• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০১ অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

১৪৫ টাকা মজুরি চা শ্রমিকদের প্রত্যাখান, ফের আন্দোলন


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ২১ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১:১৪ এএম
১৪৫ টাকা মজুরি চা শ্রমিকরা প্রত্যাখান
ঢাকা সিলেট মহাসড়কে ৩০০ টাকা মজুরির দাবী

মোঃ জহিরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার : চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করার পর চলমান অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন। ধর্মঘটের অষ্টম দিনে গতকাল শনিবার সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেল চারটার দিকে এই ঘোষণ দেন চা-শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল। 

এর তিন ঘণ্টা না যেতেই সাধারণ চা-শ্রমিকদের রোষানলে পড়ে এবং বিভিন্ন ভ্যালি কমিটির সমর্থন না পেয়ে আবার ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চা-শ্রমিক ইউনিয়ন।

 শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উল্টো সুর  নৃপেন পালের ঘোষণাতেই ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে  গতকাল  সরকারের পক্ষ থেকে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুস শহীদ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে বসেন চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।

 বৈঠকে চা-শ্রমিকদের মজুরি ১২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে সরকারের এই প্রস্তাব কে প্রত্যাখান করে শ্রমিকরা। 


গতকাল শনিবার  ৩  ঘন্টা পর  সন্ধ্যা ৭ টার দিকে সিদ্ধান্ত উল্টে যায়। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মান জানাই। ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর বিভিন্ন চা-বাগান থেকে পঞ্চায়েত কমিটি ও ভ্যালি কমিটির নেতারা আমাদের ফোন দিয়ে জানান, ১৪৫ টাকা মজুরি মেনে নেবেন না জানিয়ে শ্রমিকেরা বাগানে বাগানে আন্দোলন শুরু করেছেন। 

শ্রমিকেরা বৈঠকের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তাই আমরা শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি । 

এসময় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান শ্রীমঙ্গলে একটি প্রোগ্রামে এসেছিলেন তিনিও তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে শ্রমিকরা ওনাকে  এড়িয়ে যান। পরে তিনি উপজেলা পরিষদের ইউএনও কার্যালয়ে বসে সাংবাদিকদের বলেন,  তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৪৫ টাকার মজুরি মেনে নিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন,  শ্রমিকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাদের সুখ- দুখে কথা বলার জন্য অনুরোধ করলে তিনিও অল্প কিছুনের ভিতরে কথা বলবেন বলে জানিয়েছে।

 বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মনু ধলাই ও লস্করপুর ভ্যালির নেতারা। তাঁরা তখনই ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ধর্মঘট প্রত্যাহার করার খবর শুনে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের চৌমুহনায় অবস্থান নেন চা-শ্রমিকেরা। সেখানে শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও চুনারুঘাটের চা-শ্রমিকেরা রাস্তায় বসে স্লোগান দেন। 

চা-শ্রমিক নারী নেত্রী খায়রুন আক্তার বলেন, ‘ইউনিয়নের নেতারা কাউকে কিছু জিজ্ঞেস না করেই কীভাবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন? আমরা শ্রমিকেরা চাঁদা দিই, সেই চাঁদায়  শ্রমিক নেতারা নেতাগিরি করেন। আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন তাঁরা প্রত্যাহার করতে পারেন না। আমরা সেটা মেনে নেব না।’ প্রয়োজনে রাত পথে বসে থাকবো।  

লস্করপুর ভ্যালির সাধারণ সম্পাদক অনিরুদ্ধ বাড়াইক বলেন, আমাদের লস্করপুর ভ্যালির ২৩টি চা-বাগানের বাগান পঞ্চায়েত নিয়ে আমরা বসেছিলাম। তাঁরা সবাই ১৪৫ টাকা মজুরিতে ধর্মঘট প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানান। আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির মাত্র ৪ জন লোক আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করে এভাবে ১৪৫ টাকায় রাজি হলেন কীভাবে বুঝলাম না। ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলছে, চলবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ধর্মঘট ছাড়ছি না।’

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয় কমিটি প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি। এখন শ্রমিকেরা যদি সেটা মেনে না নেন, আমরা তাঁদের কীভাবে বোঝাব? চা-শ্রমিকেরা আমাদের প্রাণ, তাঁরা আমাদের নেতা বানিয়েছেন। তাঁদের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব আমাদের দিতে হবে। আমরা শ্রমিকদের পাশে আছি। সারা দেশে ধর্মঘট চলবে।’ 
 নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা  ‘আমাদের বৈঠকে ডেকে নিয়ে একধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমাদের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেই আন্দোলন প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছিলাম।’

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের কার্যালয়ে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে শ্রম অধিদপ্তর। 

শনিবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের কার্যালয়ে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে শ্রম অধিদপ্তর। 

মনু ধলাই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরি বলেন, ‘আমাদের শ্রমিকেরা ১৪৫ টাকা মজুরি মানছেন না। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলে দিতে চাই, যদি বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে থাকে তাহলে আমরাও স্বাধীন হয়ে বাঁচতে চাই। আমাদের কেন মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন?’ তিনি বলেন, করোনাকালে যখন সবকিছু বন্ধ ছিল, তখনো আমাদের শ্রমিকেরা করোনার ভয় কাটিয়ে কাজ করে গেছেন। আমাদের শ্রমিকেরা কত কষ্ট করে কাজ করেন। আমরা এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের ২৩টি চা-বাগানে কাজ বন্ধ থাকবে। দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চা শ্রমিকদের  মজুরি ১২০ থেকে ২৫ টাকা বাড়িয়ে মজুরি  ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়াতে শ্রমিকদের সন্তানরা প্রতিবাদে গতকাল  শনিবার রাত সাড়ে ৭  টার দিকে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনাতে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নেয় । প্রায় দু' ঘন্টা ব্যাপী শহরে মূল পয়েন্টে  যানচলাচলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় ।  পরে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ রাত ৯ টার দিকে  তুলে নিলে শহরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image