• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৬ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২২ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

নজরুলের 'শিশু যাদুকর'


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১:০৭ পিএম
jকবি নজরুল
কবি কাজী নজরুল ইসলাম , ফাইল ছবি

গিরিধর দে: .

ক্যাপশনের টাইটেল থেকে নজরুলের 'শিশু যাদুকর' পড়ে হয়ত এতক্ষণে অনেকেই আন্দাজ করে ফেলেছেন লেখাটি কি নিয়ে হতে যাচ্ছে, আবার অনেকেই হয়ত আন্দাজ করতে পারছেন না । 
আমি কোন অভিজ্ঞ লেখক নই । বিষয়বস্তু নির্বাচন, বাংলা বানান, শব্দচয়নেও ভালো দখল নেই । তবে যেটুকুই লিখছি তা যে আপনাদের সময় নষ্টের কারণ হবেনা এটুকু গ্যারান্টি দেওয়ার সৎসাহস আমার আছে ।.

সম্প্রতি বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র'তে রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লিখে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করা এক কিশোরের তৎকালীন লেখা চিঠি সম্বলিত একটি পোস্ট মোটামুটি ভালোই সাড়া ফেলেছে । পোস্টের মন্তব্য কলামে নানাজনের নানারকম মত ও প্রশ্নও বেশ লক্ষণীয় । অনেকেই মন্তব্য কলামে দারুণ দারুণ তথ্য দিয়ে পোস্টটিকে সমৃদ্ধ করেছেন আবার অনেকের মনেই তৈরি হয়েছে নানারকম প্রশ্ন ও বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগ্রহ । তারই প্রেক্ষিতে সকলের প্রশ্ন ও আগ্রহকে মাথায় রেখে আমার জানা ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা কিছু তথ্য নিয়ে আজকের এই পোস্ট । আশাকরি পড়তে খানিকটা সময় বেশি লাগলেও সময়টুকু বিফলে যাবে না। .

গতকাল গ্রুপটিতে পোস্ট হওয়া রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লেখা যে কিশোরকে নিয়ে আমার এই লেখা সেই কিশোরটির নাম - মামুন মাহমুদ । বাড়ি চট্টগ্রাম । বয়স তখন সাড়ে পাঁচ বছর। ১৯৩৪-এর ১৩ আগস্ট মামুন রবীন্দ্রনাথকে পেন্সিল দিয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন।.

ভাবতে পারছেন  ?
সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী ছোট্ট এক কিশোর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে চিঠি লিখেছিল দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করে !!!
চিঠিটি (ছবিঃ ২)'র পাঠঃ.

কবি,
আমি একটা ছোট ছেলে। বয়স সাড়ে পাঁচ। আমার মা ও মামা বুলবুল সম্পাদক। আমি তোমার সহজপাঠ পড়েছি। বড় হলে তোমার সব বই পড়ব। তুমি নাকি ছোটদের খুব ভালবাস। তাহলে আমার চিঠির জবাব দিও। আমি আর একটু বড় হলে শান্তিনিকেতনে তোমায় দেখতে আসব।
ইতি
মামুন মাহমুদ.

রবীন্দ্রনাথকে সেঁ চিনেছিলো  ' সহজ পাঠ ' পড়ে । মামুন মামুদের বাবা ডঃ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ কলকাতা মেডিকেল কলেজের সুপারিন্টেনডেন্ট ছিলেন এবং পরবর্তীকালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের সার্জন জেনারেল হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন । 
উল্লেখ্য, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর চিঠির জবাবও পাঠিয়েছিলেন ।
মামুন মাহমুদের এই চিঠির উত্তরে রবীন্দ্রনাথ ১৪৩৪-এর ১৭ আগস্ট হাওড়া জেনারেল হাসপাতালের ঠিকানায় এই চিঠি লেখেনঃ
বৎস.

