• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৬ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২০ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

পাঁচবিবিতে কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৫৮ পিএম
কৃষি বিভাগ বলছেন, নিয়ম মেনেই কাজ করছেন তারা

আল-কারিয়া চৌধুরী, জয়পুরহাট প্রতিনিধি: দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করতে মাঠ পর্যায়ে কৃষিতে নানা ধরনের কর্মসূচী হাতে নিয়েছে সরকার। সেই খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ফসলের উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলাতে রাজস্ব অর্থায়নে প্রদর্শনী ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছেন, নিয়ম মেনেই কাজ করছেন তারা।

পাঁচবিবি উপজেলায় কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পে চলতি মৌসুমে লতি কচু চাষের প্রদর্শনী কাগজে কলমে ১৮ জন থাকলেও বাস্তবায়ন হয়েছে ৩টি। আবার তালিকায় কৃষকের নাম থাকলেও কিছুই জানেন না তারা। এছাড়া গেল গমের প্রকল্পে ১২ বিঘা জমিতে প্রদর্শনীর স্থানে ৫/৬ বিঘা করে জমিতে প্রদর্শনী করলেও ভেজাল বীজে গমের গাছ না গজালে বেকায়দায় পড়েন স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তর। তবে শেষ মুহুর্তে সমস্যায় পড়তে হয়নি তাদের, পাশের কৃষদের নিজস্ব অর্থায়নে ভাল গম চাষের জমিতে প্রদর্শনীর সাইনবোর্ড বসিয়ে সেই জমির ছবি উঠিয়ে প্রকল্পে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ কৃষকের।

পাঠাবুকা গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের স্ত্রী রেজিয়া বেওয়া বলেন, গত এক বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছে। কিন্তু কচুর লতির প্রকল্পে আমার স্বামীর নাম দেওয়া আছে। কে বা কাহারা আমার মৃত স্বামীর নাম দিয়ে প্রকল্পের টাকা তুলে নিয়েছে তা আমরা জানি না। রেজিয়ার মেয়ে জয়নব আক্তার বলেন, এখন কি দুনিয়া চলে আসলো যে মৃত ব্যক্তির নাম দিয়ে প্রকল্পের টাকা তুলে খাওয়া হচ্ছে। এটা উচিত না। এর একটা ব্যবস্থা হওয়া দরকার।

কৃষক খাইরুল ইসলাম, জুলহাজ সহ অনেকেই বলেন, আমরা যারা কচুর লতি চাষ করি সেসব কৃষকের কোন খোঁজ খবর কেউ নেই না। এখানকার এগ্রিকালচার অফিসার আছে নাকি তারাও খবর নেই না। যেসব কৃষক রাস্তার পাশে এবং কচুর লতি বা কন্দাল চাষ প্রকল্পে আছে তারাই শুধু বারবার কৃষি বিভাগের আর্থিক সহযোগিতা পায়। তাছাড়া অন্য কৃষক সহযোগিতা পায় না। অন্য যারা কৃষক এই ফসল চাষ করে তাদেরও তো প্রণোদনার প্রয়োজন আছে, কিন্তু তারা তা পায় না।

নিজস্ব ভাবে চার বিঘা জমিতে গম চাষ করেছেন পাঁচবিবি নওদা এলাকার কৃষক আব্দুর রশিদ। তবে তিনি কৃষি বিভাগ থেকে কোন প্রণোদনা পান নি। এই কৃষক বলেন, আমার পাশের জমিতে কৃষি প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেই জমিতে ভালো গম হয়নি। এজন্য আমার জমিতে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ছবি তোলা হয়েছে। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি।

একই এলাকার কৃষক মশিউর রহমান বলেন, আমি বাজার থেকে গমের বীজ কিনে এসে নিজের জমিতে চাষ করেছি। কৃষি বিভাগ থেকে গমের কোন প্রণোদনা পাইনি। জমিতে গমের ফলন ভালো হওয়ায় আমার জমিতে কে বা কাহারা সাইনবোর্ড লাগিয়ে ছবি তুলেছে।

পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পাঁচবিবি উপজেলায় মৌসুমভেদে প্রায় ৬’শ থেকে ৭’শ হেক্টর জমিতে লতি কচু বা কন্দাল ফসলের চাষ হয়ে থাকে। এই ফসল গুণগতমান সম্পন্ন চাষ করতে কৃষকদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। এতে কৃষকরাও খুশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, সরকারি প্রকল্পে যে কোন অনিয়মের প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ঢাকানিউজ২৪.কম / আল-কারিয়া চৌধুরী

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image