• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৮ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

টেকনাফ সীমান্তে থামছেনা ভারী গোলার বিকট শব্দ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৭ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৫১ এএম
থামছেনা ভারী গোলার বিকট শব্দ
টেকনাফ সীমান্ত

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে মর্টার শেল ও ভারী গোলার বিকট শব্দেয় কাপঁছে কক্সবাজারে টেকনাফ সীমান্ত। ওপারে আকাশপথে যুদ্ধ বিমানের হামলায় বিকট শব্দে এপারে সীমান্তের বসবাসকারীরা ভয়-ভীতির মধ্য রয়েছে।
 
শনিবার ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার তিনটি পয়েন্টে মিয়ানমারের মর্টারশেল-ভারী গোলার বিকট শব্দ পান সীমান্তের মানুষ। এতে সীমান্তের মানুষের শঙ্কা, নতুন করে রোহিঙ্গার পাশাপাশি সেদেশের বিজিপির আরও সদস্য এপারে অনুপ্রবেশ ঘটলে পারে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সেন্টমার্টিনে অনুপ্রবেশন করা মিয়ানমারের ২ বিজিপিসহ ৩১ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়। 
 
সরেজমিন দেখা গেছে, টেকনাফ শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে সীমান্ত সড়কের পূর্বে নাফ নদের পাড়ে জালিয়াপাড়া। সেখানে এখনও শখানেক পরিবারের পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস। ওপারে সেদেশে স্পীড বোটের টহল দেখা গেছে। 

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা নাফ নদের তীরে দাঁড়িয়ে সম্প্রতি আঙুল তুলে  গোলার বিকট শব্দ ভেসে আসার জায়গা দেখানোর চেষ্টা করছিলেন  শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তের বাসিন্দা জেলে নুর হোসেন (৫৫)।
তিনি বলেন, 'মিয়ানমারের সীমান্ত ঘেঁষা নাফনাদে জীবনের অর্ধের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এ নাফনদ আমাদের জীবন সঙ্গী।  নাফের ওপারে মিয়ানমারে গত ছয়-সাত মাস ধরে যুদ্ধ চলছে সেদেশে। যার ফলে আমাদের জীবনে আতঙ্ক নেমে এসেছে। এখন গোলার বিকট শব্দ সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় যুদ্ধ বিমানের হামলাও চোখে পরে। আজকেও চোখে পরেছে যুদ্ধ বিমানের হামলা।' 

নাফের তীরে শাহপরীর জেটি ঘাটে দোকানি আবু তালে বলেন, 'দীর্ঘ দিন পর সেন্টমার্টিন থেকে স্পীড বোটে লোকজন পারাপার করেছে। কিন্তু আজকেও জেটির ওপারে ব্যাপক গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ফলে নাফের তীরে প্রতিদিন গুলির শব্দে সীমান্তের বসবাসকারী মানুষের আতঙ্কের দিন পার করতে হচ্ছে।  মাঝে মধ্য এমন বিকট শব্দ পাওয়া আমাদের ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে।' 

সীমান্তের বসবাসকারীরা বলছেন, ‘রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ তীব্রতা বাড়ছে। সেদেশের মংডুর পাশাপাশি বুথেডংয়েও যুদ্ধ চলমান রয়েছে। এই দুই রাজ্যে অনেকে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে জান্ত সরকার। যার কারনে দুপক্ষের মধ্য মর্টার শেল ও ভারী গোলার বিকট শব্দেয় কাপঁছে কক্সবাজারে টেকনাফ সীমান্ত। অনেকে সময় সেদেশে আকাশপথে হেলিকপ্তার নিয়ে হামলার দৃশ্য চোখে পড়েছে। যার ফলে এপারে সীমান্তের বাসিন্দারা আতঙ্কেও মধ্য রয়েছে।

সীমান্তের বাসিন্দা জলিল মিয়া বলেন, বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, ‘'সীমান্তের ওপার থেকে ফের গোলার শব্দ পাওয়া গেছে। এভাবে আর কতদিন চলবে এই যুদ্ধ খেলা? আমরা সীমান্তের লোকজন অনেক ভয়ের মধ্য থাকতে হয়।

সীমান্তের গোলার বিকট শব্দ থামনি উল্লেখ করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, ‘আজও (শনিবার) সকাল থেকে গোলার শব্দ পাওয়া গেছে। বিকেল পর্যন্ত সীমান্তের মানুষ গোলার বিকট শব্দ পেয়েছেন।’

এদিকে, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ চলছে। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং থেকে শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার নাফনদীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরা দিনরাত নাফনদী ও সীমান্ত সড়কে টহল বৃদ্ধি করেছে। সেটি চলমান এবং যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সব সময় প্রস্তুত সীমান্তরক্ষী বিজিবি ও কোস্টগার্ড।

সীমান্তে বিজিবি সর্তক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (বিজিবি-২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘নতুন করে সীমান্ত দিয়ে যাতে কোন অনুপ্রবেশের ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমাদের টহল জোরদার আছে।’

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী বলেন, 'সীমান্তে বাসিন্দারা আজকেও ওপার থেকে গোলার বিকট শব্দ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে আমাদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সদস্যরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত আছেন।’

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image