• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৭ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২০ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

লেয়ার মুরগি পালনে সফল মামুন


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০১:১১ পিএম
যদি ডিমের বাজার ভালো থাকে তবে আরও বেশি লাভ হয়
লেয়ার জাতের মুরগির খামার

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: অনুমতি নিয়ে খামারে প্রবেশ করতেই কানে ভেসে আসলো হাজারো মুরগির কক কক ধ্বনি মিশ্রিত এক ধরণের শব্দ। বুকের ভেতরে কেমন যেন এক ধরণের আলোড়নের সৃষ্টি হলো। এ আলোড়নগুলোই নিত্যদিনের সঙ্গী তার।

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের কৃষক মামুনের কথা। তিনি বন্ধুর পরামর্শ আর নিজ উদ্যোগে সৌখিনভাবে গড়ে তুলেছেন লেয়ার জাতের মুরগির খামার। আর এ খামার করার পর এখন তিনি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন। তার খামারটি থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার ডিম সংগ্রহ করা হয়।

মামুনুর রশিদ পেশায় একজন কৃষক। কৃষি কাজের পাশাপাশি বাড়তি লাভের আশায় বন্ধুর পরামর্শে বাড়ির পাশেই গড়ে তুলেছেন লেয়ার জাতের মুরগির খামার। মুরগির খামার করে এলাকার অনেকে হোঁচট খেলেও তিনি লাভবান হয়েছেন।

কৃষি কাজের পাশাপাশি ৩ শ মুরগী নিয়ে ২০০৭ সাল থেকে বাড়ির পাশে ব্রয়লার মুরগি লালন পালন শুরু করেন তিনি। ২০১৭ সালে গাইবান্ধা জেলার এক বন্ধুর পরামর্শ নিয়ে ব্রয়লার ছেড়ে লেয়ার মুরগির সৌখিন খামারের যাত্রা শুরু করেন। বাঁশ কাঠির তৈরি খাঁচায় রাখা মুরগিগুলোকে পরিস্কার পাত্রে নিয়মিত খাবার পরিবেশনে এখন কাজ করছেন অনেকে।

বর্তমানে এই খামারে প্রতিদিন দশ জনের অধিক লোক কাজ করছেন। মুরগি লালন পালনে তার খামারে এখন মুরগির সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৬ শত। আবহাওয়া ভালো থাকলে একদিন বয়সের মুরগির বাচ্চা কিনে এনে খামারে ১৪ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত রাখা হয়। পরে বাজারে মাংসের জন্য বিক্রি করা হয়।

এছাড়া নিয়মিত ডিম সংগ্রহ করা হচ্ছে পাঁচ হাজার। এসব ডিম ক্রয়ে জেলা ও উপজেলা থেকে খামারে ছুটে আসছেন ব্যবসায়ীরা। তার সফলতায় উদ্যোগী হচ্ছেন আশেপাশের অনেকেই।

জানা যায়, ২০০৭ সালে সর্বপ্রথম বয়লার মুরগি পালন শুরুর মাধ্যমে চলতে থাকে দীর্ঘদিনের সফল খামারি হওয়ার প্রচেষ্টা। তবে ২০১৭ সালে গাইবান্ধায় গিয়ে বন্ধুর খামারে লেয়ার মুরগি পালন দেখে লেয়ার পালনে উদ্বুদ্ধ হন। পরে তিনি বাসায় এসে প্রথম ৩’শত লেয়ার মুরগি দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। এরপরে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। লাভজনক হওয়ায়  ধীরে ধীরে খামার বড় হতে থাকে।

খামারে সার্বক্ষণিক পরিচর্যায় থাকা রনি জানান, লেয়ার মুরগি পালন অনেক লাভজনক। এই মুরগি পালন করে মামুন চাচা অনেক স্বাবলম্বী হয়েছেন।

তারা খামারটিতে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে তারাও যেন এমন খামার করতে পারেন, এমন প্রত্যাশা করছেন খামারে কর্মরত সকল কর্মীরা।

খামারি মামুনুর রশিদ অভিযোগ করেন, নিজ উদ্যোগে এগিয়ে গেলেও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মিলেনি পরামর্শ। স্বল্প সুদে ঋণ পেলে আরো এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন এই উদ্যোক্তা।

তিনি আরও বলেন, ‘মাসে সকল ধরনের খরচ বাদ দিয়ে ১ লাখ টাকার উপরে লাভ থাকে। তবে ডিমের বাজারের উপর নির্ভর করে। যদি ডিমের বাজার ভালো থাকে তবে আরও বেশি লাভ হয়।’

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘করোনাকালীন খামারি মামুনুর রশিদকে সহযোগিতা করা হয়েছে। উপজেলায় ১শত ১৩টি ব্রয়লার ও ৫টি লেয়ার মুরগির খামার রয়েছে। আমরা সবগুলোর নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি।
 

ঢাকানিউজ২৪.কম / গৌতম চন্দ্র বর্মন

অর্থনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image