• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১২ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

কোটা বৈরিতায় পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা 


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ০৬ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:২৩ পিএম
শিক্ষার্থী এবং চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য বৈষম্য
কোটা সংস্কারের আন্দোলন

মোঃ সাইদুর রহমান                       

কোটা সংস্কারের আন্দোলনের চরমরূপ দেখেছি আমরা ২০১৮ সালে। উত্তাল ছিল দেশের রাজপথ। আবার ২০২৪ সালে " বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন " এর ব্যনারে রাজপথে অবস্থারত দেশের ছাত্রসমাজ ও চাকরি প্রত্যাশীরা। ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পূর্ণবহালের দাবিতে আন্দোলন করছে তারা। কোটা শিক্ষার্থী এবং চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য বৈষম্যের জ্বলন্ত শিখা। 

দেশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের কারনে কোটার আবির্ভাব ঘটেছে। তবে এই কোটার দাপট সরকারী চাকুরীতেই বেশী। কোটা নামের এই অসম বৈষম্যটি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকবে এটা এখন রাষ্ট্র ও সরকারকে ভাবা উচিৎ। কোটা পদ্ধতিটি আসলে চালু করা হয়,সুবিধাবঞ্চিত ও  পিছিয়ে থাকা কোন জেলা অথবা কোন জনগোষ্ঠীকে সমতায় নিয়ে আনার জন্য। সমতা হয়ে গেলে কোটার মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে। এটা যুগের পর যুগ চলতে পারেনা। 

সরকারী, বেসরকারি চাকুরীতে কোটা সংস্কার এখন সময়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ দাবী।বিশেষ ব্যবস্থা পক্ষপাতহীন ভাবে রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রয়োগ করলে একসময় পশ্চাৎপদ বা অনগ্রসরদের রাষ্ট্রপ্রদত্ত সুবিধার প্রয়োজন পড়ে না। যে কোন বিশেষ ব্যবস্থা নিদিষ্ট সময়ের পর বাঞ্ছনীয় নয় ; একটা অসম নীতিমালা রাষ্ট্র দীর্ঘদিন বহন করতে পারেনা এবং রাষ্ট্রের জন্য হিতকর হবেনা। 

দিনে দিনে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে এটা স্বীকার্য। কোটা সংস্কার বা বাতিলের দাবী অনেক আগের দাবী । বর্তমান সময়ে আর হার মানতে চায় না অথবা ন্যায্য অধিকারটা বুঝে নিতে চায় শিক্ষিত বেকাররা। রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক নীতির জন্য রাষ্ট্রের মেধী ছাত্র/ ছাত্রীদের মেধার অপমৃত্যু হতে পারেনা।  রাষ্ট্র বা সরকার সমাজের প্রতিটি নাগরিককে সমান চোখে দেখবে এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব । তবে ব্যতিক্রম শব্দটা রাখার পক্ষে আমি। কিন্তু আমাদের দেশের কোটার অবস্হা গলায় গলায় ভরা। সংবিধানের ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদে নারী ও উপজাতির জন্য কোটার কথা উল্লেখ আছে ।

বর্তমানে সরকারী চাকুরীতে কোটায় নিয়োগের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান সে দিকে নজর দেই, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০%, জেলা কোটা ১০%, নারী১০%, উপজাতি ৫%  প্রতিবন্ধী ১% । মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সন্মান রেখেই বলছি। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগের পর অনেক সময় যোগ্য তো দূরের কথা, কোন প্রার্থীই খুঁজে পাওয়া যায়না। দেশের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের শপথ ছিল। স্বাধীতার পর জেলা ছিল ১৯টি বর্তমানে জেলা ৬৪ টি । নারীর জন্য সকল সরকারী চাকুরীতে  কোটা ১০% আবার প্রাইমারী স্কুলে নিয়োগে নারী কোটা ৬০ %।  এটা কোন ধরনের বৈষম্য ?  মোট জনগোষ্ঠীর ১% হলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তাঁদের জন্য কোটা ৫%।

কোটাকে সংকোচিত করতে না পারলে কোটাই হবে মেধাবীর জন্য মরণফাঁদ। নিয়োগ পরীক্ষায় ৮০ পেয়েও কোটা বিহীন পরীক্ষার্থীরা উর্ত্তীণ হতে পারেনা কিন্তু কোটা সুবিধার জন্য ৫০ পেয়েও উর্ত্তীণ হয়ে যাচ্ছে। শুধু চাকরীর না, স্কুুল, কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রেও কোটা নামক অসমবৈষম্য সমন্বয় করা উচিৎ। 

দেশে যেমন উচ্চ শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি উচ্চ হারে বেকারত্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে কর্মহীন মানুষ ২৭ লাখ ( পরিসংখ্যান ব্যুরো)।   প্রতি বছর ৮০ থেকে ৯০ হাজার বেকার বৃদ্ধি পাচ্ছে । জরিপে বলা হয়েছে উচ্চ শিক্ষিত বেকারের হার সবচেয়ে বেশী  ( ৪৭%) ।  তাদের মতে, বেসরকারি খাতে শিল্পায়ন হচ্ছে না। যারফলে নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে না। জিডিপি সাথে কর্মসংস্থানের বিরাট ফারাক, তাই কোটা সংস্কারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে শিল্পায়ন অতিজরুরী । 

জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশকে বিশ্ববাসী উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে স্বীকৃতি পেলেও কর্মসংস্থানের গতি এখনো খুবই কচ্ছপ গতি। কর্মসংস্থান আর কোটা সংস্কার দুইটায় একে অপরের পরিপূরক । জিডিপি আর উন্নয়নকে আরও টেকসই করতে হলে উচ্চ শিক্ষিত বেকারদেরকে কর্মসংস্থান দিতে হবে। নতুবা শিক্ষিত বেকাররা সমাজের বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে যাবে,  বিনষ্ট হবে জাতির উজ্জল ভবিষৎ । 

সুতারাং দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কোটা সংস্কার  প্রযোজন । এখানেও কোটা কাটছিট করা সম্বব। অনগ্রসরমান কোন জাতি গোষ্ঠীকে নিদিষ্ট সময়ে জন্য কোটা সুবিধা দেওয়ার স্বপক্ষে। তাই রাষ্ট্র কোটাকে ঘষামাজা করে থাকে। কোটা পদ্ধতি বিশ্বের সব দেশেই আছে । কোন দেশেই ১৫% বেশী কোটা নেই, তাও নিদিষ্ট সময়ের জন্য কোটা সৃষ্টি করা হয়।

 লেখক ও কলামিস্ট  

ঢাকানিউজ২৪.কম / এইচ

আরো পড়ুন

banner image
banner image