• ঢাকা
  • সোমবার, ৪ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ১৭ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ছোট্ট তুচ্ছ ঘটনাকে ঘিরেই বরিশালে তুলকালাম কাণ্ড


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ আগষ্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১০:২৭ এএম
বরিশাল নগরীতে ঘটে গেছে তুলকালাম কাণ্ড
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান

নিউজ ডেস্ক:   ছোট্ট ঘটনাকে ঘিরেই বরিশাল নগরীতে ঘটে গেছে তুলকালাম কাণ্ড। এর জেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসায় হামলা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার সদস্যদের গুলি ছুড়তে হয়েছে।

প্রতিবাদে বুধবার মধ্যরাত থেকে সড়ক ও নৌ যোগাযোগ অচল করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন দুটি মামলা করেছে। দুটিতেই বরিশালের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৫ নেতাকর্মী।

বিপরীতে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়রের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে দলটির স্থানীয় নেতারা এ দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে সদর আসনের সংসদ সদস্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের পক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ব্যানার-ফেস্টুুন লাগানো হয়েছিল। বুধবার রাত ১০টার দিকে সিটি করপোরেশনের কর্মী পরিচয়ে একদল যুবক সেগুলো অপসারণ করতে গেলে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা বাধা দেন। একপর্যায়ে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইউএনও মুনিবুর রহমানের বাসভবনে হামলা করলে আনসার সদস্যরা গুলি চালান। পরে পুলিশ আসে। রাত ২টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়।

এদিকে বরিশালে ইউএনওর বাসভবনে হামলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও বলে দিয়েছেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে যারা যারা জড়িত সবাইকে শনাক্ত করতে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।'

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও। সংগঠনটি অবিলম্বে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটির সভাপতি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কবির বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভার পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বরিশালে ইউএনওর বাসভবনে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, 'আইনের মাধ্যমেই দুর্বৃত্তদের মোকাবিলা করা হবে' এবং 'আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে'।

ইউএনও মো. মুনিবুর রহমান বুধবার রাতে বলেন, বাইরে হট্টগোল শুনে তিনি বাসভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিম, সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব খানসহ অনেক নেতাকর্মী তাকে ঘিরে ধরে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা বাসভবনের নিচতলায় ঢুকে পড়েন। এ সময় আত্মরক্ষায় তিনি আনসার সদস্যদের 'প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ' নিতে অনুরোধ জানান।

আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, প্রশাসনের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, দলের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি তারা পরে দেখবেন।

এ ছাড়া বুধবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বৃহস্পতিবার কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করেছেন।

বুধবার রাতের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। ইউএনওর বাসভবনে আটক আওয়ামী লীগ নেতা হাসান মাহমুদ বাবুকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য রাত ২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ সংঘর্ষ চললেও পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়।

উক্ত ঘটনায় মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় ব্যাপক ধরপাকড়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর কালীবাড়ি সড়কে মেয়রের বাসভবন পুলিশ ঘিরে রাখে। একই সময়ে শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি আওয়ামী লীগ নেতা আহমেদ শাহরিয়ার বাবু ওরফে জিএস বাবু, হারুন অর রশিদ ও তানভীরকে ডিবি পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন ফিরোজ ও জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি অলিউল্লাহ অলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার রাতের ঘটনার জেরে মধ্যরাত থেকে বরিশাল থেকে সকল বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওপর এলোপাতাড়িভাবে বাস-ট্রাক রেখে দেওয়া হলে বরিশালসহ পটুয়াখালী, বরগুনা ও ঝালকাঠি পথে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবার সব ধরনের যানবহন চলাচল শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, পুরো বিষয়টি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা অন্যায় করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে, কার ভূমিকা কী ছিল। কেউ ভুল-ভ্রান্তি করে থাকলে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image