• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১২ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২৫ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

পীরগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী সাথীর স্বপ্ন


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ০৮ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৩৬ এএম
মেধাবী শিক্ষার্থী সাথীর স্বপ্ন
মেধাবী শিক্ষার্থী সাথী

পীরগঞ্জ প্রতিনিধি, রংপুর: দারিদ্রতাকে জয় করে সমাজে ভাল ভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন পুরনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পীরগঞ্জের পিতৃহীন মেধাবী শিক্ষার্থী সাথী আক্তার । সে এবারে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন সদ্য প্রকাশিত এসএসসি’র ফলাফলে গোল্ডেন এ প্লাস (নম্বর-১০৫৪) পেয়েছে । ওর রোল নং-১৮২৪৭৩, নিবন্ধন-১৮১৭৬১৮৬৬৫, সেশন-২০১৯-২০২০।

সাথীর প্রত্যাশা ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মানব সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার । সংসারের স্বচ্ছলতা এনে দু:খি মায়ের মুখে হাসি ফুটানো । কিন্ত আর্থিক প্রতিবন্ধকতা এ ক্ষেত্রে ওর জন্য বড় বাধা হয়ে দ্াড়িয়েছে । সে জানেনা ওর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পুরন হবে কিনা ?

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের মজনু মিয়া ও মাজেদা বেগমের কনিষ্ট মেয়ে সাথী আক্তার । ওর বয়স যখন ৪ বছর তখন বাবা মারা যান । ওর পরিবারের ২ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সে সবার ছোট । পিতার স্নেহ থেকে ১২ বছর ধরে বঞ্চিত সাথী ওর মা এবং ভাই বোনদের স্নেহেই বড় হয়েছে। ওদের পরিবারের আবাদী জমি বলতে কিছু নেই । রয়েছে মাত্র ৫ শতাংশের বসত ভিটা । একটা টিনের ও একটা বাঁশের বেড়া ঘরেই ওদের বসবাস । বড় বোনটির বিয়ে হয়েছে ।

এক বড় ভাই ঢাকায় গার্মেন্টেস এ চাকুরি করে সামান্য যে বেতন পায় তা দিয়েই চলে ওদের কোন রকমে সংসার । অপর বড় ভাই মাইদুল এবারে পীরগঞ্জ কারিগরি কলেজ থেকে এইচ এসসি পরীক্ষা দিয়েছে । সে পড়ার খরচ চালাইতে মাঝে মধ্যে তাকে অন্যের মজুরীর কাজ করতে হয় । সাথী লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছে টিউশনি করে । সে যে বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছিল, সেই জাহাঙ্গীরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ওর কাছ থেকে কোন বেতন নেয়নি এবং বিনামুল্যে প্রাইভেট পড়িয়েছে ।

বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে সাথীকে এখন ভর্তি হতে হবে কলেজে । ওর স্বপ্ন রংপুর শহরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ, কারমাইকেল কলেজ কিংবা অন্য কোন ভাল মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নের । কিন্তু ওর সে প্রত্যাশা পুরন হবে কি না, সে এ ব্যাপারে সন্দিহান । তার একটাই প্রশ্ন এ সব  কলেজে ভর্তি কিংবা লেখা পড়ার খরচ আসবে কোত্থেকে? ওর যে সে সামথ্য নেই । একই দুঃশ্চিন্তা সাথীর বড় ভাই মাইদুলেরও। মাইদুল কান্না জড়িত কন্ঠে তার প্রতিক্রিয়ায় জানায়, হয়তো বোনটির জন্য আমাকেও লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে গার্মেন্টস এ যেতে হবে। তা না হলে বোনটির স্বপ্ন নিভে যাবে। মাইদুলের এ মন্তব্য সাথীর জন্যও কষ্টের । সাথীও কান্না জড়িত কন্ঠে তার প্রতিক্রিয়ায় জানায়, আমার জন্য ভাইয়ের লেখা পড়া বন্ধ হোক এটা চাইনা । আমার শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় বাধা অর্থনৈতিক দৈন্যতা । কেউ আমার প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়ালে আমার সামনে এগুনো সম্ভব ।

অন্যথায় এখানেই থেমে যেতে হবে । আমার ডাক্তার হওয়ার প্রত্যাশা পুরণ হবে না। তাই মেধাবী শিক্ষার্থী সাথী সহ ওর পরিবারের সদস্যরা সকলের সহযোগীতা কামনা করছে । সাথীর মোবাইল নং-০১৭৪৪-২১২৪৩৩ ।

ঢাকানিউজ২৪.কম / বখতিয়ার রহমান/কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image