• ঢাকা
  • সোমবার, ৩ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ১৭ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

জাতীয় সংকট নিরসনে গণফোরামের গ্রান্ড ন্যাশনাল কনফারেন্স এর ডাক


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:২৬ পিএম
দুর্বল রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা, আইনের শাসনে
mostofa mohosin montu

নিউজ ডেস্ক:   বাংলাদেশ আজ ৫০ বছরে দাঁড়িয়ে। যে সকল আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লক্ষ শহীদের রক্তে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করেছিলাম তা আজ ধূলিস্যাৎ হতে চলেছে। এর মূল কারণ হলো সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় মূলনীতির তোয়াক্কা না করে পরিবারতন্ত্র, স্বৈরাতন্ত্র, একনায়কতন্ত্রের মাধ্যমে সর্বগ্রাসী কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে।

পরিণতিতে জনগনের মালিকানা নেই, মৌলিক অধিকার নেই, জীবন ও জীবিকার গ্যারান্টি নেই, এমনকি ভোটার অধিকারও হরণ করা হয়েছে। আমলাতন্ত্র রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। জনগণ গোলামে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতাসীন হয়েছে স্বার্থবাদী ধনিক-বনিক, দুর্বৃত্তায়িত লুটেরা ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদসহ সন্ত্রাস, মাস্তান, মাদককারবারী, দুর্নীতিবাজ ও আমলাতন্ত্রের সিন্ডিকেট। আকস্মিকভাবে ডিজেল, কেরাসিন তেলের বেপরোয়া মূল্য বৃদ্ধি, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন উর্ধগতিতে জীবন-যাপন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। শাসক চক্রের হামলা-মামলা ও রক্তচক্ষুর সামনে জনগণ অসহায়।

বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যন্ত দুর্বৃত্তায়িত ও লুটেরা সন্ত্রাসী চক্রের উত্থান ঘটেছে। যারা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ফেলেছে। দুর্বল রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা, আইনের শাসনের অক্ষমতা, উচ্চ বৈষম্য ও দূর্নীতি রাষ্ট্রকে সর্বদিক থেকে আক্রমন করে পঙ্গু করে ফেলেছে। এরই সুযোগে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার হিংস্র থাবা বাংলাদেশকে পুনরায় রক্তাক্ত করেছে। যার তীব্র নিন্দা আমরা জানিয়েছি এবং দাবি করেছি অবিলম্বে এই উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। কিন্তু সরকার মুখে চমকপ্রদ কথা বললেও কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

বিরাজমান এই দুঃসহ অবস্থা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বৃটিশ-পাকিস্তান আমলের গণবিরোধী আইন, শাসন ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা বহাল রয়েছে, তাকে পাকাপোক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীভূত একনায়কতান্ত্রিক কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থায় সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকায় রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য জনগণের মৌলিক ও ভোটের অধিকার নগ্নভাবে হরণ করা হয়েছে। এই অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে না, পারবেনা। শিক্ষা-স্বাস্থ্য সবকিছু ভেঙে পড়েছে। বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অভাব যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয় অসহনীয়। ফলে সামাজিক অপরাধ সর্বত্র বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
আমরা গণফোরাম থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাবে ঘোষণা করতে চাই, এই কেন্দ্রীভূত কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রচলিত রাষ্ট্র ও প্রশাসন ব্যাবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়ে বিকেন্দ্রীকৃত স্বশাসিত স্থানীয় সরকার গঠন করব।
 
আশু করণীয় হিসেবে আমাদের প্রত্যয় হল, সার্বিক গণঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতিতে বিশ্বাসী সকল দল এবং শ্রেণী-পেশার মানুষকে নিয়ে একটি গ্রান্ড ন্যাশনাল কনফারেন্স এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করা হবে। রাষ্ট্রের সর্বস্তরের জনগণের মালিকানা ও অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত করা হবে।

আমরা এটাও বিশ্বাস করি, বিরাজমান অবস্থায় কোনো দলের পক্ষে এককভাবে বঞ্চিত-শোষিত জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করা সম্ভব নয়। সেজন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে আসুন, ঐক্যবদ্ধভাবে জনমত সৃষ্টি করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করি।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

রাজনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image