• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৯ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

কেন্দ্রীয় কোন সিন্ধান্ত মানছেনা নবীনগর উপজেলা আ.লীগ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৫ জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০১:৩৯ পিএম
সিন্ধান্ত মানছেনা নবীনগর উপজেলা আ.লীগ
নবীনগর উপজেলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: কেন্দ্রীয় কোন দলীয় সিদ্ধান্ত মানছেনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা আ.লীগ। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বিরুদ্ধে নির্বাচন করা আর প্রার্থী হওয়া হওয়া নেতারা এখনও স্ব-পদে বহাল। তারাই আবার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি কার্যক্রমে অংশগ্রহন করে এখন দল পরিচালনা করছেন। তাদের অনুসারিদের দলের বিভিন্ন ইউনিটে পদবি দেওয়ার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান করা নেতাকর্মীরা এখন বিপাকে। আবার অনেকে পদও হারাচ্ছেন।

এই ব্যাপারে জেলা ও উপজেলা আ.লীগের কাছে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। আর বিদ্রোহী পক্ষে কথা বলছেন নবীনগর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ ফয়জুর রহমান বাদল। আর সাধারন সম্পাদক চিকিৎসার জন্য বাহিরে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা যায় বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজী জহির উদ্দিন সিদ্দীকি টিটু পরাজিত হয়েছিলেন। তার অভিযোগ ছিল ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে আ.লীগের দলীয় সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুল সরাসরি তার বিরোধিতা করেন।

পাশপাশি সাংসদ’র অনুসারি খ্যাত ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগ ও ইউনিয়ন আ.লীগের নেতাকর্মীরাও আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজী জহির উদ্দিন সিদ্দীকি টিটুর প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেন। নির্বাচনে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুলের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির জয়ী হয়েছিলেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আ.লীগের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের কোন রকম সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের হাতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা তুলে দেওয়া হয়।

এবার নবীনগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে ইতিমধ্যে কাইতলা উত্তর ব্যতিত ২০টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯টিতে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী, ৮টিতে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, বাকি ৩টি স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তাদের মধ্যে দুই বিএনপি সমর্থক ও বাকি একজন ইসলামী ঐক্যজোট।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা না পেয়ে বিদ্রোহী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে। যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছেন তারা হলেন বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আ.লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এটিএম মোস্তাফিজুর রহমান নান্নু মাস্টার, কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি জিল্লুর রহমান, বীরগাঁও ইউনিয়নে উপজেলা আ.লীগের সদস্য কবির আহম্মেদ, নবীনগর পূর্ব ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মো. শামসুল হক, নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নে পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুর আলম (নুর আজ্জম), রতনপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মারুফ, রসুল্লাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি খন্দকার মনির হোসেন, লাউর ফহেতপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, জিনদপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সদস্য রবিউল ইসলাম রবি, নবীনগর উপজেলা আ.লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হক, সলিমগঞ্জ ইউনিয়নে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশিকুর রহমান সোহেল, শ্যামগ্রাম ইউনিয়নে কৃষকলীগ নেতা শাহজাহান সিরাজ, শ্রীরামপুরে আ.লীগের সদস্য কাজী জাকি উদ্দিন জাকির, নাটঘর ইউনিয়নে আক্তারুজ্জামান, বিটঘর ইউনিয়নে ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি হাজী আবুল হোসেন ও সাবেক ছাত্র লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া ও কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নে সৈয়দ আবু সালেহ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে। তাদের মধ্যে বীরগাঁও ইউনিয়নে উপজেলা আ.লীগের সদস্য কবির আহম্মেদ দলীয় মনোনয়ন চাননি। তিনি স্বতন্ত্র হিসাবে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নে নুর আলম (নুরআজ্জম), রতনপুর ইউনিয়নে গোলাম মোস্তফা মারুফ, রসুল্লাবাদ ইউনিয়নে খন্দকার মনির হোসেন, লাউর ফহেতপুর ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর আলম, জিনদপুর ইউনিয়নে রবিউল ইসলাম রবি, সলিমগঞ্জ ইউনিয়নে আশিকুর রহমান সোহেল, শ্রীরামপুর ইউনিয়নে কাজী জাকি উদ্দিন জাকির ও নাটঘর ইউনিয়নে মো. আক্তারুজ্জামান জয়ী হয়েছেন।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নবীনগর উপজেলা ব্যতিত বাকি উপজেলা গুলো থেকে দলীয় সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ার দায়ে বহিস্কার করা করার জন্য জেলা আ.লীগ বরাবর সুপারিশ করা হলেও নবীনগর উপজেলা আ.লীগ কোন সুপারিশ করেনি। বরং দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে নির্বাচন করা বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখনও আ.লীগের স্ব-পদে বহাল রয়েছেন। পাশপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমও পরিচালনা করছেন। ফলে অনেক ইউনিয়নে নৌকা বিদ্রোহী আ.লীগ নেতা এখনও স্ব-পদে বহাল। ধরে রেখেছেন দলীয় পদ। ইউপি নির্বাচনের সময় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় আ.লীগ নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল নির্বাচন শেষ হলে তিনি দেখবেন, এমন একাধিক অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।