তুমি যখন আমার সহজপাঠ পড়েছ তখন বিনা পরিচয়েই আমার সঙ্গে তোমার জানাশোনা হয়ে গেছে। তাই এখন থেকেই তোমাকে নিমন্ত্রণ করে রাখছি বয়স হলে শান্তিনিকেতনে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসো— হয়তো দেখা হতেও পারে—খুব শীঘ্র করে যদি বড় হতে পারো তাহলে সাক্ষাৎ অসম্ভব হবে না। তাই বলছি খুব তাড়া করো। ইতি ১৭ আগস্ট ১৯৩৪
শুভার্থী.

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.


রবীন্দ্রনাথের এই চিঠি রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু বছর ১৯৪১ সালে "সওগাত" পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয় ।
মামুন মাহমুদ চট্টগ্রামের খান বাহাদুর আব্দুল আজিজ রোডে মাতুলালয়ে ১৯২৮ সালের ১৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন । পিতা ডাঃ ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এবং মাতা বেগম শামসুন্নাহার মাহমুদ । মামুন মাহমুদের পিতা যখন কলকাতা মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করতেন, সে সময় নজরুলের সঙ্গে তার আকস্মিক সাক্ষাৎ ঘটেছিল। মেডিকেল কলেজের সামনে ৩২নং স্ট্রিটে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার অফিস ছিল । সেই অফিসে পড়ালেখা করার জন্য সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি ছিল। সেখানে গিয়ে প্রায়ই ওয়াহিদউদ্দির মাহমুদ পড়াশোনা করতেন। অনেক খ্যাতিমান কবি- সাহিত্যিকও সেখানে আসতেন- বিভিন্ন বই পড়তেন- আড্ডা দিতেন । একদিন হঠাৎ নজরুল ইসলামও সেখানে এসে হাজির হন এবং তার বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’ পড়ে শোনান । তখনো এ কবিতাটি কোথাও প্রকাশিত হয়নি । এর কয়েকদিন পর কবিতাটি প্রকাশিত হয় এবং তখন গোটা ভারতবর্ষে নতুন এক জাগরণ তৈরি করে। বাংলা সাহিত্যেও বিখ্যাত কবিতা হিসাবে ‘বিদ্রোহী’ স্বীকৃত ও নন্দিত হয়ে ওঠে ।.


নজরুল শিশুতোষ কবিতার জন্যও বিখ্যাত । তাঁর শিশুতোষ কবিতা ‘শিশু যাদুকর’ কবিতাতেও বাস্তব চরিত্রের উৎস আছে । তিনি বাস্তবকে গ্রহণ করে কল্পনার রঙে অনবদ্য এ কবিতাটি রচনা করেন । নজরুলের জীবন ও সাহিত্যে চট্টগ্রাম খুব গুরুত্বপূর্ণ । তার কবিতা গানে সীতাকুণ্ড তথা চট্টগ্রামের পাহাড়-পর্বত নদী-সমুদ্র অপরূপ প্রকৃতি আর সাধারণ মানুষের অপরিসীম স্নেহ-মমতা-ভালোবাসা তার কবিতা-গানে কখনো বর্ণিল আবার কখনো বিরহ বেদনায় অসাধারণ কাব্যরূপ লাভ করেছে । .


নজরুলের জীবনে চট্টগ্রামের কথা এলেই অবধারিতভাবে হাবীবুল্লাহ বাহার ও শামসুন নাহার মাহমুদের নাম চলে আসে, আসে তাদের পরিবারের কথা । এ পরিবারটি ছিল নজরুলের নিজের পরিবারের মতো । এ পরিবারে স্নেহ মমতায় তিনি আপনজন হয়ে উঠেছিলেন । চট্টগ্রামে এলে তিনি এ বাড়িতেই থাকতেন। চট্টগ্রামের কবি-সাহিত্যিকরাও তখন এ বাড়িতেই নজরুলকে ঘিরে কবিতা-গানে মেতে উঠতেন । নজরুল নিজেও নতুন নতুন গান কবিতা রচনা করে, তা গেয়ে ও আবৃত্তি করে প্রাণখোলা হাসিতে সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন । পুরো চট্টগ্রামই যেন নজরুলের গানে ও কবিতায় নতুন এক প্রাণে জেগে উঠত ।
১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে নজরুল এ বাড়িতে দু’বার গিয়েছেন । তিনি যে কয়দিন থাকতেন, সেই কয়দিন এ বাড়িটি চট্টগ্রামের মধ্যমণি হয়ে উঠত ।.


