• ঢাকা
  • বুধবার, ২ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১৭ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

অসহায় নারীদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে কনিকা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১:০৬ এএম
মায়ের কষ্ট দেখে স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দেয় কনিকা

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: বাবাকে হারান ১১ বছর বয়সে কনিকা। এলাকায় কোনো কাজ জোটাতে না পেরে কনিকার মা ফাতেমা বেগম দুই মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে যান ঢাকার টংগী এলাকায়। সেখানে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ভাড়াটে বাসায় ওঠেন ফাতেমা। বাসার কাছে একটি  পোশাক কারখানায় অল্প বেতনের কাজ নেন তিনি।

মেয়ের ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে পূরণ করতে কনিকাকে ভর্তি করেন একটি স্কুলে। ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া হয় তার। সামান্য আয়ে সংসার চলছিল না। মায়ের কষ্ট দেখে স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দেয় কনিকা। সংসারে সহযোগিতা করার জন্য টংগী এলাকার একটি হেয়ার ফ্যাশন কারখানায় কাজ নেয় কনিকা। মা-মেয়ের আয়ে সংসার বেশ ভালোই চলছিল। অভাবের সংসারে মাত্র ১৪ বছর বয়সেই কনিকাকে বিয়ে দেন তার মা।

এক অভাব থেকে আরেক অভাবের সঙ্গী হন তিনি। স্বামীর সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। বিয়ের দুই বছরের মাথায় কন্যা সন্তানের মা হন কনিকা। এরপর কোল জুড়ে আসে আরেকটি কন্যা সন্তান। সংসারে সদস্য বাড়ে কিন্তু রোজগার বাড়েনি। অভাব যেন চারদিক ঘিরে ধরে। সংসারের অভাব মোচনের জন্য ঢাকায় স্বামীকে রেখে নিজ এলাকায়  ফেরেন তিনি।

ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন কনিকা। তার এই স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করেন আরডিআরএস-বাংলাদেশ নামে স্থানীয় একটি এনজিও। সামান্য পুঁজি, সঞ্চিত অভিজ্ঞতা এবং এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু হয় কনিকার পথচলা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা জগন্নাথপুর ভালুকা গ্রামে স্বামীর বাড়ির ওঠানে স্থাপন করেন অভিনয় শিল্পীদের মাথায় ব্যবহার এবং যাদের মাথায় চুল  নেই তাদের মাথা ঢাকার জন্য চুলের টুপি (পরচুলা) তৈরির কারখানা। বিভিন্ন বিউটি পার্লার থেকে সংগ্রহ করেন নারীদের মাথার চুল। ঐ চুল দিয়ে তৈরি করছেন টুপি বা ক্যাপ। সাড়ে তিন বছর আগে শুরু করা ক্ষুদ্র এই শিল্পটি সময়ের পরিক্রমায় বর্তমানে বৃহৎ  আকার ধারণ করেছে। তার উৎপাদিত চুলের টুপি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে ভারতসহ চলে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে।

কঠোর পরিশ্রমী ও আত্মপ্রত্যয়ী এই নারী চুলের টুপি তৈরি করে নিজে  যেমন স্বাবলম্বী হয়েছেন, স্বাবলম্বী করেছেন অন্যদেরও। অতি সাধারণ হয়েও এখন তিনি হয়ে উঠেছেন অসাধারণ। তার হাত ধরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামীণ জনপদের শতাধিক পরিবার।

এ ব্যাপারে কনিকা বেগম বলেন, বিউটি পার্লার থেকে চুল সংগ্রহ করে ঐ চুল দিয়ে টুপি তৈরি করি। যা আমার ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। তিনি আরো বলেন, এক সময় আমি একাই এই কাজ করতাম। প্রশিক্ষণ দিয়ে এখন অনেক শ্রমিক তৈরি করেছি। আমার স্বামী ঢাকায় এই পণ্য বাজার জাতের কাজ করছেন। আমার কারখানায় শ্রমিকের কাজ করছেন এলাকার শতাধিক নারী। তাদের মধ্যে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীও রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিদিন তৈরি হয় কমপক্ষে ৪০-৫০টি টুপি। আর এই পরচুলা বিক্রির টাকায় চলে এসব খেটে খাওয়া শ্রমিকের সংসার। চলে অনেকের পড়াশোনার খরচ। ঘরে বসে মাসে আয় করেন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। প্রত্যন্ত গ্রামের এই কনিকা যেন পথের দিশারি হয়ে দাঁড়িয়েছে অসহায় নারীদের। তিনি এই শিল্পের প্রসারে সরকারের পৃষ্ঠ পোষকতা কামনা করেছেন।

 

ঢাকানিউজ২৪.কম / গৌতম চন্দ্র বর্মন

নারী ও শিশু বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image