• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

কেরানীগঞ্জে মৃত্যুর ৩ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন, পরিবারের দাবী হত্যা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৪০ পিএম
মৃত্যুর ৩ মাস পর
কবর থেকে লাশ উত্তোলন

মো.এরশাদ হোসেন, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার কেরানীগঞ্জে আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর ৩ মাস ১২ দিন পর কবর থেকে সানজু(৩২) নামে এক যুবকের লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশ। ১৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) বেলা ১২ টায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ কবরস্থান থেকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কে এম রফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহত সানজু হাসনাবাদ এলাকার বেপারী বাড়ির শাহজাহান বাদশার ছেলে । সে বিদেশ থেকে লেখা পড়া শেষ করে বাবার ব্যবসার দেখাশুনা করতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে রাত অনুমানিক ১ টার সময় টিকাটুলী পেট্রোল পাম্প হইতে সায়েদাবাদ যাওয়ার সময় ওয়ারী থানাধীন চিটুমী র‍্যাব -৩ কার্যালয়ের পূর্ব পাশে ফ্লাইওভারের নিচে তার বাইকের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পাশের ফুটপাতের বিটের সাথে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মাথায় গুরুতর জখম প্রাপ্ত হয় যার ফলে সাজনুর নাক রক্তক্ষরনের ফলে মৃত্যু হয়।

তবে মামলার বাদী ও নিহতের বাবার শাহজাহান বাদশা জানান, গত ৬ জুন সন্ধ্যা সংবাদ পাই যে, আমার সন্তান আবির হোসেন সানজু ওয়ারী পেট্রোল পাম্প-সায়েদাবাদ যাওয়া পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। পরে তাৎক্ষণিক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা হাসপাতালের মর্গে সন্তানকে সনাক্ত করি। বাদশার অভিযোগ বিবাদীর যোগসাজশে হাসপাতালে পোষ্ট মর্টেম নির্ণয় ছাড়াই কেন ছেলের কবরে দাফন দিল। তিনি আরও জানান যে, প্রথমে তিনি ভাই-ভাতিজাদের কথা শুনে এটিকে বাইক দূর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ভেবেই নিজেরা ছেলেকে কবরস্থ করেন। পরে তাদের কথাবার্তায় ও মৃত্যুর আলামত দেখে তার বুঝতে বাকি থাকেনা যে এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড । সম্পত্তির অবৈধভাবে গ্রাস ও ভোগ দখল করার জন্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার এক মাত্র ছেলে সন্তান কে হত্যা করা হয়েছে। আমাকে ওয়ারিশ শূন্য করার জন্য ওয়াসিম, টুটুল, শামসুজ্জামান, মিজানুর রহমান, হামিদা বেগম ও রিয়াদ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার সন্তান কে হত্যা করেছে। পরে ওয়ারী থানা মামলা না নিলে আদালতে মামলা করেন বলে জানান তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (সিআইডি ঢাকা মেট্রোপলিটন পূর্ব) বেলায়ত হোসেনের জানান, শাহজাহান বাদশা তার ছেলে আবির হোসেনকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করার অভিযোগ এনে গত ৩০ আগস্ট আদালতে দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি সিএমএম আদালতে রুজু করলে, আদালত কবর থেকে লাশ তোলার নির্দেশ দেন। তদন্তের স্বার্থে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মেডিকেল অফিসার কে নির্দেশ অনুযায়ী আজ তাদের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ তুলে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কেএম রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মৃত্যুর সময় থানায় কোন কিছুই জানানো হয়নি। তারা কবরস্থ করেছে। নিহতের নিহতের বাবার মামলা করা সেই মামলার প্রেক্ষিতে ৩ মাস ১২ দিন পর আদালতের নির্দেশে লাশ ফরেনসি করার জন্য উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে এটা হত্যা না বাইক দূর্ঘটনা সেটা আদালত নির্নয় করবে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image