানি কিছুটা কমলেও গত বুধবার ২৯শে জুন রাত থেকে পানি বাড়তে শুরু হয়েছে। বাড়ি ঘরে যাওয়ার কোনো ব্যাবস্হা নেই।সবই পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এবারের পানিতে আর শেষ রক্ষা হবে না।আমরা সামান্য এাণ পেয়েছি।

এটা এাণ নয় শুকনা খাবার।এগুলি দিয়ে জীবন বাঁচানো যায় না।আমরা খাইমু কি গরু বাচুররে খাওয়ামু কি, কথা গুলো খুব কষ্টে এ দুই পরিবারের সদস্যরা বলছিলেন।আমাদের দেখার কেউ নেই বলে অভিযোগ করেন।বৃষ্টি যেভাবে হচ্ছে যদি পানি আরও বাড়ে তবে আশ্রয় কেন্দ্র তলিয়ে যাবে।আমাদের মৃগার মত উপজেলায় কোনো ইউনিয়নেই এত ক্ষতি হয়নি।১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রতন দেব নাথ জানান আমরা মৃগা ইউনিয়ন বাসি পানি বন্দিতে রয়েছি।অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে না উঠে উঁচু বাড়ি ঘরে গবাদিপশু সহ আশ্রয় নিচ্ছে।মৃগাতে শ্বশান, কবরস্থান সবই পানিতে তলিয়ে রয়েছে। উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃদারুল ইসলাম দারু জানান,এ ইউনিয়নে উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। আমার ইউনিয়নে এখনও ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হয়েছে। পানি ও বৃষ্টি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে উচ্ছেদের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে তিনি মনে করেন।তিনি এই পর্যন্ত ক্ষতি গ্রস্ত এলাকার জন্য ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ৪২০০ কেজি এাণ পেয়েছেন। আরও কিছু এাণ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি বাড়তে শুরু করেছে।পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে মানুষের দূর্ভোগ  চরম পর্যায়ে পৌছবে বলে তিনি মনে করেন।বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

ইটনা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাফিসা আক্তার জানান,উপজেলার মধ্যে মৃগা ইউনিয়নে ক্ষতির পরিমাণ বেশি।সেখানে এখনও অনেক মানুষ পানি বন্দি রয়েছে। আমরা এাণ বৃদ্ধির আবেদন করেছি।কিছু কিছু এাণ দিয়েছি পর্যাক্রমে এাণ বিতরণ অব্যাহত থাকবে।আশ্রয় কেন্দ্রে অনেক মানুষ রয়েছে। এছাড়াও অনেক পরিবার আত্নীয় স্বজনদের বাড়িতে উঠে পড়েছে। আমরা প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদেরকে সঠিক ভাবে ক্ষতি গ্রস্তদের তালিকা করার নির্দেশ ইতিমধ্যে দিয়ে দিয়েছি।পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিশোরগঞ্জ জোনের নির্বাহী  প্রকৌশলী মতিউর রহমান জানান,বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তাই ঐ বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢল আমাদের দেশের নদ- নদী দিয়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করছে।তিনি সকলকে সর্তক থাকার আহ্বান জানান।

ঢাকানিউজ২৪.কম / বিজয়কর রতন/কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image