• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২০ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৪২ পিএম
শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের চতুর্থ দিন চলছে
অনশনের চতুর্থ দিন চলছে

ডেস্ক রিপোর্টার: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যাচ্ছে । অনশনরত ২৪ জনের মধ্যে এরইমধ্যে ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। তাদের তিনজনের অবস্থা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু না খেলে বড় বিপদের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।

সংকট নিরসনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় পৌঁছেছে।

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের চতুর্থ দিন চলছে। একদিকে তীব্র ঠান্ডা অন্য দিকে না খেয়ে থাকা। সব মিলিয়ে শারীরিক অবস্থা অবনতি হচ্ছে অনশনকারীদের।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা অনশনকারীদের কারও কারও অবস্থা জটিল হয়ে পড়ছে তাতে যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাজমুল হাসান বলেন, মেয়ে যারা ছিলেন তারা প্রত্যেকেই হাসপাতালে ভর্তি। তাদের কোনভাবেই অনশন থেকে ফিরিয়ে আনা বা খাবার গ্রহণ করানো যাচ্ছেনা। হাসপাতালে যাওয়ার পর একটু ভালো বোধ করলে উনারা চাচ্ছেন আবারও আন্দোলনে ফিরে আসতে।

অনশনে অংশ নেওয়া বাকিদের অবস্থাও নাজুক। তবুও দাবিতে অনড় তারা। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, যারা হাসপাতালে আছেন তাদের ক্রমান্বয়ে অবস্থা খারাপ হচ্ছে। তাদের এক-দুইজনের অবস্থা খুবই খারাপ। আরও এক শিক্ষার্থী জানান, একটা ব্যাপারে আমরা সবাই একমত, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে এই ভিসিকে না নামিয়ে আমরা অনশন থেকে উঠব না।

করোনা পরিস্থিতিতে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে না আসার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আলমগীর কবির। তিনি বলেন, এখনও কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে আছেন, তাদের আমরা অনুরোধ করবো করোনার এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি যেন তারা অনুসরণ করে।

শাবিপ্রবি'র উদ্ভুত পরিস্থিতি সমাধানে আলোচনার জন্য ঢাকায় পৌঁছেছেন শিক্ষক সমিতির ৫ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন আন্দোলনকারীরা। এসময় সমস্যা সমাধানে ঢাকায় এসে আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানান ড. দিপু মনি।

প্রথমে প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেও তা থেকে সরে আসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে ক্যাম্পাসে এসে অথবা ভার্চুয়ালি আলোচনার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে গত ১৩ জানুয়ারি রাত থেকে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ওই হলের কয়েক’শ ছাত্রী। সেই আন্দোলনের এক পর্যায়ে জাফরিন আহমেদ পদত্যাগ করেন। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। নতুন দাবি যুক্ত করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

গত ১৬ই জানুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে আইসিটি ভবন থেকে উপাচার্যকে উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই ঘটনার পর অজ্ঞাত কয়েক’শ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। সেই মামলা প্রত্যাহার এবং উপাচার্যের পদত্যাগের নতুন এক দফা দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image