নজরুল মানুষকে খুব সহজেই আপন করে নিতে পারতেন । হাবীবুল্লাহ বাহার ও শামসুন নাহার মাহমুদের আম্মা ও নানি আম্মাকে তিনি স্নেহ মমতা ও শ্রদ্ধায় আপন করে নিয়েছিলেন । তিনি তাদের বাড়িতে প্রথমবার গিয়েই পুরো পরিবারের আপনজন হয়ে ওঠেন। সেই বাড়িতে তখন তিন মাস বয়সের একটি শিশু ছিল । শিশুটির নাম মামুন মাহমুদ । শামসুন নাহার মাহমুদের সন্তান । শামসুন নাহার মাহমুদের আম্মা নজরুলকে একদিন জিজ্ঞেস করলেন, ‘জানালার ধারের ঐ সুপারিগাছগুলো দেখতে সুন্দর, না এই শিশুটি?’ এ কথা যেদিন জিজ্ঞেস করলেন, তার আগের রাতে নজরুল ‘বাতায়ন পাশের গুবাক তরুর সারি’ কবিতাটি রচনা করেন । নজরুল এ কথা শুনে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন। বলেন, ‘আম্মার মনের কথা বুঝতে আর আমার বাকি নাই।’ সেদিন রাতেই তিনি লেখেন ‘শিশু যাদুকর’ বিখ্যাত শিশুতোষ কবিতাটি-.

শিশু যাদুকর 
– কাজী নজরুল ইসলাম
পার হয়ে কত নদী কত সে সাগর
এই পারে এলি তুই শিশু যাদুকর!
কোন রূপ-লোকে ছিলি রূপকথা তুই,
রূপ ধরে এলি এই মমতার ভুঁই।
নবনীতে সুকোমল লাবণি লয়ে
এলি কে রে অবনীতে দিগ্বিজয়ে।
কত সে তিমির-নদী পারায়ে এলি-
নির্মল নভে তুই চাঁদ পহেলি।
আমরার প্রজাপতি অন্যমনে
উড়ে এলি দূর কান্তার-কাননে।
পাখা ভরা মাখা তোর ফুল-ধরা ফাঁদ,
ঠোঁটে আলো চোখে কালো-কলঙ্কী চাঁদ!
কালো দিয়ে করি তোর আলো উজ্জ্বল-
কপালেতে টিপ দিয়ে নয়নে কাজল।
তারা-যুঁই এই ভুঁই আসিলি যবে,
একটি তারা কি কম পড়িল নভে?
বনে কি পড়িল কম একটি কুসুম?
ধরণীর কোলে এলি একরাশ চুম।
স্বরগের সব-কিছু চুরি করে, চোর,
পলাইয়া এলি এই পৃথিবীর ক্রোড়!
তোর নামে রহিল রে মোর স্মৃতিটুক,
তোর মাঝে রহিলাম আমি জাগরুক।.

কবি এই শিশুটির ডাকনাম দিয়েছিলেন ‘শেলী’। তিনি শিশুটিকে আরও একটা নাম দিয়েছিলেন ‘সোহরাব’। কিন্তু ‘সোহরাব-রুস্তম’ বিয়োগান্তক কাহিনী হওয়ায় পরিবারে এ নামটি সেভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি । আস্তে আস্তে এ নামটি হারিয়ে যায়। মামুন মাহমুদের জন্মের পর কবি নজরুল তাঁকে এই “শিশু যাদুকর” কবিতা দিয়ে আশীর্বাদ করেছিলেন । .


মামুন মাহমুদ ১৯৪৩ সালে কলকাতা বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা, ১৯৪৫ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে আই.এ, ১৯৪৭ সালে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ এবং ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এম.এ পাস করেন । বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিসে পরীক্ষা দিয়ে  পুলিশ সার্ভিস লাভ করেন । ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুলিশ প্রশাসনে যোগদান করে ১৯৫৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান । তিনি “ডিটেকটিভ” পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ।.

