• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের চাকুরির মেয়াদ শেষ হলেও চেয়ার ছাড়ছেন না


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:০৯ পিএম
অধ্যক্ষের চাকুরির মেয়াদ শেষ হলেও চেয়ার ছাড়ছেন না
অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন

শফিকুল ইসলাম মিন্টু, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন এর চাকুরির মেয়াদ শেষ হলেও অধ্যক্ষের চেয়ার ছাড়ছেন না তিনি। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অনুমোদন ছাড়াই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশ গোপন করে বেতন উত্তোলন, কলেজে কর্মচারী নিয়োগ, একাধিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণসহ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। 

প্রধান অফিস সহকারী মো. শহীদুল্লাহ হুমায়ুনও গত ৩১ মে অবসরে গেলেও কলেজের কাগজপত্র ও ফাইল কেবিনেটের চাবি হস্তান্তর করেননি। 

জানা যায়, কলেজের অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন এর চাকুরীর মেয়াদ শেষ হয় ২০২১সনের ১৫মে। চাকুরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি বিনা অনুমোদনে ১বছর ৪মাস ১৬দিন দায়িত্ব পালন করেন। ১অক্টোবর গভর্নিং বডি সহকারী অধ্যাপক মাহমুদা ইয়াসমিনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিলেও চেয়ার ও দাপ্তরিক দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। রবিবার (৩০ অক্টোবর) চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মাঝে বাক-বিতন্ডা হয়। এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী এমনকি স্থানীয়দের মধ্যে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহমুদা ইয়াসমিন বলেন, অধ্যক্ষের চেয়ারের পাশে আমার জন্য একটি চেয়ার শিক্ষক ও কর্মচারীদের উপস্থিতে বসানো হয়। রবিবার এটা দেখে স্যার ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এছাড়া আমাকে কোনো ফাইল-কেবিনেটের চাবি বা কাগজপত্র এবং অর্থনৈতিক দায়িত্বও বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। 

এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন জানান, গভর্ণিং বডি আমাকে ২বছরের জন্য অধ্যক্ষ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন। অনুমোদনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর ২০২১সনের ৬মে আবেদন করেছি। এ বিষয়ে হ্যাঁ-না কিছু জানানো হয়নি। তবে ১অক্টোবর থেকে মাহমুদা ইয়াসমিনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমি এখন ছুটিতে আছি, ডিজির সিদ্ধান্ত পেলে স্বপদে (অধ্যক্ষ) ফিরে আসব।

পদ ছাড়লেও চেয়ার ছাড়ছেন না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে বিষয়টা এমন না! আমি কলেজে আসি, কলেজে যারা আছেন তাদের দেখাশোনা করি, পরামর্শ দেই, খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য আসি। 

প্রধান অফিস সহকারী মো. শহীদুল্লাহ হুমায়ুন বলেন, ৩১মে অবসরে যাওয়ার পর চাবি অফিস সহকারী মো. রেজাউল করিমের নিকট বুঝিয়ে দিয়েছি। রেজাউল করিম জানান, অফিসের ফাইলপত্র ও চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর হয়নি, তিনি শুধু আমার নিকট রেখে গেছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কলেজ-৩) তপন কুমার দাস জানান, সাবেক অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন এর চাকুরীর মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন এখন পর্যন্ত মঞ্জুর হয়নি। আবেদন মঞ্জুর না হওয়া পর্যন্ত যেহেতু তিনিই বৈধ নন; সুতরাং তাঁর সকল কার্যক্রমও অবৈধ।

কলেজের গভর্ণিং বডির সভাপতি ম. নূরুল ইসলাম জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১-এর ১১.১১ অনুযায়ী ও জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের চাকুরীর শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯ এর ১৫নং বিধানমতে ২০২১সনের ২মে তারিখে ২৫হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করে ২বছরের জন্য মো. রুহুল আমিনকে অধ্যক্ষ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়। জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের পত্রের বিষয়টি এক বছর পেরিয়ে গেলেও অধ্যক্ষ গভর্নিং বডিকে আগে অবহিত করেন নাই। বিশ^বিদ্যালয় থেকে জানানোর পর গভর্নিং বডির সভার সিদ্ধান্তক্রমে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে মাহমুদা ইয়াসমিনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সাবেক অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন বোর্ডের বা বিশ^বিদ্যালয় থেকে মেয়াদ বাড়াতে পারলে স্বপদে বহাল হবেন। 

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image