• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

তরুণদের হাত ধরেই স্মার্ট বাংলাদেশ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:১৫ পিএম
স্মার্ট বাংলাদেশ
তরুণদের হাত ধরে

ইমদাদ ইসলাম

দেশে বেকার,বিদেশে যেতে চান। কীভাবে শুরু করবেন,কার কাছে যাবেন,বুঝতে পারছেন না।কোন সমস্যা নেই। আপনার এ সমস্যাগুলোর ধারাবাহিকভাবে সমাধান দেওয়ার জন্য সরকারের ডিজিটাল পরিষেবা ' আমি প্রবাসী' অ্যাপ এখন আপনার হাতের মুঠোয়। মোবাইলের প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে শুরু করুন নিবন্ধন। তারপর ধাপে ধাপে আপনার কাজগুলো আপনি নিজেই সমাধান করতে পারবেন। ইতোমধ্যে এই অ্যাপের মাধ্যমে কম-বেশি  বিশ লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছে।বিদেশগামী কর্মীদের দীর্ঘদিনের নানামুখী সমস্যার সমাধান করে কোনো প্রকার বিদেশি সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশি প্রকৌশলী এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের দিয়ে তৈরি এমন অ্যাপ বিশ্বে এটাই প্রথম।সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়াটি প্রস্তুত করেছে বিএমইটি- র ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডার আমি প্রবাসী লিমিটেড। ক্লিয়ারেন্স স্মার্ট কার্ড এখন সত্যিকার অর্থেই স্মার্ট'।  QR code দিয়ে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ এর তথ্য  সহজেই যাচাই করতে পারবে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) ২০১৯ সালে ওএসএস পোর্টালের মাধ্যমে মাত্র দুইটি ডিজিটাল সেবা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ডিজিটাল  যাত্রা শুরু করেছিলো। ২০২২ সালে শেষ প্রান্তিকে এসে বিআইডিএ এখন ১৮ টি সংস্থার ৫৬ টি ডিজিটাল সেবা অংশীজনদের জন্য উন্মুক্ত করেছে। প্রতিদিন গড়ে ওএসএস এর মাধ্যমে ১ শত এর বেশি বিনিয়োগকারী বিডা থেকে সেবা গ্রহণ করে থাকে। অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে বাংলাদেশের সেবা খাতসহ অন্যান্য সকল সেক্টরে ডিজিটালাইজেশন হচ্ছে। মানুষ এর সুবিধা পাচ্ছে।
 
বাংলাদেশ ইন্টারনেটের যুগে প্রবেশ করেছে ১৯৯৬ সালে।১৯৯২ সালে বাংলাদেশকে বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবল দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। আমারা নিজেদের অজ্ঞাতার কারণে সে সুযোগ নিতে পারিনি। ২০০৬ সালে এসে মূল্য দিয়ে সেই সাবমেরিন ক্যাবল নিতে হলো।১৯৯৬ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্পিউটারের উপর থেকে ভ্যাট,ট্যাক্স প্রত্যাহার করে নিলেন।ছাত্র -ছাত্রীসহ সকলের জন্যই কম্পিউটার ব্যবহার সহজলভ্য হলো।একাধিক  মোবাইল কোম্পানিকে  মোবাইল সেবা দেওয়ার জন্য লাইসেন্স দেওয়া হলো।লাখ টাকার মোবাইল চলে আসলো হাজার টাকায়।যে মোবাইল ছিল এক সময় শুধু উচ্চবিত্তের ব্যবহারের জন্য তা মূহুর্তে হয়ে গেল সর্বসাধারণের।মোবাইল ইন্টারনেটের যুগে বাংলাদেশ প্রবেশ করে ২০১৩ সালে।২০১৮ সালে দেশে ৪ জি চালু হলে ভয়েস কল ও ডেটা ট্রান্সফার অনেক সহজ হয়ে যায়। মানুষের চাহিদা বাড়তে থাকে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে মোট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতো সাড়ে সাত জিবিপিএস।আর এখন দেশে মোট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয় প্রায় তিন হাজার পাঁচশত  জিবিপিএস।এখন দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটিরও বেশি। মাত্র ১৩ বছরের ব্যবধানে এই পরিবর্তন যা পৃথিবীতে কোনো দেশেই হয়নি।

