• ঢাকা
  • শনিবার, ৮ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২২ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

আজ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলছে পর্যটনকেন্দ্রগুলো


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ আগষ্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৪০ পিএম
দেশের পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলছে
সংগৃহিত ছবি

নিউজ ডেস্ক: অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার থেকে খুলছে পর্যটনের দুয়ার। ইতোমধ্যে পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় ধোয়ামোছাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। করোনার কারণে সাড়ে পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর আবার জমে উঠবে দেশের পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো- সেই আশা করা হচ্ছে। পর্যটন নির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতরা ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চান। সরকার চায় স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম মেনেই চলুক পর্যটনকেন্দ্র। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব কেন্দ্র দর্শনার্থীদের জন্য প্রস্তুত। তবে মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানা এখনই খুলছে না। চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. আব্দুল লতীফ বলেন, চিড়িয়াখানা অন্য বিনোদনকেন্দ্রগুলোর মতো নয়। এখানে জীবন্ত প্রাণীর বসবাস। আমরা এখনও পর্যবেক্ষণ করছি। দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার পর কোনো সমস্যা হবে কিনা তা দেখা হচ্ছে। তবে আমরা খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর খুলে দেওয়া হবে। তিনি জানান, চিড়িয়াখানায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মোট দর্শানার্থীর ৫০ শতাংশ প্রবেশ করানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা কঠিন। সকাল থেকে বিকেলে পর্যন্ত দর্শানার্থী আসবে, আমরা কীভাবে ৫০ শতাংশ নির্বাচন করব।

চিড়িয়াখানার মতো একই অবস্থা রাজধানীর বোটানিক্যাল গার্ডেনেরও। বোটানিক্যাল গার্ডেনের পরিচালক হক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, খোলার নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা অধিদপ্তরের কাছে ধারণ ক্ষমতার ৫০ শতাংশ দর্শনার্থী প্রবেশের নিয়ম জানতে চেয়েছি। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের নির্দেশনা পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেব। তবে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আশা করি দু-একদিনের মধ্যে খুলতে পারব।

ঢাকার থিমপার্কগুলোর মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি কিংডম। ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় আধুনিক এই বিনোদনকেন্দ্র দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার দর্শনার্থীদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। সাভার নবীনগরের বারুইপাড়ার নন্দন পার্কও ইতোমধ্যে খোলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। রাজধানীর শিশু-কিশোরদের প্রধান বিনোদনকেন্দ্র ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ডে (সাবেক শিশুমেলা) শেষ মুহূর্তের ধোয়ামোছার কাজ চলছে। ওয়ান্ডারল্যান্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যামিউজমেন্ট পার্কস অ্যান্ড অ্যাট্রাকশন্সের (বাপা) উপদেষ্টা জিএম মুস্তাফিজ বলেন, বিনোদনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা খুশি।

ওয়ান্ডারল্যান্ড গ্রুপের ১১টি পার্ক রয়েছে। আমরা সরকারের সব নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলব। প্রবেশমুখে তাপমাত্রা মাপা ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাদের মাস্ক থাকবে না, তাদের বিনামূল্যে মাস্ক দেওয়া হবে। ১৮ মাস বন্ধ থাকায় আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন আমরা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চাই।

তিনি জানান, দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে বেসরকারি পার্কের সংখ্যা ২৮৬। এসব পার্কে সম্পৃক্ত ৩-৪ লাখ কর্মজীবী। পরোক্ষভাবে আরও অন্তত ১০ গুণ মানুষ পার্কের ওপর নির্ভরশীল। পার্কগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার ধারণ ক্ষমতার ৫০ শতাংশ দর্শনার্থী প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, এটা ঠিক নয়। পার্কগুলো উন্মুক্ত স্থানে এবং অনেক জায়গাজুড়ে করা। 

টেকনাফ-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের মারমেইড বিচ রিসোর্টের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান জানান, তারা কক্ষ ভাড়ায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। তারকা মানের হোটেল সি-গাল, সায়মান বিচ রিসোর্ট, ওশান প্যারাডাইস, কক্স-টুডে, লং বিচসহ বিভিন্ন হোটেলে কক্ষ ভাড়ায় ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে।

সীমিত পরিসরে পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার ঘোষণায় আশা জেগেছে কুয়াকাটার ব্যবসায়ীদের মাঝে। কুয়াকাটায় ১৬০টির মতো আবাসিক হোটেল- মোটেল রয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পর্যটকদের সেবা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সেরে ফেলা হয়েছে। আমরা আশাবাদী, কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।
এদিকে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে গত কয়েকদিন ধরে ভিড় রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই ভিড় করছেন সমুদ্রসৈকত এলাকায়। তবে অনেকেই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার ঘোষণায় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আশায় বুক বাঁধছেন রাঙামাটির পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা। প্রাণ ফিরে পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। 
সিলেটের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো ধুয়েমুছে পরিস্কারের কাজ শেষ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, জীবিকা ও অর্থনীতির কথা চিন্তা করে পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো সরকারের নির্দেশনা মানছে কিনা, স্থানীয় প্রশাসন সেটি শক্তভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কোহিনুর

পর্যটন বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image