• ঢাকা
  • শনিবার, ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৪ ফেরুয়ারী, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ময়মনসিংহে বিএনপি-আ'লীগের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, বাস ভাংচুর


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৫৪ এএম
ময়মনসিংহে বাস ভাংচুর
বিএনপি-আ'লীগের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ: বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবিতে আগামী ১৬ জানুয়ারি সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ময়মনসিংহে বিএনপির বিভাগীয় গণঅবস্থান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। অবস্থানের চারদিকে ছিল পুলিশের কড়া পাহারা।

ময়মনসিংহ বিএনপির বিভাগীয় গণঅবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও বিএনপির নেতাকর্মীদের বহনকারী দুইটি বাসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে কে›ন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ নগরের হরিকিশোর রায় সড়কে বিএনপির বিভাগীয় গণঅবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ১০ দফা আদায় ছাড়া এদেশের মানুষের মুক্তি হবে না, আন্দোলনকে পরিপূর্ণভাবে সফল করার জন্য যা করার দরকার, আমরা তাই করব।  এখন আবার সরকার শতকরা ১৫ ভাগ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই এবং ১০ দফা দাবি ও বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবি জানাই। আর বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবিতে আগামী ১৬ জানুয়ারি সোমবার সারাদেশের মহানগর জেলা-উপজেলা, পৌরসভায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করব-ইনশা আল্লাহ।

১৫ জানুয়ারি স্থায়ী কমিটির সভা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই সভা থেকে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দেব। ১৬ জানুয়ারি জানিয়ে দেওয়া হবে এর পরের কর্মসূচি কী? ইনশা আল্লাহ তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা করে যাব। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন, আজকের মতো উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে প্রোগ্রাম সফল করুন। আল্লাহ আমাদের সফল করবেন।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, আমরা এ গণঅবস্থান থেকে ময়মনসিংহের যুবদলের সভাপতি রোকন, লিটন আকন্দ, ওলামাদলের এখলাছ বাদলের মুক্তি দাবি করছি।
মুক্তি দাবি করছি রুহুল কবীর রিজভী, খাইরুল কবীর খোকন, টুকু, এ্যানিসহ সব নেতার। কিন্তু আন্দোলন যত জোরদার হবে, তত আমাদের নেতারা মুক্তি পাবেন।
আন্দোলন যত শক্তিশালী হবে, তত সরকার ভয় পাবে।

এর আগে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, যারা নিরীহ মানুষকে গুম, খুন করে তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো
অধিকার নেই। তারেক রহমানের ধাক্কা ছোট না। সহসাই ডাক আসছে। আর টিকতে পারবেন না। চূড়ান্ত আন্দোলনে এ সরকারকে বিদায় করা হবে।

আরেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুল রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের সূর্য উঠেছে। এখন রাতের অবৈধ সরকারকে উৎখাত করতে চাই। সে আন্দোলনে আমরা জিতব।

সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, গণঅবস্থানে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। এরপর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারকে বিদায় করব, খালেদা
জিয়াকে মুক্ত করব, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসব।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম বলেন, অচিরেই সরকার উৎখাতের এক দফা আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হোক। আমরা জীবনবাজি রেখে রাজপথে বুকের রক্ত
ঢেলে দিয়ে যে কোনো কর্মসূচি সফল করব।

আরেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, গত ১৬ বছরে অনেক বড় বড় বক্তব্য শুনেছি, আর শুনতে চাই না। এ সরকারের কাছে আবেদন নিবেদন করে কোনো লাভ নেই। তারেক রহমান বলে দিয়েছেন-দেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে।

সভায় সাবেক এমপি নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, অহিংস আন্দোলনে নেমেছি, কিন্তু সারাজীবন অহিংস থাকব, তা তো বলিনি।

ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে যৌথভাবে এ গণঅবস্থান কর্মসূচির সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র
যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু ও উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার।

এছাড়া বক্তব্য দেন বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক আব্দুল বারী ড্যানি, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন, মহানগর বিএনপির
যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলীসহ ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা কর্মসূচি স্থলে আসার পথে গোলপুকুরপাড় এলাকায় আওয়ামীয় লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা লাঠি নিয়ে হামলা করে। পরে আমাদের নেতাকর্মীদের ধাওয়ায় তারা পিছু হটেছে।’

তিনি আরও বলেন, সকাল ১১টার দিকে নগরীর জুবলীঘাট সড়কে গণঅবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে কিশোরগঞ্জ থেকে আসা বিএনপির নেতাকর্মীদের বহনকারী
দু’টি বাসে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হকিস্টিক ও দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এসময় দু’টি বাস ভাঙচুর করা হয়। তারা গাড়ির হেলপারসহ বিএনপির বেশ
কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধর করেন।

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, ‘কোনো হামলা বা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে কিনা তা আমার জানা নেই। আমরা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আমাদের দলীয় কার্যালয়ে সভা করছি। আমাদের কোনো নেতাকর্মী হামলার সঙ্গে জড়িত না। তারা নিজেরাই এসব করে আমাদের উপর দায় চাপাতে চাইছে।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘আমি সকাল থেকেই বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি এলাকায় আছি। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার কথা শুনেছি, কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এই বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা নেই। তবে, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

এদিকে, কর্মসূচি উপলক্ষে সকাল থেকে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image