• ঢাকা
  • শনিবার, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সামরিক সংলাপ বাতিল করেছেন ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১০:০০ এএম
অকাস চুক্তিতে সই করার পর প্যারিস ক্ষুব্ধ হয়
sub marin franch

নিউজ ডেস্ক:   ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তির জেরে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একটি পূর্বনির্ধারিত সামরিক সংলাপ বাতিল করেছেন ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ তৈরির জন্য অস্ট্রেলিয়া অকাস চুক্তিতে সই করার পর প্যারিস ক্ষুব্ধ হয়। কারণ এই চুক্তির কারণে ফ্রান্সের সঙ্গে একটি বড় ডুবোজাহাজ ক্রয়চুক্তি থেকে ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তির জেরে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একটি পূর্বনির্ধারিত সামরিক সংলাপ বাতিল করেছেন ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী।বেরিয়ে আসে দেশটি। খবর বিবিসির

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ওই চুক্তি নিয়ে ফ্রান্সের চিন্তার কিছু নেই।

কিন্তু এই সপ্তাহে লন্ডনে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেসের সঙ্গে ফ্লোরেন্স পার্লির বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।

ফ্রান্সে থাকা সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লর্ড রিকেটস, যার দুইদিনের ওই আলোচনার সহ-সভাপতি হওয়ার কথা ছিল, তিনি নিশ্চিত করেছেন যে বৈঠকটি 'পরবর্তী তারিখের জন্য স্থগিত করা হয়েছে'।

গত সপ্তাহে সম্পন্ন হওয়া অকাস চুক্তিকে, বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের প্রভাব মোকাবিলার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ চুক্তিটির মাধ্যমে ২০১৬ সালে ফ্রান্সের সঙ্গে করা অস্ট্রেলিয়ার আরও একটি চুক্তি বাতিল হয়ে যায় যার আওতায় ৩৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১২টি প্রচলিত সাবমেরিন তৈরি করার কথা ছিল।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-ইভ লে দ্রিয়াঁ এটিকে 'পিঠে ছুরিকাঘাত' হিসেবে উল্লেখ করে একে 'মিত্র এবং অংশীদারদের মধ্যে অগ্রহণযোগ্য আচরণ' বলে বর্ণনা করেছেন।

মিত্রদের মধ্যে কার্যত অভাবনীয় এমন পদক্ষেপের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ ওয়াশিংটন এবং ক্যানবেরায় থাকা ফরাসি রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহারের আদেশ দেন।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে থাকা বরিস জনসন প্লেনে বসে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, জোট নিয়ে ফ্রান্সের 'চিন্তিত' হওয়ার কিছু নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অ্যাংলো-ফরাসি সম্পর্ক 'দৃঢ়'।

এদিকে, অস্ট্রেলিয়া ফ্রান্সের সঙ্গে তার চুক্তি বাতিল করে অকাস চুক্তির পক্ষে নিজেদের অবস্থানও তুলে ধরেছে।

প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ফ্রান্সের সচেতন হওয়া উচিৎ ছিল যে চুক্তিটি ভঙ্গ হতে পারে।

অকাস চুক্তির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ মালিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটা হলে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সপ্তম দেশ হিসেবে এই ডুবোজাহাজের মালিক হবে। চুক্তির আওতায় মিত্ররা সাইবার সক্ষমতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য গভীর সমুদ্রে ব্যবহৃত অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার এই নতুন উদ্যোগে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়েছে প্যারিস। কারণ তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তাদের পূর্ব-স্বাক্ষরিত বহু কোটি ডলারের একটি সমঝোতার অবসান ঘটেছে।

২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের মধ্যে ৩,৭০০ কোটি ডলার মূল্যের সেই চুক্তি সই হয়েছিল, যার আওতায় অস্ট্রেলিয়ার জন্য ১২টি সাবমেরিন নির্মাণ করার কথা ছিল।

 

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image