• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৭ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২০ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

কুমিল্লায় হাট-বাজার জুড়ে শীতে গরম কাপড়ের ব্যবসা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২:২৬ পিএম
শীতে গরম কাপড়ের ব্যবসা
গরম কাপড়ের ব্যবসা

কুমিল্লা প্রতিনিধি: শুরু হয়েছে শীতের মওসুম। শীতের তীব্রতাকে পূঁজি করে কুমিল্লার লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, লালমাই ও বরুড়া উপজেলার হাটে-বাজারে ও সড়কের ফুটপাত ও বিপনী বিতান গুলোর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নানা রংয়ের গরম কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছে। শীত একেবারই পড়েনি এমনটা কিন্তু ঠিক নয় তবে যতটা পড়ার কথা ছিলো ততটা পড়ছে না।

অতীত বছরগুলোতে এই সময় যে ভাবে শীত জাঁকিয়ে বসছিলো এবার কিন্তু সেটা দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিবছরের ন্যায় শীত মৌসুমে গরম কাপড় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করেছে বিপুল অংকের টাকা। অথচ চলমান সময়ে শীতের তীব্রতা না হওয়ায় ওই ব্যবসায়ীরা চরম হতাশায় পড়েছে।

ব্যবসায়ীদের একাধিক সূত্র জানায়, জেলার দক্ষিনাঞ্চলের শহরের বিভিন্ন বিপনী বিতান ও সড়কের ফুটপাতে গরম কাপড়ের দোকান গুলোতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকদের তৎপরতা কিছুটা শুরু হয়েছে। সাধারনত এ অঞ্চলের ভাদ্র মাসে বড় অমাবস্যার পর থেকে শীতের হাওয়া বইতে শুরু করলেও অগ্রহায়ন মাসেও শীতের দেখা নেই।

তবে কিছুটা তীব্রতা শুরু হবে অগ্রহায়ন মাসের শেষ দিকে। পৌষ ও মাঘ মাসে তা আরো তীব্র রূপ নিবে বলে ধারণা অনেকের। শহরের বিপনী বিতানগুলোতে বেশী দামে কেনার সামর্থ না থাকলেও স্বল্প আয়ের মানুষের ভীড় থাকবে পুরানো শীতের বস্ত্রের দোকানে। শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে গরম পোষাকেরও চাহিদা এবার বাড়বে। বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায় বাজারে প্রচুর গরম কাপড় আমদানী হলেও দাম বেশি হওয়ায় দরিদ্র মানুষ ক্রয় করতে পারবে কিনা তা আগামী  কিছুদিন পর জানা যাবে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, জেলার ৫টি উপজেলার শীতবস্ত্রের পাইকারী ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমান দেশের গ্রামীন মন্দা অর্থনীতি, প্রায় ২ বছর যাবৎ করোনার প্রভাবে ও নানাহ কারনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে শীতের পোষাকের বাজারে। খুচরা বাজার না জমলেও এখন পাইকারী বাজার কিছুটা তৎপর হয়ে উঠেছে। পাইকারী দামের সাথে পরিবহন খরচসহ পথে পথে চাঁদাবাজির কারনে শীতবস্ত্রের দাম অনেকটা বাড়তি যাবে।

ওই ব্যবসায়ীরা আরও জানান, গরম কাপড়ের প্রধান বাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে গরম কাপড়ের লট আনতে খরচ পরত ৮/১০ হাজার টাকা। এবছর একই মালে খরচ পড়ছে ১৭/১৮ হাজার টাকা। আবার কখনো কখনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতায়সহ নানাহ কারনে দ্বিগুন টাকা ভাড়া গুনতে হয় ব্যবসায়ীদের।

লাকসাম রেলওয়ে জংশন বাজারের শীত বস্ত্র ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেশী-বিদেশী শীতের পোষাকের জন্য জেলার বাহির থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারনায় গরম কাপড় বেচাকেনার হাট জমতো এখানে। বর্তমানে প্রধান মোকাম চট্টগ্রামে পাইকারী দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বিক্রেতারা মালামাল সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে।

অপর দিকে এখনো তেমন শীত না পড়ায় এবং দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। বিকেল পর্যন্ত বেচাকেনা না থাকলেও সন্ধ্যার পর বহিরাগত ক্রেতাদের আনাগোনায় সামান্য বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় পৌর হাটবাজার ব্যবসায়ীরা জানায়, জেলা দক্ষিনের উপজেলাগুলোর বিপনী বিতানসহ অলি-গলিতে গড়ে উঠা ছোট বড় মার্কেট ঘুরে দেখা যায় সো-কেইচে প্রচুর দেশী-বিদেশী শীতের পোষাক শোভা পাচ্ছে। শীতের তীব্রতা আস্তে আস্তে বাড়লেও ক্রেতা না থাকায় গরম কাপড়ের বাজার এখনো জমেনি। লাকসাম পৌর হর্কাস মার্কেট, রাজঘাট, জংশন বাজার, মনোহরগঞ্জের-নাথেরপেটুয়া, খিলাবাজার, বিপুলাসার, লক্ষনপুর, নাঙ্গকোটের বাংঙ্গড্ডা, মাহিনি, বক্সগঞ্জ,দৌলখাঁ,ঢালুয়া, মানরা বাজার,লালমাই উপজেলার বাগমরা, হরিশ্চর, ভুচ্ছি, গৈয়ারভাঙ্গা, যুক্তিখোলা, বরুড়া উপজেলার ঝলম,আমড়াতলি, শিলমুড়ি, পয়ালগাছা, ও ৫টি উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাটে বিপনী বিতান এমনকি ফুটপাতে এখনো শীতবস্ত্রের বিক্রি জমে উঠেনি। বড় মার্কেটে দাম বেশী হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা ফুটপাতের দিকে ঝুঁকবে বলে অভিমত তাদের। তবে দাম দর আর পছন্দের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ থাকছে অনেকটা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শীত বস্ত্র কিনতে আসা জাহাঙ্গীল আলম, কামাল হোসেন, আবুল কালাম , আলমগীর, জালাল মিয়া জানান, শীত পড়তে শূরু করায় পরিবারের সদস্যদের জন্য গরম কাপড় কিনতে এসেছি। কিন্তু একই পোষাক একক দোকানে দামের তারতম্য আকাশ পাতাল। ছোট বাচ্চার জেকেট এক দোকানে ৩০০, অন্য দোকানে ৭০০/১০০০ টাকা দাম হাকা হচ্ছে। আবার অন্য দোকানে তা ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। এতে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। দেশী-বিদেশী বাহারী গরম কাপড় আসলেও বিদেশী পোষাকের দিকেও ক্রেতাদের নজর বেশি।

জলবায়ু পরিবর্তন এবং দেশের করোনা সংকটময় এ মূহূর্তে ঋণ করে পরিবারের সদস্যদের জন্য গরম কাপড় কিনতে এসেছি কিন্তু ওই বাজারের গরম কাপড় ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। অনেক কষ্টে ধার-দেনা করে দোকানে মাল উঠিয়েছি কিন্তু শীতের তিব্রতা না বাড়লে এবং  বিক্রি এখনো শুরু না হওয়ায়  মহাজনসহ ঋণের কিস্তি পরিশোধে আতংকে রয়েছি ।

ঢাকানিউজ২৪.কম / মশিউর রহমান সেলিম/কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image