মাজার বিষয় হলো ২০০৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দেন।তখন দেশের মানুষ এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব চিন্তা করতে পারেনি। তবে এটা ঠিক তরুণ প্রজন্ম এটাকে লুফে নিয়েছিলো। আমাদের পরে ২০০৯ সালে বৃটেনে ডিজিটাল বৃটেন,২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট ভারত ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং পাকিস্তান ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর ডিজিটাল পাকিস্তান ঘোষণা করে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। সর্বক্ষেত্রেই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে এটা সত্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে ডিজিটাল বৈষম্য রয়েছে। করোনাকালে সারাদেশে যখন আইসিটির ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হয় তখনই ডিজিটাল বৈষম্য আমাদের কাছে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কালবিলম্ব না করে এই বৈষম্য নিরসনের জন্য অবকাঠামোগত সুবিধা দ্রুত গ্রাম অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। সে মোতাবেক অবকাঠামোগত উন্নয়ন দ্রুত এগিয়ে চলছে। এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তির সরঞ্জাম সহজলভ্য করাসহ সাশ্রয়ী মূল্যে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন। কম্পিউটার কেনার জন্য বিভিন্ন রকম লোনও দেওয়া হচ্ছে। এসব লোন সম্পূর্ণ বিনা সুদে অথবা নামমাত্র সুদে ও সহজ শর্তে দেওয়া হয়ে থাকে। বাংলাদেশের জনগণ এখন অনেক স্মার্ট। এখন ব্যাকিং লেনদেনের জন্য ব্যাংকে যেতে চায়না।সব ব্যাংকেরই অ্যাপস আছে, এর মাধ্যমে দ্রুত টাকা ট্রান্সফারসহ যাবতীয় লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব। ব্যাংকেরও কোনো প্রয়োজন হলে এসএমএস বা ই-মেইল করে তথ্য চায়।সে সব তথ্য  ই-মেইল  বা অ্যাপসের মাধ্যমে ব্যাংকে দেওয়া যায়।ব্যাকিং ব্যবস্হায় অটোমেশনসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু হয়েছে।গ্রাহকে ঋণ অনুমোদনসহ বিতরণ ব্যবস্হায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে অর্থাৎ একজন গ্রাহক ঋণের আবেদন করার কয়েক মিনিটের মধ্যে তার কাঙ্ক্ষিত ঋণ পেয়ে যাচ্ছেন। সিটি ব্যাংক এবং বিকাশ এ ঋণ বিতরণের কাজটি প্রথম করছে।

ই- কৃষি বদলে দিয়েছে বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্হা।কৃষক ভাইদের চাষাবাদে এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। ই- কমার্স ব্যবসাবাণিজ্যের ধারণাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছে। প্রাইমারি পড়ুয়া ছেলেটিও এখন ফুড পান্ডায় অর্ডার করে পছন্দের খাবার খাচ্ছে। ভূমি ব্যবস্হাপনায়  এসেছে ডিজিটাল ছোঁয়া।দেশের যে কোনো জায়গা থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা নিজের জমির খাজনা মূহুর্তেই পরিশোধ করা সম্ভব। ই- মিউটেশন ভূমি ব্যবস্হাপনার এক যুগান্তকারী কার্যক্রম। ‘ভূমি তথ্য ব্যাংক' এবং কৃষি জমি সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সারা দেশে মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং এর কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। গ্যাস,পানি,বিদ্যুৎ, টেলিফোনসহ সব ধরনের ইউটিলিটি বিল এখন ঘরে বসেই দিচ্ছে মানুষ। যা আজ থেকে পাঁচ বছর আগেও কল্পনা করা যেতো না।

চিকিৎসা ব্যবস্হায় এসেছে বড়ো পরিবর্তন। করোনা অতিমারি মোকাবিলায় ব্যপকভাবে আইসিটির ব্যবহার হয়েছে। দেশের হাসপাতালগুলোতে টেলি মেডিসিনের ব্যবহার বেড়েছে।অনেক হাসপাতালেই এখন প্যাথলোজিক্যাল রিপোর্ট, রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্হাপত্র ই-মেইল সরবরাহ করা হয়। কম-বেশি ৮০ টি চক্ষু ক্লিনিক আছে উপজেলা পর্যায়ে। একজন নার্স এসব ক্লিনিকে একজন রোগীর চোখ  পরীক্ষা করে এবং সেই পরীক্ষার রিপোর্টে দেখে চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রোগীর জন্য চশমা দেওয়া থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ব্যবস্হাপত্র দিয়ে দেন। 

আমরা কী কল্পনা করতে পারতাম,এমন একটা যুগে আমরা পৌঁছাতে পারব।এগুলো এখন কল্পনা নয়,বাস্তব। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্হাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। নতুন নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন কারিকুলাম তৈরি করা হচ্ছে। পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্হায়ও পরিবর্তন আসছে।আমাদের তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট তৈরি করছে। সরকারি দপ্তরে ২ হাজার ৪২৫ টি নাগরিক সেবার মধ্যে ১ হাজার ৮৫১টি সেবা ইতোমধ্যেই ডিজিটালাইজেশন হয়েছে। অবশিষ্ট নাগরিক সেবাগুলো ডিজিটাইজ করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব ডিজিটাল কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য E- Service Monitoring Committee গঠন করা হয়েছে। সরকারি সকল সেবা এক প্লাটফর্মে প্রাপ্তির জন্য 'একসেবা' মোবাইল অ্যাপস চালু করা হয়েছে।  বিগত ৩৮ বছরে যে দেশটি মানব সম্পদ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য তেমন সাফল্য দেখাতে না পারলেও ২০০৮ সাল থেকে মাত্র ১৩ বছরে মানব সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে শ্রমনির্ভর দেশ থেকে প্রযুক্তি নির্ভর দেশে রূপান্তরিত হয়েছে।

যদি কেউ সাফল্যে সচেতন হয় তাহলে সাফল্য তার পিছু ছাড়েনা।আমাদের তরুণ মেধাবী প্রজন্ম সাফল্য সচেতন।তারাই স্মার্ট বাংলাদেশ মূল কারিগর। সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার আলোকে গড়ে উঠছে আমাদের আগামীর প্রজন্ম।২০৪১ আগেই তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হবে উন্নত বাংলাদেশ,স্মার্ট বাংলাদেশ। এটাই জাতির প্রত্যাশা।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image