• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৯ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

আশুগঞ্জ খাদ্য গুদামে কমিশন নেয়ার বিষয়টি ওপেন সিক্রেট, বিভাগীয় কর্মকর্তার গুদাম পরিদর্শন


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৪ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:১৭ পিএম
খাদ্য গুদামে কমিশন নেয়ার বিষয়টি ওপেন সিক্রেট
বিভাগীয় কর্মকর্তার গুদাম পরিদর্শন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ সরকারীভাবে বিবর্ণ চাল নেয়ার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা আমলে নিচ্ছেনা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ পরিবেশন হওয়ার পর তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত সোমবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।আশুগঞ্জ খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে চাল সংগ্রহের নামে মিল মালিকদের কাছ থেকে বিবর্ণ চাল নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আশুগঞ্জ খাদ্য গুদাম সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে আশুগঞ্জ খাদ্য গুদামকে ২৯ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন বোরো চাল সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয় খাদ্য মন্ত্রনালয় থেকে। এর মধ্যে সিদ্ধ চাল ৪০ টাকা কেজি দরে ২২ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন এবং ৩৯ টাকা কেজি দরে আতব চাল ৬ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন।

গত ২৭ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন সিদ্ধ এবং ৫ হাজার ৪৪৮ মেট্রিক টন আতব চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া ২৭ টাকা কেজি দরে ৫৭৭ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করার কথা থাকলেও গত ২৭ জুলাই পর্যন্ত কৃষকদের কাছ থেকে মাত্র ৬৫ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

চলতি বছরের ১৬ মে থেকে আশুগঞ্জ খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ শুরু হয়। আশুগঞ্জ খাদ্য গুদামের অধীনে এখানকার ১৮৫টি রাইস মিল থেকে এই চাল সংগ্রহ করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬ টি ড্রায়ার ও (অটোমেটিক রাইস মিল) রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে গুদাম কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে মিল মালিকরা নিম্নমানের ও বিবর্ণ চাল গুদামে সরবরাহ করছেন। এজন্য গুদাম কর্তৃপক্ষকে তারা প্রতি কেজি চালে ৫৭ পয়সা করে কমিশন দিচ্ছেন।

অভিযোগকারীরা জানান, আশুগঞ্জ খাদ্য গুদামের কমিশন নেয়ার বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। গুদামে চাল সরবরাহ করে পাওয়া চেক ব্যাংকে ক্যাশ হওয়ার পরই মিল মালিকরা গুদাম কর্তৃপক্ষকে কমিশনের টাকা দিয়ে দেন।

অভিযোগকারীরা বলেন, খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ তাদের তালিকাভুক্ত মিল মালিকদের সাথে কেজিতে প্রতি ৫৭ পয়সা কমিশন নিয়ে গুদামে সরকার নিষিদ্ধ নিম্নমানের বিবর্ণ চাল সংরক্ষণ করছেন।

এতে করে বছরে কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য চলে আশুগঞ্জ খাদ্য গুদামে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মিল মালিক বলেন, প্রতি কেজি চাল সরবরাহ করতে বর্তমানে ৫৭ পয়সা করে কমিশন দিতে হয় গুদাম কর্তৃপক্ষকে। তারা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে আশুগঞ্জ উপজেলার ১৮৫টি মিল মালিকের কাছ থেকে ২৯ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন বোরো চাল সংগ্রহ করা হবে। এই চাল সংগ্রহে প্রতি কেজিতে ৫৭ পয়সা করে মোট এক কোটি ৬৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯০০ টাকা কমিশন আদায় হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা চাতাল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ভূইয়া স্বপন কমিশন নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এ বছর সরকার নির্ধারিত চালের মূল্যের চেয়ে বাজার মূল্য বেশী হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিবর্ণ চাল গুদামে নেয়ার কথা নয়। বিবর্ণ চাল নেয়ার বিষয়টি আমিও শুনেছি। আশুগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সুলাইমান মিয়া বলেছেন, আমি মাত্র মাস দেড়েক আগে এখানে যোগদান করেছি। ড্রায়ারের ( অটোমেটিক রাইস মিল) চাল ক্রিম কালারের হয়। কমিশন নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কমিশন বাণিজ্য কিংবা নিম্নমানের চাল সংগ্রহের অভিযোগ সত্য নয়। বিবর্ণ চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠার পর তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গত সোমবারই তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, খাদ্য গুদামে বিবর্ণ চাল নেয়ার অভিযোগ উঠার পর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ তিনি খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করেছেন। যেহেতু একটি অভিযোগ উঠেছে তাই তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / মনিরুজ্জামান মনির/কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image