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে তিনি নাট্যাভিনয়,খেলাধুলা ও ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন । ফজলুল হক হল ফুটবল টীমে খেলা ছাড়াও তিনি ওয়ারী ক্লাব ও পুলিশ দলের পক্ষে খেলেছেন । ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও তিনি ছিলেন সুপরিচিত । ১৯৫৪ সালে তিনি কে.সি.সি প্রতিষ্ঠা করেন । তিনি তদানীন্তন পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশন রেফারিজ বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন । ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে তিনি মিছিলের পুরোভাগে থাকার সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে গুরুতরভাবে আহত হন ।.

স্বাধীনতাকামী এই মহান ব্যক্তিত্ব ১৯৬২ সাল থেকেই পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজন হন । ১৯৬৯ সালের ১ নভেম্বরে ঢাকায় পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় মিরপুরে বিহারী কর্তৃক আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং পাক বাহিনীর নজরে আসেন । ১৯৭১ সালে ৩ মার্চ রাজশাহীতে পাকিস্তানি সৈন্যরা কয়েকজন বাঙ্গালিকে গুলি করে হত্যা করলে তিনি ডি.আই.জি হয়েও প্রতিবাদ স্বরূপ তাঁর সরকারি বাসভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করেন । .


১৯৭১ এর ২৫ মার্চ ভয়াবহ কিছু ঘটতে পারে অনুমান করেই তিনি পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক রেখেছিলেন । তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মোকাবেলা করার জন্য দশ হাজার স্বেচ্ছাসেবক চেয়েছিলেন । ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সন্ধ্যা সাতটায় রংপুর থেকে ব্রিগেডিয়ার আব্দুল্লাহ ওয়ারলেসে তাঁর সাথে কথা বলতে চায়- এই বলে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত মহান মানুষটিকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় । প্রাণপ্রিয় স্ত্রী মোশফেকা মাহমুদ,মেয়ে ডাঃ যেবা মাহমুদ ও ছেলে জাভেদ মাহমুদকে রেখে সেইযে হায়েনাদের ডাকে গিয়েছিলেন তারপর তিনি আর ফিরে আসেন নি !
সেটাই ছিল তাঁর শেষ যাত্রা ।.


তাঁরপর তাঁর আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি । .


মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার তারিখ ২৬ মার্চ,১৯৭১ । উল্লেখ্য, ২৬ মার্চই ছিলো তাঁর সতেরো তম বিবাহ বার্ষিকী ।
নজরুলের 'শিশু যাদুকর' শিশু বয়সেই যেন নজরুলের আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়ে তারই চেতনা ধারণ করেছিলেন ।.


নজরুল পরাধীন ভারতবর্ষের মুক্তির জন্য বিপ্লবী কবিতা লিখে জেল-জুলুমের শিকার হন। আর তার ‘শিশু যাদুকর’ মামুন মাহমুদ রাজশাহীতে পুলিশের ডিআইজির দায়িত্ব পালন অবস্থায় নিজের দেশ-মাতৃকা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন ।.


নজরুলের ‘শিশু যাদুকর’-র সেই শিশু একদিন বড় হয়ে দেশ-মাতৃকার জন্য জীবন উৎসর্গ করে এ দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন, অমরত্ব লাভ করে আছেন বাঙালির মহান কবি নজরুল ইসলামের কবিতাতেও । .


নজরুল নিজেও ‘শিশু যাদুকর’ কবিতার শিশুটির মধ্যে বেঁচে থাকার বাসনা লালন করেছিলেন- ‘তোর নামে রহিল রে মোর স্মৃতিটুক,/ তোর মাঝে রহিলাম আমি জাগরুক।’
কবির সে বাসনা যে পূর্ণ হয়েছে, সে কথা তো বলা যেতেই পারে, কারণ তার ‘শিশু যাদুকর’ সাধারণ কোনো জাদুকর ছিলেন না, এ দেশের মুক্তিযুদ্ধে- দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মবলিদান দেওয়া মহান এক জাদুকর হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। যার রক্তে লেখা আছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ।. .

ঢাকানিউজ২৪.কম / এসডি

সাহিত্য বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image