• ঢাকা
  • রবিবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৯ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

তাপদাহে দিনে ভ্যাপসা গরম রাতে শীত ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:২০ পিএম
গ্রামীনকুল বিপর্যস্ত ও দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে
ভ্যাপসা গরম রাতে শীত ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ

মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা:  কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম, বরুড়া, লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার সকল পেশার মানুষ কয়েকদিনের আগাম গ্রীষ্মের তাপদাহ ও দিনে ভ্যাপসা গরম আর রাতে শীত পড়ায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। চলমান মহামারী করোনার প্রভাবে মানুষ আতংকের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাইরাস রোগের প্রাদুর্ভাবতো আছেই। চৈত্রের প্রচন্ড খরা ও
ভ্যাপসা গরমে মানুষ শূন্য হয়ে পড়েছে এলাকার অলি-গলি, হাটবাজার ও রাস্তাঘাট।

১ সপ্তাহে তীব্র খরা, গরমের তাপদাহে ৫টি উপজেলার জনজীবন, গ্রামীনকুল বিপর্যস্ত ও দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে। এর ফলে নানান ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে কয়েকহাজার শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধসহ সকল পেশার মানুষ। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় ধুলা-বালুতে বাতাসে বিষাক্ত শিসা ছড়াচ্ছে এবং পুড়ে যাচ্ছে গাছপালা ও আবাদী জমির ফসল।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, টানা ফাল্গুন ও চৈত্রের প্রথম দিন জুড়ে গরমের তীব্রতা এ অঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শত শত শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধ আক্রান্ত হচ্ছে গরমজনিত বিভিন্ন ভাইরাস রোগে। গত কয়েক সপ্তাহে জেলা দক্ষিনাঞ্চলের প্রায় ৩ সহস্রাধিক বিভিন্ন ভাইরাস রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন সরকারী হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে।

ঔষধ দোকানগুলোতে বিভিন্ন ভাইরাস রোগীদের প্রচুর ভীড় বাড়ছে। চলমান করোনাকালে এ অঞ্চলে প্রচন্ড চৈত্রের তাপদাহ ও গরমে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে মানুষ। দিনে প্রচন্ড গরম আর রাতে ঠান্ডা। এ অঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষ, শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধদের পোহাতে হচ্ছে বাড়তি দূর্ভোগ। ভাইরাস রোগ মারাত্মক ভাবে দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় এ অঞ্চলের তাপমাত্রা মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এলাকায় কিছুটা স্বস্থিও চৈতালী বাতাস থাকলেও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ৭০ ভাগ টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। খাল-বিল, পুকুর, নদী এখন পানি শূন্য। মানুষ বাজার থেকে বিশুদ্ধ পানির নামে বিভিন্ন ব্রান্ডের বোতল ও জার কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।

সূত্রগুলো আরও জানায়, স্থানীয় আবহাওয়া অফিস টানা ভ্যাপসা গরমের আগামবার্তা ঘোষনা দেয়ায় চলমান ইরি-বোরো ভরা মৌসুমের শেষ মূহূর্তে প্রাকৃতিক দূর্যোগের আশংকা করলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষা মৌসুম অনেক দেরী হচ্ছে। ফলে চলমান ইরি-বোরোসহ শাকসবজি ও মৎস্য চাষে বর্তমান পানি সংকটে বড় ধরনের দূর্ভোগে পড়েছে কৃষকরা। করোনাকালে এবং চৈত্রের এ গরমের তাপদাহে স্থানীয় খেটে খাওয়া, দিনমজুর ও ছিন্নমূল মানুষের জীবনযাত্রার উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। গত কয়েক মাসে শীত পড়া শত্বেও টানা প্রচন্ড খরতাপ ও ভ্যাপসা গরমে
এলাকায় গরমজনিত বিভিন্ন ভাইরাস রোগ-ব্যাধি বেড়ে গেছে। এসব রোগের আক্রান্ত রোগীরা প্রতিনিয়ত ভীড় করছে ঔষধের দোকানগুলোতে। এসব ভাইরাস রোগে শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধরাই আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। ২/৪ দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত না হলে রোগ-ব্যাধি আরো বাড়বে।

স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানায়, চলমান মহামারী করোনাকালে এবং  কয়েকদিনের টানা গরমে ভাইরাসজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। চৈত্রের তাপদাহ ও দিনে ভ্যাপসা গরমে আর রাতে শীত পড়ায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্ম ও এ্যাজমাসহ বিভিন্ন ভাইরাস রোগীর সংখ্যাই বেশি। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রচুর ঠান্ডা পানি, ঠান্ডাজনিত খাবার, স্যালাইন, শরবত, আখের রস, জুস, আইস ও মৌসুমী ফল-ফলাদি খাওয়ার পরামর্শ দেন তারা। এ তাপদাহ কেবলমাত্র জনজীবনে অস্থিরতা আনছে না বরং মানবদেহের
স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তার উপর দিনে রাতে পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের বিদ্যুৎ ভেলকিবাজিতো আছেই।

এ ব্যাপারে জেলা-উপজেলা স্বাস্থ্যদপ্তরসহ একাধিক দপ্তর কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও তাদের কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আবহাওয়া / পরিবেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image