• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২০ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

প্রস্তাবিত নির্বাচন কমিশন আইন,সান্ত্বনা পুরস্কার: রব


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৪৬ পিএম
'সার্চ কমিটির' আইনগত বৈধতা দেওয়া ছাড়া
a s m a rob

নিউজ ডেস্ক:  নির্বাচন কমিশন গঠন প্রশ্নে সরকারের প্রস্তাবিত আইনকে ছেলেভুলানো 'সান্ত্বনা পুরস্কার' হিসেবে আখ্যায়িত করে জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলিত হয় এমন নির্বাচন কমিশন গঠনে নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে জেএসডি সভাপতি  আ স ম আবদুর রব নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেন।

নির্বাচন কমিশন গঠন প্রশ্নে প্রস্তাবিত আইন অতীতের নীলনকশার 'সার্চ কমিটির' আইনগত বৈধতা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। এ আইনে জনস্বার্থে বা গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা পূরণের  নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে না। ধ্বংসপ্রাপ্ত নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য একটি শক্তিশালী দক্ষ, সৎ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের অনিবার্যতা প্রস্তাবিত আইনে প্রতিফলিত হয়নি। আইনটি হতে হবে জনস্বার্থে, সরকারের আজ্ঞাবাহী প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে নয়।

সৎ, দক্ষ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা ভিত্তিক নির্বাচন কমিশন গঠনে সুজন-এর পক্ষ থেকে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন ২০২১’ এর প্রস্তাবনায় কমিশন গঠনে প্যানেল তৈরীর লক্ষ্যে যাচাই-বাছাই, গণবিজ্ঞপ্তি এবং 'গণশুনানির' যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল তার কোনটাই সরকার বিবেচনায় নেয়নি।

সংবিধানের ৭ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অর্থাৎ সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে, কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে-তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ওই ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।

দেশের  ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সংবিধান লংঘন এবং গুরুতর অসদাচরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করার পরও  'সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল' গঠন করে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। যা ভবিষ্যতে সংবিধান লঙ্ঘণকে উৎসাহ যোগাবে।

নির্বাচন বিহীন অপসংস্কৃতির মাধ্যমে জাতির মননের যে হীনমন্যতার চাষ করা হচ্ছে তা থেকে উত্তরণে আইনের শাসন ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা খুবই প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে-

(১) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করা।

(২) সংবিধান লংঘন, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সংবিধানের১১৮(৫) মোতাবেক  আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

(৩) বিদ্যমান সঙ্কট নিরসনে নিরপেক্ষ নির্বাচন, সংবিধান সংস্কার, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকারের নিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে 'জাতীয় সরকার' গঠন করা।

গত প্রায় এক যুগে প্রশাসন, পুলিশবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহেকে যেভাবে দলীয়করণ করে ধ্বংস করা হয়েছে তাতে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে কোন নির্বাচন কমিশনের পক্ষেই নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব  নয়।

তাই এখনই নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার ও নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা অর্থাৎ জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্যমত্য স্থাপন করতে হবে, নতুবা রাষ্ট্র ক্রমাগতভাবে সংকটগ্রস্থ হতে থাকবে, যা কারো কাম্য হওয়া উচিত নয়।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

রাজনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image