• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১৭ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ইউরোপের জ্বালানি নীতি বদলে দিতে পারে ইউক্রেন সংকট


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ২১ ফেরুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৩৫ পিএম
শীতকালে উষ্ণতার জন্য গ্যাস ব্যবহার করা হয়
rassian gas transfer

এম এ আলআমিন

ইউক্রেন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার দ্বন্দ্ব চলছে এক মাসের বেশি সময় ধরে। মধ্যস্থতা মিশনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোসহ অনেক নেতা মাঠে নেমেছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস গেছেন মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে। রাশিয়ার উদ্বেগকে আমলে নিয়েই তারা ক্রেমলিনকে ইউক্রেনের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন।

এদিকে ইউক্রেনে সৈন্য ও সরঞ্জামাদি পাঠিয়ে মস্কোর ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন। তবে সীমান্ত থেকে কিছু সৈন্য সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মস্কো।

পরিস্থিতি যতই জটিল হোক রাশিয়ার হাতে আছে জ্বালানির মতো এক অব্যর্থ ট্রাম্প কার্ড। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩৫ শতাংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করে। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি। প্রাকৃতিক মজুত ফুরিয়ে আসার আশঙ্কাই হোক অথবা পরিবেশবাদীদের চাপ, দেশ দুটি অনেক বছর ধরে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে।

অন্যান্য দেশও জ্বালানি, বিদু্যত্ উত্পাদন ও ঘর গরম রাখার সুলভ মূল্যে পাওয়া রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতার মাত্রা এতটাই, যা ইউরোপ ও আমেরিকাকে উভয় সংকটে ফেলেছে। লকডাউনের সময় ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে। ফলে দাম দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকের পর এখন সবচেয়ে কঠিন জ্বালানি সংকটে চলছে। অবস্থার অবনতি ঘটানোর জন্য ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি রাশিয়াকে দায়ী করেছে। ইউক্রেন সংকট দীর্ঘায়িত হলে স্বাভাবিকভাবেই গ্যাস সরবরাহ আরো সংকুচিত হবে। পরিস্হিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকে আশার আলো দেখছেন। তারা বলছেন বর্তমান পরিস্থিতি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ইউরোপের জন্য একটি সতর্ক সংকেতত। জীবাশ্ম জ্বালানি বা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা যতটা সম্ভব কমাতে হবে।

বহুজাতিক জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইথ্রিজির গ্যাস সরবরাহবিষয়ক গবেষক ইউয়ান গ্রাহাম বলেন, ‘ইউরোপের সামনে এখন গ্যাস নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে।’ ইইউর প্রভাবশালী দেশে জার্মানি। রুশ প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল হওয়ায় দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই পররাষ্ট্র নীতি ও জ্বালানি নীতিকে পৃথক ইস্যু গণ্য করে এসেছে। তবে জার্মানি এখন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত নর্ড স্ট্রিম-২ পাইপ লাইন প্রকল্পটি বাদ দিতে পারে।

রাশিয়া যদি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালায় এবং ন্যাটোর সঙ্গে বিবাদে জড়ায়, গ্যাসের দাম তখন বর্তমানের দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এই গ্যাসের দাম এমনিতেই যথেষ্ট বেশি। দাম বৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা নিয়ে পূর্বানুমান করাও সম্ভব নয়। নিষেধাজ্ঞা যে কোনো দেশ বা ব্যক্তিকে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা বা ডলার ব্যবহারের পথ রুদ্ধ করে দেয়। যদিও সেরকম কিছু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে সে-রকম কিছু হলে রাশিয়া পালটা ব্যবস্থা হিসাবে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ অনেক কমিয়ে দিবে। এমন কিছু হলে কঠিন জ্বালানি সংকটে পড়েবে ইউরোপ। সবচেয়ে সমস্যা হবে ইউক্রেনের। কারণ রাশিয়া ইউরোপে যে গ্যাস সরবরাহ করে থাকে, তার এক-তৃতীয়াংশ বাহিত হয় ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে।

রুশ প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর এই নির্ভরশীলতার কমাতে ইউরোপের তাত্ক্ষণিক বিকল্প নিজস্ব মজুত ব্যবহার করা। কিন্তু যার  পরিমাণ সীমিত, খুব বেশি দিন ব্যবহার করা যাবে না। দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প হতে পারে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দৃষ্টি দেওয়া। বর্তমানে ইউরোপে বিদু্যতের ১০ শতাংশ কয়লা থেকে উত্পাদন করা হয়। অর্থাত্, ইউরোপের সিংহভাগ বিদু্যত্ ইতোমধ্যেই পরমাণুর মতো নবায়নযোগ্য উত্সে চলে গেছে। বিদু্যত্ উত্পাদন ছাড়া গ্যাসের বেশির ভাগ ব্যবহার হয় ঘর গরম করার জন্য।

মহাদেশটির লাখ লাখ বাড়িতে শীতকালে উষ্ণতার জন্য গ্যাস ব্যবহার করা হয়। সাধারণ মানুষ যুগ যুগ ধরে এভাবেই অভ্যস্ত। কাজেই এক্ষেত্রে বিদু্যত্ ব্যবহারে তাদের অভ্যস্ত করা সময়সাপেক্ষ হবে। এক্ষেত্রে ইউরোপের সামনে আরেকটি বিকল্প আছে, তা হলো উত্তর আমেরিকা অথবা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তরল গ্যাস আমদানি করা।

বিশ্লেষকরা এটাকে ভালো বিকল্প মনে করেন না। কারণ সেটি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরেক দফা বাড়বে। কাজেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের কথা চিন্তা করলে ইউরোপে অন্য সব কিছুর পাশাপাশি গৃহনির্মাণ প্রযুক্তিতে পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন ছাদে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইনসুলেশনের ব্যবস্হা করা। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক পর্যাযে নতুন চিন্তাভাবনা। ইউরোপের দেশে দেশে যেভাবে পপুলিজমের উত্থান ঘটছে, তা উদ্ভাবনী চিন্তার সহায়ক নয়। কারণ পপুলিজমের মূল কথাই হলো জনগণের বড় সমস্যাগুলো আশু সমাধান করা।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image