• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৬ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২২ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

কলা চাষে স্বাবলম্বী রুহিয়ার চাষিরা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২:১২ পিএম
আর এ কলা চাষে ভাগ্য বদল হচ্ছে চাষিদের
কলা চাষ

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কলা চাষ। অসময়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় কলা অর্থকারী ফসল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে এ এলাকায়। আর এ কলা চাষে ভাগ্য বদল হচ্ছে চাষিদের। যেখানে অন্যান্য ফসল করে লাভবান হতে পারছে না স্থানীয় চাষিরা; সেখানে কলা চাষ সফলতার হাসি এনেছে এ উপজেলার চাষিদের মুখে। ফলে দিন দিন বাড়ছে কলা বাগানের সংখ্যা। সম্পৃক্ত হচ্ছেন নতুন নতুন চাষি। একরের পর একর কলা বাগান করে বছর শেষে মোটা অঙ্কের টাকা উপার্জন করতে পারায় স্থানীয় অনেক যুবকও পেশা বদলাচ্ছেন। অন্য পেশা ছেড়ে আসছেন কলা চাষে।.

গত বছর কলার দামে সন্তুষ্ট না হলেও এবার চাষি-ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার রুহিয়ায় ৫০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষ হয়েছে।.

সরেজমিনে উপজেলার রুহিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তৃত জমিতে কলার বাগান। অনেকে কলা কাটছেন আবার কোথাও কোথাও বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত বাগানের মালিক-শ্রমিকরা। চাষযোগ্য জমির পাশাপাশি পতিত জমিতে করা হয়েছে অসংখ্য বাগান। আর কলা চাষে সফলতার মুখ দেখেছেন চাষিরা। ফলে অন্যের জমি বর্গা নিয়েও অনেকে কলা বাগান করছেন। আবার অনেকে পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির পাশের পতিত জমিতেও বাগান করছেন।.

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে অনেক বেশি লাভ হয় কলা চাষে। ফলে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এখন কলা চাষ হচ্ছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ এলাকাতে মানিক, চিনিচাম্পা, মেহের সাগরসহ বিভিন্ন জাতের কলা চাষ করা হয়েছে। এসব জাতের কলাগাছ থেকে ভালো ফলন পাওয়া যায়। তুলনামূলকভাবে অন্যান্য ফসলের চেয়ে কলার দামও বেশি। সাধারণত বৈশাখ মাসে কলার চারা রোপণ করলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে কলা পাওয়া শুরু হয়। যেসব জমিতে বর্ষার পানি সাধারণত এক সপ্তাহের বেশি থাকে না সেসব জমিতে কলা চাষ ভালো হয়। এক বিঘা জমিতে ৬শ’ থেকে ৮শ’ কলার চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। যত্নসহকারে কলা চাষ করলে ফলন ভালো পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে ২০-২৫ হাজার টাকা খরচপড়লেও প্রতিবিঘা জমি থেকে কলা বিক্রি হয় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। যা অন্য কোনো ফসলে সম্ভব নয়। তাছাড়া কলা বিক্রিতে কোনো ঝামেলা হয় না। পাইকাররা জমি থেকেই কলা কেটে নিয়ে যায়।.

উপজেলার রুহিয়ার চাপাতি গ্রামের কৃষক তফাজুল বলেন, কলা চাষে লাভের পাল্লাই ভারি থাকে। প্রতিবিঘা জমিতে ৬ থেকে ৮শ’ কলাগাছ লাগানো যায়। গাছ লাগানো থেকে শুরু করে ১২ মাসের মধ্যে কলা কর্তন করা যায়। বর্তমানে এক কাঁদি কলা উৎপাদন করতে আমাদের প্রায় ৪০-৫০ টাকা খরচ হয়।.

একই কথা জানান, কনপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল। তিনি বলেন, কলার প্রকারভেদে ২৫-৩০ হাজার টাকা দরে প্রতি ১শ’ কলার কাঁদি বিক্রি হচ্ছে। কলার কাঁদি আগাম পাইকারদের কাছে বিক্রিও করা যায়। এটি কৃষকদের বাড়তি সুবিধা।.

আরেক কলা চাষি আসানগর গ্রামের রফিকুল বলেন, গড়ে এক বিঘা জমিতে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার কলা বিক্রি করা যায়। খরচ বাদে লাভ থাকে বিঘাপ্রতি ৪০-৫০ হাজার টাকা। আমি এবার ২ বিঘা জমিতে কলা লাগিয়েছি। এখনও কলা বিক্রি শুরু করিনি। ফলন দেখে মনে হচ্ছে সব খরচ বাদে কলা বিক্রি করে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা আয় আসবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাগানের ক্ষতি হলে এর পরিমাণ কিছুটা হেরফের হবে।.

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কৃষ্ণ রায় বলেন, উপজেলায় দিন দিন কলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় চাষিরা কলা চাষ করছেন। কলা চাষে কৃষি বিভাগ চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।. .

ঢাকানিউজ২৪.কম / গৌতম চন্দ্র বর্মন

কৃষি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image