• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১২ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

বর্ষার সুবাসিত চার ফুল


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১:২৮ এএম
সুবাসিত চার ফুল
বর্ষার ফুল

অলোক আচার্য

ফুল চাই -চাই কেয়াফুল! সহসা পথের ‘পরে / আমার এ ভাঙ্গা ঘরে/ কন্ঠ কার ধ্বনিল আকুল/ তখনো শ্রাবণ-সন্ধ্যা/ নিঃশেষে হয়নি বন্ধ্যা-----/থেকে থেকে ঝরিতেছে জল;/ পবন উঠিছে জেগে/ বিজলী ঝলিছে বেগে------/ মেঘে মেঘে বাজিছে মাদল। কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর এই ’কেয়া ফুল কবিতাটি মনে করিয়ে দেয় কেয়া ফুলের সৌন্দর্য এবং সেই সাথে বর্ষার ঝর ঝর বাদল দিনের কথা। বর্ষা হলো মিষ্টি ঘ্রাণযুক্ত বহু ফুলের ঋতু। এসব ফুলের অধিকাংশই আবার সাদা। আর সাদা ফুল অধিকাংশই হয় তীব্র ঘ্রাণযুক্ত। এর মধ্যে অন্যতম হলো কেয়া, কদম বেলী,টগর,রঙ্গন, দোলনচাঁপা, কাঠগোলাপ,গন্ধরাজ ও বকুল। এর মধ্যে চারটি ফুলের বিস্তারিত পাঠকদের জন্য দেওয়া হলো- 

কদম ফুলঃ
বৃষ্টি এলেই মনে পরে কদম ফুলের কথা। আর ঠিক সেই কারণে গানে বা কবিতায় বা গল্পে বর্ষার বর্ণনায় এসেছে কদম ফুলের কথা। সোজা দাড়িয়ে থাকা গাছে ডালে ডালে ফুটে থাকে কদম ফুল। বর্ষা মানে যেমন বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ, তেমনি বর্ষা মানেই কদমের ডালে ডালে ফুল, কদমের রেণুর বর্ষার জলে ভেসে চলা। বর্ষা মানেই যেন কদম ফুলের অনিবার্য আগমন। ঋতুচক্রে এখন বাংলায় বর্ষাকাল চলছে। আর বর্ষার প্রথম মাস হলো আষাঢ়। আষাঢ়ের প্রথমেই ফোটে কদম ফুল। কবিগুরুর সুরে তাই গেয়ে উঠি, বাদল দিনের প্রথমও কদম ফুল করেছো দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান, মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে রেখেছি ঢেকে তারে, এই যে আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম সোনার ধান’। রাধাকৃষ্ণের বিখ্যাত প্রেমসংগীতে আছে প্রাণ সখীরে ওই শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে? সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে সাদার শুভ্রতা আর সোনালি রঙ্গে লম্বা সাদার আবরণে ঝুলে থাকে কদম ফুল। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কদম ফুল ছিঁড়ে শিশু সুলভ খেলাধূলায় মেতে ওঠে। কদম গাছ লম্বাকারভাবে বেড়ে ওঠে এবং বহু শাখ-প্রশাখায় বিভক্ত। পাতা হয় বড় বড়, ডিম্বাকৃতি, উজ্জ্বল-সবুজ, তেল-চকচকে। এর বোঁটা খুবই ছোট। নিবিড় পত্রবিন্যাসের জন্য কদম ছায়াঘন। এই গাছের উচ্চতা ৪০-৫০ ফুট পর্যন্ত হয়। শীতে কদমের পাতা ঝরে এবং বসন্তে কচি পাতা গজায়। কদমের কচি পাতার রঙ হালকা সবুজ। কদমের একটি পূর্ণ মঞ্জরিকে সাধারণত একটি ফুল বলেই মনে হয়। কদম ফুল দেখতে বলের মতো গোল, মাংসল পুষ্পাধারে অজস্র সরু সরু ফুলের বিকীর্ণ বিন্যাস। এই ফুলের রং সাদা-হলুদে।  

কেয়া ফুলঃ 
বর্ষার অন্যতম ফুল হলো কেয়া। কেয়া ফুলকে বলা হয় ফুলের রাণী। যেমন তার রুপ তেমনি ঘ্রাণ। কেয়া ফুল জ্যৈষ্ঠ মাসে ফুটতে শুরু করে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসজুড়ে ফোটে। এটির বেশি দেখা মেলে সেন্টমার্টিন ও সুন্দরবনে। নোনাপানির ধারঘেঁষে শ্বাসমূলে ভর করে দাঁড়িয়ে থাকে কেয়া গাছ। দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী বা সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠে কেয়াবন। এক ধরনের কেয়ার রঙ সোনালি। যার নাম স্বর্ণ কেয়া। কেয়া গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত কান্ড থেকেই শাখা-প্রশাখা গজায়। পুরনো গাছে কান্ডের নিচে শেকড়ের ঝুরি বের হয়ে নতুন গাছের জন্ম নেয়। পাতা লম্বাটে আকারের। কিন্তু এখানকার গাছগুলোর পাতার দু’পাশ কাঁটামুক্ত। পাতাগুলো ৩-৪ মিটার লম্বা ও ৫-৬ সেন্টিমিটার চওড়া।

রঙ্গন ফুলঃ 
আমাদের চারপাশের অতি পরিচিত ফুলের মধ্যে একটি হলো চমৎকার রঙের রঙ্গন ফুল রঙ্গন ফুল যা শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে অতি জনপ্রিয়। এটি মূলত একটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। যারা ফুল ভালোবাসেন তারা রঙ্গন ফুলের প্রেমে পরতে বাধ্য। আমাদের একটি খুব পরিচিত ফুলের নাম হলো রঙ্গন।  ভারত , বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস এবং থাইল্যান্ডেও এ গাছ প্রচুর দেখতে পাওয়া যায়। সাধারণত এরা ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়, তবে এরা সর্বোচ্চ ১২ ফুটের মত লম্বা হতে পারে। সাধারণত লাল ও সাদা এই দুই রঙের রঙ্গন ফুল বেশি দেখা যায়। 

কামিনী ফুলঃ 
বর্ষার সুবাসিত ফুল কামিনী। বৃষ্টিস্নাত দিনে কিংবা অবাধ্য বাতাসের ঝাপটায় কামিনী গাছ থেকে দলবেঁধে ঝরে পড়ে সাদা সাদা পাপড়ি। পরিপূর্ণ পুষ্পিত কামিনী অসংখ্য ফুলের ভারে নুয়ে পড়ে। সুগন্ধি ছড়িয়ে দেয় বাতাসে। কামিনী ফুলের পাঁচ পাপড়ির মাঝে একটি হলদে পরাগ কেশর থাকে। দুধ সাদা এই ফুল গুচ্ছবদ্ধ, অনেকটা লেবুর ফুলের মতো। ফুলে পরিপূর্ণ এই গাছটি যেন চারপাশে মিষ্টি লেবুর সুগন্ধ ছড়ায়। কামিনী বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। গাছের আকার গুল্ম-ঝোপ থেকে মাঝারি হতে পারে। বর্ষার ফুল হলেও বছরে বেশ কয়েকবারই কামিনী ফোটে। কামিনী ফুল গাছ মূলত ক্রান্তীয় এশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার প্রজাতি। চিরসবুজ ছোটখাটো ধরনের গাছ, ৩ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কখনও কখনও গুল্ম আকৃতিরও হতে পারে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image