• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৪ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ১৮ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

আখাউড়ায় ঋণ দেয়ার দিনে পালালো এনজিও


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৫২ এএম
আখাউড়ায় ঋণ দেওয়ার দিনে পালালো এনজিও
ঋণ না দিয়ে পালালো এনজিও

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি: সদস্য হলে স্বামীর ব্যবসার জন্য কয়েকগুণ ঋণ মিলবে- এমন আশায় গরু বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন তোরা বেগম। সেই আশায় এখন গুড়ে বালি। ঋণ দেওয়া তো দূরের কথা আসল টাকা নিয়ে পালিয়েছে কথিত সেই এনজিও।

শুধু তোরা বেগম নন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার শতাধিক মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে এক এনজিও। ‘গ্রাম উন্নয়ন কেন্দ্র’ নামের ওই এনজিও’র ভাড়া করা কার্যালয়ে সোমবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে তালা ঝুলছে। ঋণ নিতে এসে হতাশ হয়ে ফিরছে টাকা জমা দেওয়া গ্রাহকরা। সোমবার থেকে গ্রাহকদেরকে জমানো টাকার কয়েকগুণ ঋণ দেওয়ার কথা ছিল।

ভুক্তভোগীরা জানায়, ১৫ দিন আগে ‘গ্রাম উন্নয়ন কেন্দ্র’ (গাউক) নামের একটি এনজিও জমানো টাকার কয়েকগুণ ঋণ দেওয়ার কথা বলে কার্যক্রম শুরু করে। কার্যালয়ে এই কয়েকদিনের মধ্যে শতাধিক গ্রাহক করে তারা। একেকজনের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত নেয় তারা। সোমবার ওই টাকার বিপরীতে কয়েকগুণ ঋণ দেওয়া হবে বলে জানায়। তবে সকালে গ্রাহকরা পৌর এলাকার বাইপাসের সামনের কার্যালয়ে এসে সেটি তালাবদ্ধ দেখতে পান।

উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কৃষক শরীফ মিয়ার স্ত্রী শরীফা বেগম জানান, এক লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি স্বামীকে কর্মসংস্থান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সঞ্চয় বাবদ তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। সোমবার ঋণ নিতে এসে কার্যালয়ে তালাবদ্ধ পান। পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা লোকজনের মোবাইল ফোনও বন্ধ পান।

দক্ষিণ ইউনিয়নের বীরচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক সাদেক মিয়া জানান, তারা দুই লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে দুই দিন আগে ২০ হাজার টাকা নেয়। নাদিরা বেগম ও তার পঙ্গু স্বামী কিরণ মিয়া জানায়, ঋণ দেওয়ার কথা বলে তাদের আটজনের কাছ থেকে একটি বইয়ের মাধ্যমে আশি হাজার টাকা নেয়।

এনজিও প্রতিষ্ঠানের ভবনের মালিক দুবাই প্রবাসী আলেক মিয়া। এ বিষয়ে আলেক মিয়ার স্ত্রী সেতু আক্তার জানায়, ৪ ডিসেম্বর তাদের তিন তলার একটি কক্ষ মাসিক ছয় হাজার টাকায় তারা ভাড়া নেয়। আগামী ১ জানুয়ারি ভাড়া পরিশোধ করার কথা। তারা যে এতবড় প্রতারক সেটা তিনি বুঝতে পারেননি।

এনজিওর অফিস সহকারী আখাউড়া পৌর এলাকার দুর্গাপুরের লাবনী আক্তার জানান, মাসিক ১২ হাজার টাকা বেতনে তাকে চাকরি দেওয়া হয়। সোমবার তিনি অফিস করতে এসে দেখেন তালাবদ্ধ। বাইরে অনেকে দাঁড়িয়ে আছে। তিনিও প্রতারণা বিষয়টি বুঝতে পারেননি।

আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এনজিও’র নাম করে এ ধরনের প্রতারণার কথা জেনেছেন বলে জানান। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। 

ঢাকানিউজ২৪.কম / মনিরুজ্জামান মনির/কেএন

সংগঠন সংবাদ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image