• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

নারী-শিশু নির্যাতন মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির দাবি


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৩০ পিএম
নারী-শিশু নির্যাতন মামলা নিষ্পত্তির দাবি
নারী নির্যাতনমুক্ত সমাজের অঙ্গীকার চাই’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক : নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৮০ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করার দাবি উঠেছে। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘নিঃশঙ্ক জীবন চাই: নারী নির্যাতনমুক্ত সমাজের অঙ্গীকার চাই’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তোলা হয়।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নারী নিরাপত্তা জোট ও আমরাই পারি জোটের যৌথ উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তোলা বাকি দাবিগুলো হলো উচ্চ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে; বিচার চলাকালে নির্যাতনের শিকার নারী, শিশু ও পরিবারের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাক্ষী প্রদান প্রক্রিয়া যুগোপযোগী করতে হবে; হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ ছাড়া আরও দাবি করা হয় পারিবারিক নির্যাতন (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ সফল করতে হবে; ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে; নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করাসহ সব প্রকার বৈষম্যমূলক আইন ও নারী নির্যাতন বিরোধী আইন সংশোধন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বলেন, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৮৩০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া একই সময়ে নারীদের উপর পারিবারিক নির্যাতন হয়েছে ৪১১টি, পারিবারিক নির্যাতনে হত্যা হয়েছে ২৫৩টি, পারিবারিক নির্যাতনের ফলে আত্মহত্যা হয়েছে ৭৯টি ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১৪৮টি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতি বিশ্লেষণে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং ভয়াবহতা ও নৃশংসতা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে।’

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান হারে নারী নিপীড়ন, ধর্ষণ ও নারী বিরোধী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন এবং এসব প্রতিরোধে সরকারের যথেষ্ট সক্রিয় অবস্থান না থাকায় আমরা ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন।


‘নারীর প্রতি এই নৃশংসতা নারী সমাজের উন্নয়নের জন্য হুমকি, পাশাপাশি রাষ্ট্রের জন্যও হুমকি যা বাংলাদেশের অগ্রসরমান ভাবমূর্তিকে ম্লান ও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’

এ সময় নারী নেত্রীরা বলেন, অধিকাংশ নারী নির্যাতনের মামলার তদন্তে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রভাবশালীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা না বলে নিজের মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। দেশে সংগঠিত নারী নির্যাতনের মামলাগুলো তদন্তেই বিনষ্ট হয়ে যায়।

তারা বলেন, বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও পরিস্থিতি বিশ্লেষণে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার দৃশ্যমান কোন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি বরং ভয়াবহতা ও নৃশংসতা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।

নারী নেত্রীরা বলেন, নির্যাতনের ঘটনাগুলির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীর প্রতি নৃশংসতার ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করা সম্ভব হয়নি। দোষীদের খুঁজে বের করা বা দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়নি, যেসব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে তাদের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা হয়নি। অনেক অপরাধী জামিনে মুক্ত হয়েছে, নানা কৌশলে অনেকে বিচার এড়িয়েছে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

নারী ও শিশু বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image