• ঢাকা
  • রবিবার, ১০ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২৩ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

মাত্র ৫০ হাজার টাকা হলেই বাঁচবে অসহায় রাহুলের জীবন


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:০৭ পিএম
বাম পায়ের হাঁটুর কাছে হাড় ভেঙে যাওয়া রা
কৌড়াতলী গ্রামের ঋষিপাড়ার রাহুল

মনিরুজ্জামান মনির,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের কৌড়াতলী গ্রামের ঋষিপাড়া। রাহুলের বাবা দুর্জধন ঋষি পেশায় মুচি, মা উষা রানী ঋষি অন্যের বাড়িতে  কাজ করেন। ৫০ হাজার টাকা হলেই সুস্থ হয়ে উঠবে রাহুল ।

সাত বছরের রাহুলকে জিজ্ঞেস করলে তুমি কি আবার খেলতে চাও- এমন প্রশ্নে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে । একই প্রশ্ন আবার করা হলে মাথা নাড়িয়ে তার ‘না’ সূচক উত্তরে উপস্থিত  মানুষের মনে দাগ কাটল। খেলায় যেন কত ভয়! খেলতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রাহুল বিছানায় কাতরাচ্ছে  দুই মাস। এখন রাহুলের বেঁচে থাকা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে ।

পরিবারের লোকজন জানান, টাকার অভাবে পরিবারের  প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করাতে পারছেন না। বাম পায়ের হাঁটুর কাছে হাড় ভেঙে যাওয়া রাহুলের কবিরাজি চিকিৎসা চলছে। তবে দিনকে দিন তার অবস্থার অবনতির দিকে। সঠিক চিকিৎসা পেতে দেরি হলে বড় ধরণের ক্ষতির শঙ্কার কথা চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানালেন পরিবারের লোকজন। অথচ মাত্র ৫০ হাজার টাকা হলে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে রাহুল আবার অন্যদের মতো খেলায় মাততে পারবে। রাহুলরা দুই বোন  এক ভাই। ভাইবোনদের মধ্যে সে সবার ছোট।

রাহুলদের মাটির ঘরে গিয়ে দেখা যায়, বিছানায় শুয়ে আছে সে। পড়ালেখা কিংবা খেলায় মত্ত থাকা আশেপাশের শিশুরাও তখন ছুটে আসে সংবাদকর্মী  আসার খবরে। ছুটে আসেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সহ আশেপাশের অনেকে।

স্থানীয়রা ও পরিবারের লোকজন জানান, ১ নভেম্বর সকালে বাড়ির কাছেই খেলছিলো রাহুলসহ কয়েকজন  শিশু। রিকশার একটি টায়ার নিয়ে খেলতে খেলতে তারা চলে যায় আখাউড়া-চান্দুরা সড়কে। এ সময় অটোরিকশার চাপায় পা ভেঙে যায় রাহুলের। ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়ার চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন অস্ত্রোপচার করার। কিন্তু টাকার অভাবে সেটা করানো যাচ্ছে না।  

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন  যে এটা অপারেশন ছাড়া ভালো হবে না।  পাশাপাশি এও বলে দিয়েছেন যে দ্রুত অপারেশন না করা গেলে পায়ে পঁচন ধরা সহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।’ রাহুলের মা বলেন আমার ছেলের চিকিৎসায় যদি কেউ  এগিয়ে আসে তাহলে ভালো হয়। আমার ছেলে যেন বেঁচে থাকে সেটা আমি চাই।’

ঋষিপাড়ার বাসিন্দা নেপাল ঋষি বলেন, ‘আমাদের এলাকার মধ্যে এ পরিবারটি সবচেয়ে গরিব। মেয়ের বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণের কানের দুল বিক্রি করে রাহুলের চিকিৎসা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের জন্য যে টাকা দরকার তাদের পক্ষে কোনোভাবেই সেটা জোগার করা সম্ভব না।’

উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রাজু ঋষি বলেন, ‘পরিবারটি একেবারে দরিদ্র। অস্ত্রোপচার করতে না পেরে কবিরাজি চিকিৎসা চালানো হচ্ছে রাহুলের। কিন্তু ভেঙে যাওয়ার হাড় জোড়া লাগার কোনো লক্ষণ নেই। বিত্তবানদের সহযোগিতা ছাড়া রাহুলের চিকিৎসা সম্ভব নয়।’

ঢাকানিউজ২৪.কম /

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image