ফলে নৌকা পরাজিত হওয়ার পর আ.লীগ প্রার্থীর নির্বাচন করে বিপাকে স্থানীয় আ.লীগের নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আ.লীগ নেতাকর্মী জানান নৌকা ডুবিয়ে এখনও স্ব-পদে বহাল। ফলে আমরা যারা নৌকার নির্বাচন করেছিলাম খুবই বিপাকে আছি। এখন তারা তাদের পছন্দের লোক দিয়ে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি করার চেষ্টা করছে। এই সময় আ.লীগের নেতাকর্মীরা তাদের দ্রুত এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া দাবি জানান। রসুল্লাবাদ ইউনিয়নে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন আলী আকবর। তিনি জানান কেন্দ্রীয় নির্দেশ থাকার পরও বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিস্কার কিংবা কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি নৌকা ডুবিয়ে এখনও স্ব-পদে বহাল।

চলতি বছরের ২০ মার্চ  ঢাকায় বসে উপজেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক সম্পাদক এমএ হালিম আহবায়ক করে সম্মেলন ৯ সদ্যস’র সম্মেলন প্রস্ততি গঠন করে নবীনগর উপজেলা আ.লীগ। আর এই উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন প্রস্ততি প্রত্যাখান করে একাংশ। তারা ২৯ মার্চ নবীনগরে ব্যাপক শোডাউন করে নবীনগর উপজেলা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খানকে আহবায়ক করে ৩৩ সদস্য পাল্টা সম্মেলন প্রস্ততি কমিটি গঠন করা হয়। ফলে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে নবীনগর উপজেলা আ.লীগ। নবীনগর উপজেলা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, আসন্ন সম্মেলনে যেন প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ত্যাগী নেতাদের মূল দলে রাখা হয়, আমরা এবার সে জন্যই মাঠে নেমেছি।

নবীনগর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ ফয়জুর রহমান বাদল মুঠোফোনে জানালেন তারা বহিস্কারের কোন সুপারিশ করেনি, সবাইকে নিয়েই দল করতে হবে। তিনি আরও জানান সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এখানে সবার প্রয়োজন হবে। তবে তিনি নবীনগর উপজেলা আ.লীগের কোন গ্রুপিং নাই বলে তিনি দাবি করেন।

এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নবীনগর উপজেলা আ.লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবদুল হান্নান রতন মুঠোফোনে জানান আগামি ৮ জুন ঢাকায় একটি সভা আছে, সেখানে আলোচনা করা হবে। পাশপাশি যে সকল ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখনও আ.লীগের সাংগনিক দায়িত্বে আছে, তাদের ব্যাপারে জেলা আ.লীগ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ নবীনগর উপজেলার দায়িত্বে সাংগঠনিক টিমকে তাদের ব্যাপারে অবগত করার জন্য বলেন তিনি।

ঢাকানিউজ২৪.কম / রুবেল আহমেদ/কেএন

রাজনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image