• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৬ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২০ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটে ভোগান্তিতে নগরবাসী


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১০:১৪ এএম
গ্যাস
ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট দেখা দেয়ায় ভোগান্তিতে নগরবাসী।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্যাস না পেয়ে বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলায় রান্নার কাজ সারতে হচ্ছে কষ্ট করে। বেশি আর্থিক সংকটে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষে। পেট্রোবাংলা বলছে, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের সমস্যা দেখা দেয়ার পাশাপাশি রুপান্তরিত তরল গ্যাস এলএনজির একটি সংযোগ লাইন ভেঙে যাওয়ায় এই গ্যাস সংকট। আগামী ২১শে জানুয়ারি পর এমনটা থাকবে না বলেই আশ্বস্থ করছেন তারা।

নগরীর হাতিরপুলের বাসিন্দা শম্পা হাসান। চুলায় রান্না করছেন মাগুর মাছ। কিন্তু তা গ্যাসের চুলায় নয় বিদ্যুতচালিত চুলায়। তিনি বলছেন, সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তার বাসায় গ্যাস থাকছে না। 

শুধু সম্পা হাসানই নয় এমন অনেক গৃহিনী দিনের বেশির ভাগ সময়টাতে গ্যাস না পেয়ে আছেন ঝামেলায়। অনেকের সামর্থ না থাকায় বিকল্প রান্নার ব্যবস্থাও করতে পারছেন না।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার সাথে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালিতে তরল রুপান্তরিত গ্যাস এলএনজির স্টোরেজ-এফএসআরইউ এর একটি সংযোগ লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রেও সমস্যা হওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বলেন, দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া একটা সঙ্কট শুরু হয়েছে। তারা নানা প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে দুটি কুপ ওয়ার্কওভার করে ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলছে। বিবিয়ানা উৎপাদনে এলে আর এলএনজি টার্মিনাল চালু হলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

তবে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক খোলা বাজারে এলএনজির দাম তিনগুন বেড়ে গেছে। ফলে সরকারও এলএনজি কেনার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। তাতে এলএনজির সরবরাহও কম রয়েছে। তার প্রভাবে সামগ্রিক গ্যাসের সরবরাহও কম। তিতাসের তথ্য মতে, দৈনিক ২২শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও এখন তা নেমে এসছে ১৫শ' মিলিয়ন ঘনফুটে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এক নোটিশ দিয়ে জানিয়েছ এই সংকট আগামী ২১শে জানুয়ারি পর্যন্ত থাকবে।

জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে দৈনিক ৪৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে ২৫০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। গত দুই-তিন বছর ধরে দৈনিক ৪১০-৪৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ৩১০-৩৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। অথচ গত ৯ জানুয়ারি ২৫৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। গত ১৮ নভেম্বর সামিটের এলএনজি টার্মিনালের মুরিং ছিঁড়ে যায়। এতে টার্মিনালটিতে কোনো এলএনজিবাহী কার্গো ভিড়তে পারছে না। এতে দৈনিক প্রায় ৪০-৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি মাসের শেষ বা আগামী মাসের শুরুর দিকে এটি ফের চালু না হওয়া পর্যন্ত দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি কমানো যাবে না। এর মধ্যে গতকাল বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে কূপ সংস্কারের জন্য প্রতিদিন ৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ২১ জানুয়ারিতে এই সংস্কার শেষ হলে আগের চেয়ে কিছু বেশি গ্যাস পাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে গ্যাসের বিদ্যমান সংকটের তীব্রতা চলতি জানুয়ারিতে কমছে না। 

ঢাকানিউজ২৪.কম / এসডি

জাতীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image