• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

সবুজে মোড়ানো পাহাড়ি ক্যাম্পাসের শীত


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৫১ পিএম
সবুজে মোড়ানো
পাহাড়ি ক্যাম্পাসের শীত

নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রকৃতি ও পরিবেশটা পুরোপুরি গ্রামীণ আবহে তৈরি। এ কারণে শীতের প্রকোপটা এখানে একটু বেশি। ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট মোড় কিংবা কাটাপাহাড়ের পথ ধরে হাঁটলেই শীতের অনুভূতি বেশ ভালোভাবেই বোঝা যায়। গরম ভাঁপা পিঠা। ঝরে পড়া পাতা। হরেকরকম পাখির কলরব। এভাবেই পাহাড় আর সবুজে মোড়ানো ক্যাম্পাসে আসে শীত। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও শীত ঋতু উপভোগ করার চেষ্টা করেন নিজেদের মতো করে। সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের আড্ডার কেন্দ্রস্থল হয় শহিদ মিনার, লেডিস ঝুপড়ি, কলা ঝুপড়ি, জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্পট। কনকনে শীতের আমেজটা বাড়িয়ে দেয় ক্যাম্পাসের ভাসমান বাহারি পিঠার দোকানগুলো। শীতের পিঠার স্বাদ নিতে দোকানগুলোতেও ভিড় জমে শিক্ষার্থীদের।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রুমি আহমেদ বলেন, হেমন্তের শেষে শীতের জানানটা দিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ি হিম বাতাস আর শহিদ মিনার চত্বরে বসা ভাসমান বাহারি পিঠার দোকানই যথেষ্ট। স্থায়ী কোনো টিএসসি না থাকায়, বিকেলের পর থেকে শহিদ মিনারেই জমে উঠত আমাদের আড্ডা। গিটার, বাঁশি, হারমোনিকা, আর হাতের তুড়িতেই বন্ধুদের কণ্ঠে গান, মেতে উঠে নানা গল্পে, নানা কথায়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ শিকদার যেমনটা বলছিলেন, চারদিকের পাহাড় আর সবুজের অরণ্য ঘেরা আমাদের ক্যাম্পাসে শীতের সময়টা আলাদা করে টের পাইয়ে দেয়। সবকিছুকেই যেন শীতের কুয়াশা তার বিশাল চাঁদর দিয়ে ঢেকে এক মায়াবী হাতছানির সৃষ্টি করে। ভোরে ঘুম ঘুম চোখে গরম কাপড় জড়িয়ে ক্লাস করতে যাওয়াটা আমার কাছে বেশ উপভোগ্য। মধ্যরাতে বন্ধুদের সঙ্গে দলবেঁধে পাহাড় ঘেরা রাস্তা দিয়ে হাটা, ছোটছোট দোকানে বসে চা খাওয়া, দল বেঁধে বেসুরে গলায় গান গাওয়া এ যেন মনে হয় নিজেকে নতুন এক জগতের মধ্যে আবিষ্কার করা। 

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিহা ইবনাতের কণ্ঠে ভিন্ন সুর। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়েই থাকেন পরিবারের সঙ্গে। বললেন, ক্যাম্পাসের শীতটাও প্রতিবার নতুনত্বের আলোড়ন যোগায়। এক নম্বর গেইটের রাস্তায় শীতের কাপড় জড়িয়ে হাটা, মউর দোয়ানের এক্সট্রা কনডেন্সড মিল্কের মিষ্টি চা, গরম আলুর চপ, স্টেশন থেকে আরো হাঁটি কিছুদূর, লেবু-রঙ চা’র জন্য। আর আইটি ক্যান্টিনের সুগন্ধি এলাচ চা, ফরেস্ট্রির কুয়াশা, কারো ঠাণ্ডা-বরফ হাত প্রিয় তার নিজের হাতে নিয়ে রাখে। কারণ ভালোবাসায় অনেক উষ্মতা। প্রিয় ও প্রেয়সীর মিলিয়ে কেনা একই রঙের শাল, কখনো রাস্তায় কোনো গেরুয়া রঙের শাল গায়ে হিমুবেশীর বির্ভাব! কেউবা আরাম করে ধোঁয়া উড়ায়। কুয়াশা আর ধোঁয়া মিলে মিশে যায়। ঝুপ করে সন্ধ্যা নামে আমাদের এই ক্যাম্পাসে। সব মিলিয়ে অন্যরকম শীতের ক্যাম্পাস।   

বুদ্ধিজীবী চত্বরের ঠিক পশ্চিম পাশে নির্মিত ‘জয় বাংলা’ ভাস্কর্য আর শহিদ মিনারকে ঘিরে মধ্য রাত অবধি আড্ডা। চায়ের চুমুকে গল্প, কারো প্রাণ খোলা হাসির শব্দ, গিটারের টুংটাং শব্দের সঙ্গে ভেসে আসে কতো গানের সুর। আবার ভোরের কুয়াশা ঘেরা প্রকৃতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মেতে ওঠে ক্যাম্পাস। গাছে গাছে শালিক, বুলবুলি আর চুড়ই পাখির তিড়িংবিড়িং নাচের সঙ্গে ডাহুক, কাকাতোয়াদের কিচিরমিচির ডাক। দুপুর গড়িয়ে বিকেল, তারপর সন্ধ্যা। সূর্য ডোবার আগ থেকেই কুয়াশা আঁকড়ে ধরে পাহাড়পুরীর পুরো এলাকা। দেখে চেনার উপায় থাকে না একুশ শত একরের সুবিশাল ক্যাম্পাসকে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

শিক্ষা বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image