• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৯ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

হাওরের অলওয়েদার সড়ক পর্যটকদের পদচারণার অপেক্ষায়


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০১:৪৬ পিএম
অলওয়েদার সড়ক পর্যটকদের পদচারণা
অলওয়েদার সড়ক পর্যটক

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ- পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা চারদিনের সরকারি ছুটিতে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতি কিশোরগঞ্জের হাওর জনপদ। বন্যার ধকল কাটিয়ে পর্যটক বরণে সাজ সাজ রব ওঠেছে সেখানে। সৌন্দর্যের বিপুল পসরা মেলে হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে হাওর। পর্যটকদের তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হওয়া কিশোরগঞ্জের হাওরের প্রধান আকর্ষণ ইটনা থেকে মিঠামইন হয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা পর্যন্ত হাওরের বিশাল জলরাশির বুক চিরে নির্মিত দীর্ঘ ৩৫ কিলোমিটার অলওয়েদার সড়ক। সৌন্দর্য্য, বিনোদন আর প্রশান্তির এক অনন্য ঠিকানা হয়ে ওঠেছে হাওরের এই অলওয়েদার সড়ক।

এবারের ভরা বর্ষায় সরকারি বন্ধ ও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুরা যান্ত্রিক শহরের একটু ক্লান্তি দূর করতে ছুটে আসবেন প্রকৃতির লীলাভূমি কিশোরগঞ্জের হাওরে- এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পর্যটন সম্ভাবনার এ বিষয়টি মাথায় রেখেই পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুন করে গড়ে ওঠেছে রিসোর্ট, রেস্টুরেন্টসহ নানা পর্যটন সেবা প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ গত ৮ জুলাই মিঠামইন সদর ইউনিয়নের কামালপুরে রাষ্ট্রপতির বাড়ি সংলগ্ন ঘোড়াউত্রা নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে যাত্রা শুরু করেছে অত্যাধুনিক হাওড় রিসোর্ট। হাওরে সৌন্দর্যের এক দুর্নিবার আকর্ষণের নাম অলওয়েদার সড়ক। দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রত্যহ সেখানে ছুটে যান সৌন্দর্য্য আর ভ্রমণপিপাসুরা। বাংলাদেশের কোথাও হাওরের মাঝখানে এত দীর্ঘ সড়ক নেই।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এঁর স্বপ্নের সড়কটি দেখার পাশাপাশি সড়কের পাশে বসে বুকভরে নির্মল বাতাস নেওয়ার প্রশান্তি সত্যিই অসাধারণ। হাওরের অলওয়েদার সড়ক ছাড়াও হাওরে পর্যটকদের দেখার মতো বেশ কিছু মনোরম জায়গা রয়েছে। মিঠামইনের কামালপুরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়ি, মিঠামইনের প্রান্ত সীমায় দিল্লীর আখড়া, মিঠামইনের ঘাগড়ায় গোধরগোসামীর আখড়া অষ্টগ্রামের কুতুবশাহী মসজিদ, ইটনার শাহী মসজিদ, জয়সিদ্ধিতে র্যাং লার আনন্দমোহন বসুর বাড়ি, কাঠুইরে গুরুদয়াল সরকারের বাড়ি, নিকলীর হাওর, ছাতিরচরের করচবন, করিমগঞ্জের বালিখোলার হাওর, হাসানপুর সেতু, মরিচখালী হাওর ইত্যাদি স্থানে ভিড় জমান পর্যটকেরা। বর্ষার হাওর এখন কূলহীন সাগর। চারদিকে বিশাল জলরাশি।

এ জলরাশির বুকে বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোর একেকটাকে ছোট দ্বীপের মতো লাগে। দূর থেকে মনে হয়, কচুরিপানা হয়ে যেন পানিতে ভাসছে গ্রামগুলো। হাওরজুড়ে গলা ডুবিয়ে থাকে হিজল গাছের সারি।এই সৌন্দর্য মন কাড়ে যে কারও। পানির নিচ থেকে জেগে ওঠা করচের বন, হাঁসের ডিমের মতো সাদা ফল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বরন গাছ, কিংবা গাঙ্গেয় মিঠা পানিতে শুশুকের লাফ-ঝাঁপ দেখলে বিনোদিত না হয়ে পারা যায় না। ফলে বর্ষায় হাওরের সৌন্দর্য্য অবগাহনে হাজারো পর্যটক ভিড় জমান।

বালিখোলা ঘাট, মিঠামইন বাজারের লঞ্চঘাট, নিকলী বেরিবাঁধ ইত্যাদি পয়েন্টে স্পিডবোট, ট্রলার আর ইঞ্জিনচালিত নৌকার বহর লেগেই থাকে। ফলে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার সেখানে প্রচুর পর্যটক সমাগম ঘটবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সরকারি ছুটিতে বিনোদনের খোঁজে হাওরে আসা পর্যটকরা জীবনের নানা জটিলতা ও কষ্ট খানিকটা সময় ভুলে আনন্দে নিজেদের ভরিয়ে তুলবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সবাই।

ঢাকানিউজ২৪.কম / বিজয়কর রতন/কেএন

পর্যটন বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image